মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার ঈগল শিকারি

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

পশ্চিম মঙ্গোলিয়ার ঈগল শিকারি

সোনালীনিউজ ডেস্ক

একসময় মানুষ শিকার করে জীবিকা সংগ্রহ করতো। খাদ্যের সন্ধানে পশু শিকারের জন্য তারা সাহায্য নিত অন্য একটি পশু বা পাখির। আর এর জন্য বেশ কৌশল করে বশ মানাতে হতো সেই সব পশুপাখিকে। এখন যুগ বদলে গেছে, বিজ্ঞানের এই যুগে খাদ্য সংগ্রহের জন্য মানুষকে এখন আর পশুপাখি নির্ভর হতে হয় না। কিন্তু যদি বলা হয় পৃথিবীতে এমন কিছু জনপদ আছে যেখানে মানুষ এখনও আঁকড়ে ধরে আছে আদিম সেই প্রচলন, তাহলে খুব একটা ভুল হবে না। আর এমনি এক জাতি হলো পশ্চিম মঙ্গোলিয়ান।

মঙ্গোলিয়ার ওই অংশে জীবনযাপন করা বেশ কষ্টসাধ্য। কারণ সেখানে তাপমাত্রা থাকে মাইনাস ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে। কাজাখ ঈগল শিকারি হিসেবে পুরো বিশ্বে রয়েছে তাদের বিশেষ পরিচিতি। মঙ্গোলিয়ানরা হাজার বছর ধরে ধারণ করে আছে তাদের পুরোণো এই ঐতিহ্য। ঈগলকে পোষ মানিয়ে তারা শিয়াল ও ভেড়ার মতো ছোট ছোট প্রাণী শিকার করে। এরাই বিশ্বের একমাত্র যাযাবর জাতি, যারা জীবনধারণের জন্য ঈগলের সহায়তায় শিকার করে।

সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ও কমিউনিজমের বিলুপ্তির সময়কালে তারা কাজখাস্তান, রাশিয়া ও মঙ্গোলিয়ার নানা স্থানে অভিবাসী হিসেবে জীবনযাপন করে আসছিল। একটা সময় পরে এই দেশগুলো যখন তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয় তখন তাদের আন্তঃদেশীয় অভিবাসন ব্যবস্থা অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর খানিকটা বিপত্তি ঘটেছিল সোভিয়েত আমলে। ১৯৩০ সালের দিকে সোভিয়েত ইউনিয়নে ঈগল ধরা নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সেই সময় রাজনৈতিক কারণে কাজাখস্তানের অনেকেই প্রতিবেশী দেশ মঙ্গোলিয়া ও চীনে আশ্রয় নিতে শুরু করে। জায়গা বদল হলেও রয়ে গেছে তাদের পুরোনো সেই ঐতিহ্য।

দিনের বেলায় ঘোড়ায় চেপে কোনো এক মঙ্গোলিয়ান পোষা ঈগলগুলো সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। শিকার শেষে তারা পাহাড়ের গুহায় ফিরে আসেন। মূলত কয়েকটি পরিবার মিলে একসঙ্গে বসবাস করে তারা। অনেক সময় প্রচুর শিকার মিললে একসঙ্গে ভাগাভাগি করে খায় তারা। সব পরিবারেরই সঙ্গী দুর্লভ প্রজাতির পোষ মানানো ঈগল। শিকারের জন্য ঘোড়া, প্রাত্যহিক শিকারযাত্রা আর মন ভালো করে দেয়ার মতো সুন্দর পোষ মানানো ঈগলগুলো নিয়েই তাদের অসাধারণ জীবন।

এক একটি ঈগল প্রায় ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। এখানে বিশেষ করে তারা স্ত্রী ঈগল পোষ মানিয়ে থাকে। কারণ এরা পুরুষ ঈগলের চেয়ে অনেক বেশি হিংস্র হয়। ছোট ঈগলগুলো ঈগলের বাসা থেকে নিয়ে আসে কাজাখস্তানের শিকারিরা। বাচ্চা ঈগল মোটেও হিংস্র হয় না, তবে বড় হয়ে এরা পাকা শিকারি হয়ে ওঠে। ঈগল ধরে নিয়ে আসার পর মালিকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে প্রথম কয়েক মাস মালিক নিজ হাতে ঈগলকে মাংস খাওয়ান। আর এভাবেই তৈরি হয় তার প্রতি আনুগত্য।

এছাড়াও রাশিয়া সীমান্তের কাছাকাছি অবস্থিত চুলতিং এলাকায় এমন বেশ কয়েকটি পরিবার বাস করে, যাদের ১৩ বছরের বালকরাও শিকারে বেশ পারদর্শী। তাদের রীতি অনুযায়ী একজন বালক ঠিক তখনই শিকারের দায়িত্ব লাভ করে, যখন সে ঘোড়ায় চড়তে শেখার পাশাপাশি ঈগলের ভার বহনে সক্ষম হয়। এই হিসেবে তাদের শুরুটা হয় ১৩-১৪ বছরের মধ্যেই। এই সময় বাবার প্রশিক্ষণে ওই কিশোরের যেমন শিক্ষালাভ শুরু হয়, তেমনি একটি অপরিণত ঈগলও তার হাত ধরে ধীরে ধীরে শিকারি ঈগল হয়ে উঠতে থাকে। এভাবে বছরখানেক ধরে একজন অভিজ্ঞ শিকারির তত্ত্বাবধানে থেকে মঙ্গোলিয়ান কিশোররা পাকা শিকারি হিসেবে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করে। তারপর সমাজে তার পরিচিতি মেলে একজন ঈগল শিকারি হিসেবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩