সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

পানিস্বল্পতায় উৎপাদনে ধীরগতি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

পানিস্বল্পতায় উৎপাদনে ধীরগতি কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মাধ্যমে সাশ্রয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ থাকলেও বিদ্যুৎ বিভাগ তা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না। মূলত পানিস্বল্পতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষা মৌসুম ছাড়া বছরের বেশির ভাগ সময়ই পানিস্বল্পতার কারণে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অধিকাংশ ইউনিট বন্ধ রাখা হয়।

এবারও  গ্রীষ্ম মৌসুমে পার্বত্য এলাকায় বৃষ্টি না হওয়ায় অস্বাভাবিকভাবে নেমে গেছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। ফলে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৬২ সালে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই উপজেলার পাহাড়ি এলাকায় বাঁধ দিয়ে ৮০ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিটের বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। শুরুতে ওই দুটি ইউনিট কেন্দ্র নির্মাণে খরচ হয়েছিল মাত্র ৫০ কোটি টাকা। তারপর ১৯৮৩ সালে ৩ নম্বর ইউনিট (৫০ মেগাওয়াট) নির্মাণে ব্যয় হয়েছিল ৫০ কোটি এবং সর্বশেষ ১৯৮৮ সালে ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট (১০০ মেগাওয়াট) নির্মাণে প্রায় ২শ’ কোটি টাকা ব্যয় হয়।

প্রথম তিনটি ইউনিট যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিতে বসানো হলেও ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট জাপানের টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার সার্ভিসেস কোম্পানি (টেপ্সকো) নির্মাণ করে। সর্বশেষ দুটি ইউনিট স্থাপনের সময় আরো দুটি ইউনিট স্থাপনে আনুষঙ্গিক অবকাঠামো সুবিধা রাখা হয়। 

জাপানি ওই প্রতিষ্ঠান ১৯৯৮ সালে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে বর্তমান অবকাঠামো ও পানির রিজার্ভ দিয়েই কাপ্তাই হ্রদে আরো ৫০ মেগাওয়াটের (মোট ১০০ ইউনিট) দুটি ইউনিট নির্মাণ সম্ভব বলে প্রতিবেদন দেয়। হ্রদের পানিতে দুটি বাঁধ স্থাপন করে পুনঃসঞ্চালনের মাধ্যমে ব্যবহার করা হলে পিক আওয়ারে নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

সেক্ষেত্রে উৎপাদন ধরে রাখার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় আরো কমিয়ে আনার সুযোগ থাকলেও সে বিষয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের উদ্যোগ নেই। বর্তমানে একটি কিংবা দুটি ইউনিট চালু রেখে (পিক আওয়ারে) বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু চলতি বছরের এপ্রিল জুড়ে পানিস্বল্পতায় ওই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে গড়ে একটি কিংবা দুটি ইউনিট চালু রাখা গেছে। তবে পানির পরিমাণ কমতে থাকায় মে মাসের শুরু থেকে অধিকাংশ সময় একটি ইউনিট দিয়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন চলছে।

সূত্র জানায়, বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে সারাদেশে দাবদাহ চলছে। বৃষ্টি না হওয়ায় নেমে গেছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। ফলে হ্রদের পানির ওপর নির্ভরশীল কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির অধিকাংশ ইউনিটই বন্ধ রাখতে হচ্ছে। গত দু’মাসের মধ্যে অধিকাংশ সময় শুধুমাত্র একটি ইউনিট চালু রেখেছে কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে কাপ্তাই লেকে যে পরিমাণ পানি মজুদ আছে তা দিয়ে একটি ইউনিট ১৫-২০ দিন নিয়মিত চালু রাখা যাবে। আর ৩টি ইউনিট একসঙ্গে উৎপাদনে গেলে ৭-১০ দিন চলবে ওই পানিতে। আর এক সাথে ৫টি ইউনিট চালানো হলে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে রুলকার্ভ অনুযায়ী হ্রদের পানির স্তর ৬৮ ফুটের নিচে চলে আসবে। যা বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষার জন্য বিপজ্জনক। এই অবস্থায় কার্যত উৎপাদন বন্ধের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি।

সূত্র আরো জানায়, সরকারিভাবে দেশে বর্তমানে বিভিন্ন জ্বালানি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিটপ্রতি সর্বোচ্চ খরচ হচ্ছে ২০ টাকা। কিন্তু কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইউনিটপ্রতি গড় উৎপাদন খরচ মাত্র ৩০ পয়সা। মৌসুমে (বর্ষাকালীন সময়) মাসভিত্তিক এই উৎপাদন খরচ ১৩-১৪ পয়সায় নেমে আসে।

২০১৫ সালের আগস্টে ওই কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয় মাত্র ১৪ পয়সা। আর সেপ্টেম্বরে ১২ পয়সা এবং অক্টোবরে খরচ হয়েছে মাত্র ১৩ পয়সা। নতুন প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো গেলে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ আরো কমানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২৩০ মেগাওয়াট। তারমধ্যে ১ ও ২ নম্বর ইউনিটের উৎপাদনক্ষমতা দৈনিক ৪০ মেগাওয়াট করে হলেও সক্ষমতার চেয়ে প্রতিটি ইউনিট সর্বোচ্চ ৬ মেগাওয়াট পর্যন্ত অতিরিক্ত উৎপাদন করতে পারে। তাছাড়া বাকি তিনটি ইউনিটের প্রতিটি ৫০ মেগাওয়াট করে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।

এ প্রসঙ্গে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার আবদুর রহমান জানান, এখন পর্যন্ত কাপ্তাই কেন্দ্রের বিপদসীমার ওপরে দুই ফুট পানি মজুদ রয়েছে। সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য যা খুবই অপ্রতুল। হালদা নদীতে লবণাক্ততা এড়াতে কাপ্তাই কেন্দ্রের অন্তত একটি ইউনিট চালু রাখা জরুরি।

ফলে প্রতিদিন অন্তত একটি ইউনিট চালু রাখা হচ্ছে। কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাত হলেই পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহ বৃষ্টি না হলে সবগুলো ইউনিট বন্ধ করে দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩