রবিবার, ২৩ জুলাই, ২০১৭, ৮ শ্রাবণ ১৪২৪

পাঞ্জাব পার্লামেন্টে নিজামীর ফাঁসির নিন্দা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

পাঞ্জাব পার্লামেন্টে নিজামীর ফাঁসির নিন্দা

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের পার্লামেন্ট। সেই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ড পাওয়া বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের বিশেষ অবদানের জন্য পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননা দেওয়ার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলোর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঞ্জাবের পার্লামেন্ট মঙ্গলবার দুটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে। এর একটি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, অন্যটি বাংলাদেশের বিরুদ্ধে।

বাংলাদেশ নিয়ে প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) সদস্য আলাউদ্দিন শেখ। বাংলাদেশে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করায় ক্ষুব্ধ ওই নেতা দাবি করেন, তৎকালীন অভিক্ত পাকিস্তানের অখন্ডতা রক্ষার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর ওই নেতাদের এমন পরিণতি হচ্ছে। তাই ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’ সম্মাননায় ভূষিত করে তাদের প্রতি পাকিস্তানিদের শ্রদ্ধা জানাতে হবে।

অন্যদিকে পাকিস্তানে লুকিয়ে থাকা আফগানিস্তানের তালেবান নেতা মোল্লা মোহাম্মদ মনসুরকে যুক্তরাষ্ট্র এ সপ্তাহে ড্রোন হামলা চালিয়ে হত্যা করায় দেশটি ক্ষুব্ধ। মোল্লা মনসুরের মতো আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনকে ২০১১ সালে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান চালিয়ে হত্যা করেছিল পাকিস্তানের মাটিতেই। বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিতে পরিণত হওয়া ওই ব্যক্তিরা পাকিস্তানের ভেতর কিভাবে আশ্রয়-প্রশ্রয় পাচ্ছিলেন তাঁর ব্যাখ্যা না নিয়ে দেশটি বরাবরই এসব অভিযানের মাধ্যমে তার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।

পাঞ্জাব পার্লামেন্টে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন হামলার নিন্দা জানানো হয়। ওই প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সদস্য ও পাঞ্জাব পার্লামেন্টের বিরোধীদলীয় নেতা মিয়া মেহমুদ-উর-রশিদ।

এদিকে লাহোর হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনে গত সোমবার ‘ইসলামিক আইনজীবী ফোরাম’-এর এক অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের রেলমন্ত্রী খাজা সাদ রফিক বলেন, বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী নেতা মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি কেবল দলীয় বিষয়ই নয়, জাতীয় মর্যাদা ও সম্মানেরও বিষয়। এ ইস্যুকে সরকার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

খাজা সাদ রফিক বলেন, পাকিস্তানের অখন্ডতার জন্য ‘আত্মত্যাগকারী’ ওই ব্যক্তিদের তারা ভুলে যাবেন না। তার দাবি, দেশকে ‘ভালোবাসা’র অপরাধেই নিজামীদের শাস্তি হচ্ছে।

ওই অনুষ্ঠানেই পিটিআই নেতা চৌধুরী সারওয়ার বাংলাদেশে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলেন। তিনি বাংলাদেশের জিএসপি সুবিধা বাতিল করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে চাপ দিতে পাকিস্তান সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

অন্যদিকে বাংলাদেশে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর প্রসঙ্গে পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামের প্রধান সিরাজুল হক দাবি করেন, এর পেছনে ভারতীয় ইন্ধন রয়েছে। নিজামীর ফাঁসির পর রাষ্ট্রদূতকে আঙ্কারায় ডেকে নেওয়ায় তিনি তুরস্কের প্রশংসা করেন।

তুরস্কের নিজামীর প্রতি সহমর্মিতা দেখিয়ে বাংলাদেশ দূতাবাসসংলগ্ন সড়কের নাম বদলে নিজামীর নামে রেখেছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমএইউ

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue