মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার ০৯:১৪ পিএম

নির্বাচন ঘিরে সংঘাতের আশঙ্কা বাড়ছে

ঢাকা : জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজধানীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা তত বাড়ছে। এ মুহূর্তে সরকার ও বিরোধী জোট মুখোমুখি অবস্থানে। আগামীদিনগুলোয় এ অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন না হলে রাজনীতিতে সংঘাত অনিবার্য হয়ে পড়বে।

রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে মাথাচাড়া দিতে পারে সন্ত্রাসীরা, জঙ্গিরাও তৎপর হয়ে উঠতে পারে, সরকারবিরোধী জোটের উগ্রপন্থি রাজনীতিকদের মদতে নাশকতা ও চোরাগোপ্তা হামলা হতে পারে। সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে দেশ অস্থিতিশীল হয়ে ওঠা বাংলাদেশে একটা ট্রাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকার পতনের আগে দেশে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল। ওই সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন ঠেকাতে তৎকালীন স্বৈরশাসক এরশাদ সরকার পুলিশ বাহিনী দিয়ে বিরোধীদের ওপর দমন-পীড়ন চালায়। ১৯৯৬ সালে বিএনপি সরকারের ১৫ ফেব্রুয়ারি একতরফা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়।
এরপর ২০০০ সালেও একই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। ২০০৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগ মাঠে নামলে বিএনপি সরকারের সঙ্গে সংঘাত-সংঘর্ষ, সহিংসতা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। এ অবস্থায় সেনাবাহিনী সমর্থিত সরকার ক্ষমতা নেয়। এরপর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন বিএনপি জোট বর্জন করে প্রতিহত করার ঘোষণা দেয়।

নির্দলীয় ও নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে জামায়াত-বিএনপি ২০১৩ সালেই মাঠে নামে। কিন্তু তারা টিকতে না পেরে চোরাগোপ্তা হামলা চালিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায়। ২০১৩ ও ২০১৪ সালে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যুক্ত হয় পেট্রোলবোমা নামের আগুন সন্ত্রাস। এ সময়ে হাতবোমা ও পেট্রোলবোমা হামলার শিকার হয়ে শতাধিক মানুষ প্রাণ হারায়। নতুন এই সন্ত্রাসে পুলিশের ১৭ জন সদস্য নিহত এবং আহত হয় শতাধিক।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরে হওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু রাজনীতির আকাশ থেকে এখনো কালোমেঘ সরে যায়নি। সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের কথা বললেও বিরোধী শিবির কোনোভাবেই মানতে নারাজ যে, সরকার ক্ষমতায় থেকে নির্বাচন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে। আবার বিএনপি খালেদা জিয়ার মুক্তি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও নেতাকর্মীদের মামলা প্রত্যাহারসহ ৫ দফা দাবিতে অনড়। সরকার তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা না করেই নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে। এ অবস্থায় নভেম্বরের শুরু থেকে এসব সঙ্কট নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে রাজনীতির মাঠ।

রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ কাজে লাগাতে জঙ্গিরা গোপনে তৎপরতা চালাচ্ছে বলে ইতোমধ্যে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে প্রতিবেদন দাখিল করেছে। হলি আর্টিজানে হামলার পর পুলিশের অব্যাহত অভিযানে কোণঠাসা হয়ে পড়া জঙ্গিরা মোক্ষম সুযোগ কাজে লাগানোর প্রাণপণ চেষ্টা চালাবে। ইতোমধ্যে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের নাশকতা চালানোর ব্যাপারে তারা নিজেদের মধ্যে চিঠি চালাচালি করেছে। এমন একটি চিঠি সম্প্রতি গোয়েন্দাদের হাতে পৌঁছেছে।

এ ছাড়া জামায়াত ও বিএনপির উগ্রপন্থি নেতারা সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক যুদ্ধে টিকতে না পেরে নাশকতা বা চোরাগোপ্তা হামলার দিকেও ঝুঁকতে পারে। এসব ব্যাপারেও সতর্ক পুলিশ। সবকিছুই নখদর্পণে আছে পুলিশ-র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তারা উগ্র রাজনৈতিক নেতৃত্বের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে।

জঙ্গি অর্থায়নকারীদের ব্যাংক হিসাব থেকে শুরু করে তাদের দৈনন্দিন সূচির তালিকা গোয়েন্দাদের নখদর্পণে। জঙ্গিদের সক্ষমতা কতটুকু, তারা কোথায়, কখন, কোন ধরনের হামলা চালাতে পারে, সেসব বিষয়েও পুলিশ-র্যাব সোর্সের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করছে। সব মিলিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে সতর্কাবস্থায়। এসব বিষয়ে ইতোমধ্যে পুলিশ সদর দফতর থেকে একাধিকবার দেশের ৬৪ জেলা পুলিশ সুপারকে সতর্ক বার্তা পাঠানো হয়েছে। সেসব বার্তায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সদর দফতরের প্রশাসন অ্যান্ড স্পেশাল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) হাবিবুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা পুলিশের দায়িত্ব। কেউ যদি নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিঘ্ন ঘটায়, যদি আন্দোলনের নামে নাশকতামূলক তৎপরতায় লিপ্ত হয় তাহলে পুলিশ বসে থাকবে না। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সোনালীনিউজ/এমটিআই