বুধবার, ২০ জুন, ২০১৮, ৬ আষাঢ় ১৪২৫

নড়াইলে জমজমাট ঈদ বাজার

ফরহাদ খান, নড়াইল | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ জুন ২০১৮, বুধবার ০৪:১০ পিএম

নড়াইলে জমজমাট ঈদ বাজার

নড়াইল : ঈদ মানে আনন্দ, ঈদের আগে নতুন পোশাক কেনার আনন্দ। তাই তো ফুটপাত থেকে শুরু করে বিপণী বিতানগুলোতে চলছে জমজমাট বেচাকেনা। ভিড় রয়েছে ফুটপাতের দোকানগুলোতেও। নতুন পোশাকের পাশাপাশি জুতা-স্যান্ডেল, সাজ-সজ্জার প্রসাধনী, আতরসহ পারফিউম বেচাকেনাও চলছে। সেলুন ও বিউটি পার্লারগুলোতেও ভিড় শুরু হয়েছে। তাই সকাল থেকে রাত অবধি নড়াইলের বিভিন্ন বিপণীবিতানগুলোতে ছুটছেন ক্রেতারা। উপচেপড়া ভিড় সর্বত্রই।

এদিকে নড়াইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম বলেন, আমরা ঈদ মার্কেটকেন্দ্রীক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেছি। নির্বিঘ্নে টাকা লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোর ম্যানেজারদের সঙ্গে কথা বলেছি। বড় অংকের টাকার ক্ষেত্রে গ্রাহকেরা পুলিশের সহযোগিতা নিতে পারেন। বিশেষ করে ঈদকে কেন্দ্র করে যারা বাড়িতে আসবেন, সেক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনো অবনতি না হয়; সে লক্ষ্যে গ্রাম ও শহরে ঈদের দিন এবং পরবর্তী সময়গুলো আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি। সাদা পোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সিনিয়র অফিসারদের নের্তৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কাজ করছে।

ঈদ বাজার ঘুরে দেখা যায়, শিশু-কিশোর, তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষের বাহারি রকমের পোশাক ছাড়াও রয়েছে পাঞ্জাবি ও শাড়ির চাহিদা। পাশাপাশি নতুন টেলিভিশন ও ফ্রিজ বেচাকেনাও জমে উঠেছে। ভালো বেচাকেনায় খুশি দোকানিরা। জেলা শহরের রূপগঞ্জ বাজারের বৈশাখী ফ্যাশানের স্বত্ত্বাধিকারী প্রকাশ কুন্ডু জানান, জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, পাঞ্জাবি, থ্রি-পিস, লং ও সর্টস্কাট ও স্ক্রিন ফ্রগসহ লেহাঙ্গার চাহিদা রয়েছে। এক হাজার থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে তরুণ-তরুণীদের পোশাক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

 শিলামনি গার্মেন্টসের স্বত্ত্বাধিকারী অনিমেষ দত্ত বলেন, জমজমাট বেচাকেনা চলছে। চাঁদ রাত পর্যন্ত ভালো বেচাকেনা হবে বলে আশা করছি। রূপগঞ্জের শেখ গামের্ন্টস অ্যান্ড পাঞ্জাবি ঘরের স্বত্ত্বাধিকারী আব্দুর রাজ্জাক জানান, ২৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে দেশি-বিদেশি পাঞ্জাবি বিক্রি হচ্ছে। ‘পায়ে পায়ে সু’ বিক্রেতা কাজী নূরুন্নবী বলেন, ১৫ রোযার পর বেচাকেনা বেড়েছে। দেশি কোম্পানির পাশাপাশি ভারতীয় ও চায়না জুতা-স্যান্ডেলের চাহিদা রয়েছে।

লোহাগড়া উপজেলার দোকানিরা জানান, সকাল থেকে রাত অবধি ক্রেতারা আসছেন। বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। তবে, প্রচন্ড গরম এবং গত তিনদিনের বৃষ্টির কারণে বাজারের ভাঙ্গাচেরা সড়কগুলোতে পানি জমে ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। লোহাগড়ার বয়রা গ্রামের আহাদ মৃধা বলেন, সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পোশাক কিনতে পেরে খুশি। ঈশানগাতী গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী রূবাইয়া জানায়, সে লং ফ্রগ ও স্যান্ডেল কিনেছে। তার খুব ভালো লাগছে। কালিয়া উপজেলার দর্জিরা জানান, রোজার প্রথম থেকেই পোশাক তৈরির অর্ডার পেয়েছেন। প্রচন্ড কাজের চাপে ২০ রোজার পর থেকে অর্ডার নেয়া কমিয়ে দিয়েছেন তারা।  

এদিকে, কৃষি নির্ভর নড়াইলের বেশির ভাগ পরিবার বোরো ধান বিক্রি করে ঈদ বাজার করছেন। তবে এ বছর বোরো মওসুমের মাঝামাঝি থেকে শেষ পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হওয়ায় ঘরে ঠিকমত ধান তুলতে পারেননি কৃষকেরা। বৃষ্টিতে ধানের মানও খারাপ হয়ে গেছে। এ বছর প্রতিমণ ধান ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। পাঁচজনের একটি পরিবারে সদস্যপ্রতি এক হাজার টাকার ঈদ বাজার করতে সাত থেকে আট মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। একথা জানিয়েছেন নড়াইলের বিভিন্ন এলাকার কৃষক।

তারা জানান, এ বছর বৃষ্টিতে ধান যেমন নষ্ট হয়েছে; পাশাপাশি দামও কম পাচ্ছেন। এ কারণে বেশি পরিমাণ ধান বিক্রি করে ঈদ বাজার করতে হচ্ছে। ফলে ঈদ আনন্দের পাশাপাশি সারাবছর সংসার চালানোর খরচপাতি নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকেরা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই