রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতনের কাজ পরিবীক্ষণ দায়

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

নিম্নপদস্থ কর্মকর্তার ঊর্ধ্বতনের কাজ পরিবীক্ষণ দায়

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

সরকারি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে হতাশা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছ। অতিরিক্ত সচিবের কার্যক্রম পরিবীক্ষণের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে নিম্নপদস্থ সিনিয়র সহকারী সচিবকে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়। আর ওই আদেশের ফলে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা স্থায়ী আদেশে বলা হয়েছে- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, আইন শৃঙ্খলা/দুর্যোগ ইত্যাদি পরিস্থিতি পরিবীক্ষণের দায়িত্ব প্রদান করা হলো। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ময়মনসিংহ/সিলেট বিভাগের। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ দায়িত্ব পেয়েছেন খুলনা বিভাগের। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব-১ কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে রংপুর বিভাগের। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রটাকল অফিসার-২ দায়িত্ব পেয়েছেন ঢাকা/রাজশাহী বিভাগের।

সূত্র জানায়, বিভাগীয় কমিশনারের পদটি অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশ অনুযায়ী, অতিরিক্ত সচিবের কাজ পরিবীক্ষণের দায়িত্ব¡ দেয়া হয়েছে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের। এতে প্রশাসন ক্যাডারের সিনিয়র কর্মকর্তারা হতাশা ক্ষুব্ধ। ক্রমাগত বাড়ছে অসন্তোষ।

তাদের অভিযোগ- এভাবে চলতে থাকলে কখন যে কোন জুনিয়রের অধীনে চাকরি করতে হবে তা বোঝা যাচ্ছে না। সেটি কর্মকর্তাদের জন্য বিব্রতকর। তা জুনিয়র কর্মকর্তার কাছেও যেমন বিব্রতকর, তেমনি বিব্রতকর সিনিয়র কর্মকর্তাদের কাছেও। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে যে আদেশ জারি করা হয়েছে তার অনুলিপি দেয়া হয়েছে বিভিন্ন সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সকল মহাপরিচালক, সকল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসককে। ওই আদেশ পেয়ে ক্ষুব্ধ অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার অভিযোগ- দেশকে এগিয়ে নিতে গঠনমূলক অনেক কাজ রয়েছে। কিন্তু তা না করে যা করা হয়েছে তা শুধুমাত্র লাক দেখানো একটি উদ্যোগ।

সূত্র আরো জানায়, প্রধানমন্ত্রী এডিপি শতভাগ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকলকে নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু তার অগ্রগতি কী কারণে হচ্ছে না তা কেউ ভেবে দেখছেন না। শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নে স্থাপত্য অধিদফতর বিশাল গুরুত্ব রয়েছে। কিন্তু সকল মন্ত্রণালয়কে একটি অধিদফতরের ওপর নির্ভর করতে হয়। কারণ যাবতীয় নক্সা তারাই অনুমোদন করে থাকে।

কিন্তু জনবল সঙ্কটের কারণে রাত-দিন পরিশ্রম করেও তারা যথাসময় নক্সা তৈরি করে তা অনুমোদন করে দিতে পারছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি নক্সা অনুমোদন করতে কমপক্ষে দু’বছর সময় লেগে যাচ্ছে। আর নক্সা পেতে বিলম্ব হওয়ায় এডিপি বাস্তবায়নেও বিলম্ব হচ্ছে। তাছাড়া ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে নানা জটিলতা তৈরি হচ্ছে। ই জটিলতা মিটিয়ে জমি অধিগ্রহণ বিলম্ব হচ্ছে। তাতেও এডিপি বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে। কিন্তু খাসজমি সরকারের দখলে আনার উদ্যোগ নিলে তা আনা সম্ভব। সক্ষেত্র জটিলতা কিছু কমে আসে।

এডিপি বাস্তবায়নে ধীরগতি ও প্রধানমন্ত্রী দফতরের সাম্প্রতিক আদেশ প্রসঙ্গ নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক প্রশাসনের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, এডিপি বাস্তবায়নের হার নির্ধারণ করা হয় প্রকল্পে টাকা খরচের ওপর। কোন প্রকল্পে কতো টাকা খরচ হলো সেটি বিবেচ্য ধরে প্রকল্পের অগ্রগতি নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাস্তবে প্রকল্পে কতোটা কাজ হলো এবং তা কতোটা জনকল্যাণ বা সরকারের উদ্দেশ্য পূরণ হলো সেটা দেখা হয় না। যারা দেশের জন্য কাজ করতে চান সেসব কর্মকর্তারা ই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে দেখভাল করলে যেমন দেশের উন্নতি হয়। তাতে প্রধানমন্ত্রীর ওপর থেকেও কিছুটা চাপ কমে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩