শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭, ১০ আষাঢ় ১৪২৪

পদ পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে সাবেক ছাত্রদলের নেতারা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

পদ পাওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে সাবেক ছাত্রদলের নেতারা

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

আর মাত্র কয়েকদিন পরেই বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলকে সফল করতে বিএনপির চেয়ারপারসন থেকে দলের উপ-কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা নিরলসভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছেন। দলে পদপ্রত্যাশীদের দৃষ্টি এখন নির্বাহী কমিটির দিকে। তবে বিএনপির হাইকমান্ড চাচ্ছেন তারুণ্যনির্ভর দল গড়ে তুলতে। এক্ষেত্রে পদ পাওয়ার দৌঁড়ে ছাত্রদলের সাবেক নেতারা এগিয়ে রয়েছেন। বিএনপি সংশ্লিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিএনপির এবারের জাতীয় কাউন্সিলে প্রায় ৩ হাজার কাউন্সিলরসহ ৫ হাজার ডেলিগেট ও বিদেশি প্রতিনিধিকে দাওয়াত জানানো হচ্ছে। সময় কম থাকার কারণে বিদেশিসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন নিজেই কথা বলে দাওয়াত দিচ্ছেন। আর কাউন্সিলের জন্য গঠিত ১১ উপ-কমিটি বৈঠক করছেন ২/১ দিন পর পরই। এবার কাউন্সিল ঘিরে ১০টি প্রকাশনা থাকছে। ইতিমধ্যে এ সংক্রান্ত উপ-কমিটি তাদের প্রকাশনা কাজের বেশিরভাগই শেষ করে ফেলেছে। আপ্যায়ন উপ-কমিটি এবং শৃঙ্খলা ও সেবা উপ-কমিটিও তাদের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করে এনেছে। ইতিমধ্যে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঘোষণাপত্র ও গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটিও বৈঠক করেছে। ওই বৈঠকে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আকারসহ নানা প্রস্তাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রস্তাবনাগুলো একটি কপি সব সদস্যদের কাছে দেয়া হয়েছে। আগামী ১৯ মার্চ ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্সটিটিউশনে জাতীয় কাউন্সিলের কাউন্সিল অধিবেশনে প্রস্তাবিত বিষয়গুলো পাস হলে তা গঠনতন্ত্রেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সূত্র জানায়, বিএনপির চেয়ারপারসন পদের জন্য খালেদা জিয়া এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের কোনো প্রতিদ্বন্দ্বি নেই। ফলে যে কোনো সময় তাদের নির্বাচিত ঘোষণা করা হতে পারে। পাশাপাশি বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল সফল করার প্রস্তুতির বাইরেও চলছে আগ্রহী নেতাদের পদ পাওয়ার প্রস্তুতি। বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা নিজেদের মতো পদ পেতে দৌঁড়ঝাঁপ করছেন। তবে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন সাবেক ছাত্রদল নেতারা। স্থায়ী কমিটি, ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব এবং যুগ্ম-মহাসচিব এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদে সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে আলোচনার শীর্ষে আছেন রিজভী আহম্মেদ, আমানউল্লাহ আমান, আসাদুজ্জামান রিপন, ফজলুল হক মিলন, শামসুজ্জামান দুদু, খায়রুল কবির খোকন, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির নাম। এর বাইরে গুরত্বপূর্ণ পদগুলোর আলোচনায়ও আছেন সাবেক সফল ছাত্রনেতারা। তাদের মধ্যে অন্যতম হচ্ছেন─ আজিজুল বারী হেলাল, শফিউল বারী বাবু, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, আমিরুল ইসলাম খান আলিম, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, হাবিবুর রশিদ হাবিব, বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ প্রমুখ।

তার বাইরেও আলোচনায় থাকা সাবেক ছাত্রনেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন─ ছাত্রদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও '৯০-এর আহ্বায়ক কমিটির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক সানাউল হক নিরু। যদিও ডাকসুর নির্বাচন ঘিরে দল থেকে বহিষ্কার হয়েছিলেন তিনি। এখন অবশ্য নিরু বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হতে চাচ্ছেন। রয়েছেন রিজভী-ইলিয়াস কমিটির কামরুজ্জামান রতন, সাবেক সভাপতি শাহাবুদ্দিন লাল্টু, হেলাল-বাবু কমিটির সহ-সভাপতি নুরুল ইসলাম নয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি হাসান মামুন, টুকু-আলীম কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবুল, লাল্টু-হেলাল কমিটির সহ-সভাপতি শামসুজ্জামান মেহেদী, টুকু-আলীম কমিটির সহ-সভাপতি হায়দার আলী লেলিন, জুয়েল-হাবিব কমিটির সহ-সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, লাল্টু-হেলাল কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবলু, পিন্টু-লাল্টু কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম বাবু, টুকু-আলীম কমিটির সহ-সভাপতি দুলাল হোসেন, ওমর ফারুক শাফিন, লাল্টু-হেলাল কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, লাল্টু-হেলাল কমিটির আন্তর্জাতিক সম্পাদক সাঈদ ইকবাল মাহমুদ টুকু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আহ্বায়ক আবদুল মতিন, টুকু-আলীম কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ, বুয়েটের সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মানিক, ছাত্রনেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. জাকির হোসেন প্রমুখ। এছাড়া আরো আছেন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি মোস্তফা খান সফরী, আবদুল আউয়াল খান, কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু, রুহুল আমিন আকিল ও ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক রফিক আহমেদ ডলার।

সূত্র আরো জানায়, বিএনপির হাইকমান্ড দফায় দফায় আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ায় এবার সফলতা পেতে সাবেক সফল ছাত্রদল নেতাদের সামনের আনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছেন। আর দলের শীর্ষ নেতারাও মনে করছেন সফল ছাত্র নেতাদের মধ্যে বাছাই করে দলে ঢোকানো হলে সাংগঠনিক ভিত আরো মজবুত হবে। এসব কারণেই এবার গুরত্বপূর্ণ পদে আনা হচ্ছে সাবেক ছাত্রনেতাদের। আর আলোচনায় থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতাদের অনেকেই ষষ্ঠ কাউন্সিলের মাধ্যমে গঠিত নির্বাহী কমিটিতে জায়গা পাবেন। তাদের মধ্যে ২/৪ জন যারা ছিটকে পড়বেন তাদেরও জায়গা হবে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গসংগঠনগুলোর সামনের সারিতে।

এদিকে, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদকের জন্য এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় থাকা বজলুল করিম চৌধুরী আবেদের মতে, এক-এগারো থেকে শুরু করে গত প্রায় ৯ বছর ধরে বিএনপি ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। এই সময়ে সংগঠন সরকারের দমন-পীড়নের মারাত্মক শিকার হয়েছে। চেয়ারপারসন থেকে শুরু করে তৃণমূলের একজন কর্মী পর্যন্ত সবাই মামলায় জর্জরিত।  রকম একটি অবস্থায় কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের মধ্য দিয়ে সবার মধ্যে নতুন করে একটি আশা জাগ্রত করতে হবে। যারা যোগ্য, ন্যায়নিষ্ঠ ও নেতৃত্বের প্রতি অবিচল তাদের দল মূল্যায়ন করবে।

অন্যদিকে, ২০০৫ থেকে ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের সভাপতি ছিলেন হাসান মামুন। তার মতে, বিএনপি তার চেতনার জায়গা। দল যেখানেই জায়গা করে দেবে সেখান থেকেই তিনি নতুন কিছু করার জন্য চেষ্টা করবেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue
শনিবার, ২৪ জুন, ২০১৭, ১০ আষাঢ় ১৪২৪