সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

নির্ধারণ হচ্ছে নারী-পুরুষের গোপনাঙ্গের সংজ্ঞা

নিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

নির্ধারণ হচ্ছে নারী-পুরুষের গোপনাঙ্গের সংজ্ঞা

নারী ও পুরুষের গোপনাঙ্গের সংজ্ঞা নির্ধারণ করার পাশাপাশি সংজ্ঞা অনুযায়ী গোপনাঙ্গের কতটুকু অংশের ছবি ও ভিডিও গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে তা-ও নির্ধারণ করেছে সরকার।

সরকারে তৈরি করা ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন-২০১৬’ নামে একটি নতুন আইনের খসড়ায় উঠে এসেছে এসব বিষয়। শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে কঠোর বিধানের কথাও বলা হয়েছে খসড়া এই আইনে। 

গোপনাঙ্গের সংজ্ঞা নির্ধারণে আইনের খসড়াটি এরই মধ্যে অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পেশ করেছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ। আইনটির বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর মতামতও নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের ১৭ নম্বর ধারার ৪ (গ) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘গোপনীয় অঙ্গ অর্থ নগ্ন বা অন্তর্বাস পরিহিত যৌনাঙ্গ, যৌনাঙ্গের আশপাশ, নিতম্ব বা মহিলার স্তন।’

‘গোপনীয়তা লঙ্ঘনের পরিস্থির ক্ষেত্র’ বলতে ১৭ নম্বর ধারার ৪(ঘ) উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতে কোনো ব্যক্তির যুক্তিসঙ্গত প্রত্যাশা থাকিতে পারে যে-(অ) কোনো ব্যক্তি গোপনীয়ভাবে অনাবৃত হইতে পারেন, এমতাবস্থায় তাহার ব্যক্তিগত এলাকায় তাহার নজর এড়িয়ে চিত্রবন্দী করা হইয়াছিল। অথবা (আ) সরকারি বা ব্যক্তিগত জায়গা নির্বিশেষে কোনো ব্যক্তি তাহার ব্যক্তিগত এলাকার এমন কোনো অংশে ছিল যাহা জনসাধারণের নিকট দৃশ্যমান হইবে না।’

আইনে গোপনীয় ছবি প্রেরণের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘ইলেকট্রনিক উপায়ে কোনো দৃশ্যমান ছবি প্রদর্শিত করিবার অভিপ্রায়ে কোনো ব্যক্তি বা ব্যক্তিসমূহের নিকট প্রেরণ করা।’

 ‘দৃশ্য ধারণ’ বিষয়ে আইনে বলা হয়েছে, ‘যেকোনো উপায়ে ভিডিও টেপ, আলোকচিত্র, ফিল্ম বা রেকর্ড করা।’

আইনে অপরাধ ও সাজা
প্রস্তাবিত আইনের ১৭ নম্বর ধারার ১ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি অসৎ উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বা জ্ঞাতসারে অন্য কোনো ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তাহার ব্যক্তিগত ছবি তোলে এবং প্রকাশ করে বা প্রেরণ করে বা বিকৃত করে বা ধারণ করে তাহা হইলে এমন কার্য ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে অপরাধ হইবে।’

আইনের একই ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি যদি এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধি বা প্রবিধানের কোনো বিধানের অধীন কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ড, বই, রেজিস্টার, পত্র যোগাযোগ, তথ্য, দলিল বা অন্য কোনো বিষয়বস্তুতে প্রবেশাধিকারপ্রাপ্ত হইয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মতি ব্যতিরেকে, কোনো ইলেকট্রনিক রেকর্ড, বই, রেজিস্টার, পত্র যোগাযোগ, তথ্য, দলিল বা অন্য কোনো বিষয়বস্তু অন্য কোনো ব্যক্তির নিকট প্রকাশ করেন, তাহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।’

উল্লিখিত ধারার ১ নম্বর উপধারায় বর্ণিত অপরাধের জন্য সাজা নির্ধারণ করে বলা হয়েছে, ‘উপধারা ১-এর অধীনে কোনো অপরাধ করিলে তিনি অনধিক পাঁচ বছর কারাদণ্ডে বা অনধিক ১০ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

উপধারা ২-এ দণ্ডের বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘এই ধারার অধীনে কোনো ব্যক্তি কোনো অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দুই বৎসর কারাদণ্ডে, বা অনধিক দুই লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’

পর্নোগ্রাফি ও শিশু পর্নোগ্রাফির দণ্ড
পর্নোগ্রাফি ও শিশু পর্নোগ্রাফি রোধে প্রস্তাবিত আইনের ১৮ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা ডিজিটাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল উপাদান উৎপাদন বা প্রকাশ করলে কিংবা সংরক্ষণ করলে অথবা এ ধরনের বিজ্ঞাপন প্রকাশ করলে, বিজ্ঞাপনদাতা কর্তৃক পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল উপাদানসমূহ বিতরণ বা প্রদর্শন করলে এই আইন লঙ্ঘন হবে। এর দায়ে কোনো ব্যক্তির এক বছর কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

১৮ ধারার ২ নম্বর উপধারায় বলা হয়েছে, কোনো কম্পিউটার, কম্পিউটার সিস্টেম বা কম্পিউটার নেটওয়ার্ক বা কোনো ডিজিটাল নেটওয়ার্ক বা ডিজিটাল ডিভাইস, ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে শিশু পর্নোগ্রাফি বা শিশু সম্বন্ধীয় অশ্লীল উপাদান উৎপাদন বা প্রকাশ বা সংরক্ষণ বা বিতরণ বা প্রদর্শন করলে বা এগুলোতে শিশু পর্নোগ্রাফি বা এ ধরনের অশ্লীল উপাদান প্রবেশ করলে আইন অনুযায়ী অপরাধ হবে। সে অপরাধে কোনো ব্যক্তির ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ড হতে পারে।

আইনে এসব অপরাধের বিচার বিদ্যমান সাইবার ক্রাইম ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির কথা বলা হয়েছে। অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের পর থেকে ১৮০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বিধান রাখা হয়েছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩