রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

পুলিশের দেয়া চাঁদার টোকেনে চলে ব্যাটারিচালিত রিকশা!

জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ অনলাইন
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

পুলিশের দেয়া চাঁদার টোকেনে চলে ব্যাটারিচালিত রিকশা!

রাজধানীজুড়ে চাঁদার টোকেনে চলছে অনুমোদনহীন ব্যাটারিচালিত রিকশা। পুলিশ, ভুঁইফোঁড় রিকশা মালিক সমিতি, এলাকার রাজনৈতিক কর্মী ও চিহ্নিত চাঁদাবাজ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে অবৈধ এ ব্যবসা। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ বিভাগের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে চলছে রিকশা ব্যাটারির চার্জ স্টেশন। এতে গচ্ছা যাচ্ছে শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। এতে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। ব্যাটারিচালিত হওয়ায় এ রিকশা খুব দ্রুত চলে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও আছে। প্রায়ই কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে, ব্যাটারিচালিত এসব অবৈধ রিকশায়। 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, অবৈধ এসব রিকশা থেকে চাঁদা আদায়ে অভিনব কৌশল নিয়েছে সিন্ডিকেটগুলো। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট চালায় পুলিশও। এলাকাভিত্তিক লাইনম্যান টোকেন কিংবা ভিজিটিং কার্ডের মাধ্যমে সংগ্রহ করছে বখরা। প্রতিমাসে এভাবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে চক্রটি। চালকদের মধ্যে যার টোকেন নেই, তার রিকশা রাস্তায় নামবে না। লাইসেন্সের পরিবর্তে রিকশার পেছনে ঝুলছে ডিজিটাল রিকশা মালিক সমিতি, মোটরচালিত অটোরিকশা সমিতি, জাতীয় রিকশা ভ্যান শ্রমিক লীগ, রিকশা মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদ, বাংলাদেশ রিকশা মালিক লীগ, রিকশা চোর প্রতিরোধ কমিটি, রিকশা ভ্যান ঐক্য পরিষদসহ বিভিন্ন সমিতির দেয়া নম্বরসহ প্লেট। এরকম অসংখ্য ভুঁইফোঁড় সংগঠনের টোকেন ও ভিজিটিং কার্ড সোনালীনিউজ ডটকম-এর হাতে এসেছে। এসব সংগঠনের ঠিকানায় ২৩ নম্বর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ের (আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়) লেখা রয়েছে। মোহাম্মদপুরের সার্জেন্ট জুবায়ের-এর নাম ও মোবাইল নম্বর লেখা একটি টোকেনও পাওয়া গেছে। 
 
ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চাঁদাবাজির নতুন ক্ষেত্র। অবৈধ এ ব্যবসাকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কিছু ভুঁইফোঁড় নামধারী রিকশা মালিক সমিতি। সমিতির নামে প্রতিদিন রিকশাপ্রতি আদায় হচ্ছে দেড়শ’ থেকে ২শ’ টাকা। সমিতির যোগসাজসে মাসিক হাজার টাকার চুক্তিতে একটি টোকেন দেয় পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা। দালালের মাধ্যমে রিকশা মালিকদের টোকেন সরবরাহ করে ট্রাফিক পুলিশ। এসব টোকেন, নম্বর প্লেট ও ভিজিটিং কার্ডে প্রায় ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা এখন নগরীর রাস্তায়। চলছে ধারাবাহিক এ অনিয়ম, যেন দেখার কেউ নেই। 

সরেজমিনে দেখা যায়, ডিএসসিসির ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডের আশ্রাফাবাদ সড়ক, ছাতা মসজিদ সড়ক, মাতবর বাজার সড়ক, ৫৬ নম্বর ওয়ার্ডের বনগ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম রসুলপুর ও ৫৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝাউলাহাটি, ঝাউচর, মুনসুরবাগের অধিকাংশ সড়ক ভাঙাচোরা। এসব সড়কেই দ্রুতগতিতে চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। অতিরিক্ত রিকশার চাপে আশ্রাফাবাদ ও মাতবর বাজার সড়কে লেগে আছে যানজট। এ ছাড়া এই তিনটি ওয়ার্ড সংযুক্ত কামরাঙ্গীরচরের সদরঘাট-গাবতলী বেড়িবাঁধ সড়কেও চলছে ব্যাটারিচালিত রিকশা। প্যাডেলে চালানোর রিকশার সংখ্যা খুবই কম। সদরঘাট-গাবতলী বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশায় করে পূর্ব রসুলপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা সাদেক মিয়া। তিনি বলেন, উল্টে যাওয়ার আশঙ্কায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়তে ভয় হয়। কারণ, এর গতি বেশি। প্যাডেলে চালানো রিকশা সাধারণত পাওয়া যায় না। বাস বা লেগুনার ব্যবস্থাও নেই। ব্যাটারিচালিত রিকশার চালক জহিরউদ্দিন বলেন, কারিগরিভাবে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা এবং ব্রেক সাধারণ রিকশার মতো হওয়ায় প্রয়োজনে গতি বেশি হলে রিকশা সামলাতে কষ্ট হয়। ব্যাটারি খুলে ফেলা হলেও এসব রিকশা প্যাডেলে চালানো সম্ভব হবে না। কারণ, সাধারণ রিকশা থেকে তা ভারী।

মিরপুরের ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক নজরুল ইসলাম বলেন, জেড সংকেতের রিকশার জন্য মাসিক ১ হাজার, পাখি কার্ডের জন্য ১২শ’, ফুল কার্ডের জন্য ১৫শ’ টাকা মাসিক চাঁদা দিতে হয়।  রিকশা ও গ্যারেজ মালিকরাই এ কার্ডের ব্যবস্থা করেন। রায়ের বাজারের গ্যারেজ মালিক আবু ইসহাক বলেন, রিকশার কাগজপত্র নেই তো কী হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ থেকে কার্ড (টোকেন) দেয়া হয়েছে। চার থানা এলাকায় আমার রিকশা চলতে পারবে।

লাইসেন্স দেখতে চাইলে মোহাম্মদপুরের রিকশা চালক রহিম ডিজিটাল রিকশা মালিক সমিতির একটি কার্ড দেখিয়ে বলেন, ফুলিশের অফিস থেইকা মালিক এইডা আইনা দিছে, কইছে কুনো সমস্যা হইলে এইডা দেহাবি। আদাবরের রিকশাচালক জামাল মিয়া বলেন, ব্যাটারির রিকশা এখন বৈধ হয়ে গেছে। প্রতি মাসে গাড়িপ্রতি পুলিশকে ১ হাজার টাকা করে দিতে হয়। ডিজিটাল রিকশা মালিক সমিতির ইনসুর আলী জানান, তাদের মাধ্যমে ট্রাফিক পুলিশের সঙ্গে টাকা লেনদেন হয়।

ডিএমপির ট্রাফিক (দক্ষিণ) বিভাগের উপকমিশনার খান মোহাম্মদ রেজোয়ান বলেন, আমার এলাকায় ব্যাটারিচালিত কোনো রিকশা চলাচল করে না। আর টোকেন সিস্টেমের তো প্রশ্নই আসে না।

বিদ্যুৎ খরচ হয় দেড় হাজার টাকা। প্রতিদিন মালিকের জমা ৩৫০ টাকা। গ্যারেজ ভাড়া মাসে ৩০০ টাকা। পুলিশ, গ্যারেজ মালিক, বিদ্যুতের লোক ও প্রভাবশালী নিয়ন্ত্রণকারীদের চাঁদা বাবদ মাসে গুনতে হয় ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এর মধ্যে পুলিশকেই দিতে হয় ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা। এসব খরচ বাদেও প্রতিদিন একজন চালকের ৪ থেকে ৫শ’ টাকা আয় হয়। প্রচলিত রিকশায় সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনির পরও ২শ’ টাকা আয় করা কষ্ট হয়ে দাঁড়ায়। সেখানে ব্যাটারিচালিত রিকশা চালক ও যাত্রীকে কিছুটা হলেও স্বস্তি দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যান্ত্রিক সুবিধার কারণে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোর দিকেই বেশি ঝুঁকছে চালক-মালিকরা।

জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত অবৈধ রিকশা চলাচল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ছিল বিভিন্ন মহলে। ঝুঁকিপূর্ণ এ যানটি বিদ্যুতের অপচয়ের একটি বড় মাধ্যম। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপর্যায়ে এটি বন্ধ করার জন্য বিশেষ তোড়জোড় থাকলেও নিচের পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ যানটিকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ ছিল। রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতারও অভিযোগ ছিল। পাশাপাশি বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত রিকশা-ভ্যান মালিক সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে লাইসেন্সের দাবিতে আন্দোলনের পাশাপাশি উচ্চ আদালতের আদেশ নিয়ে বেশ দাপটের সঙ্গে রাস্তায় দাপিয়ে বেড়িয়েছে এসব রিকশা।

অবৈধ হলেও চলছে দীর্ঘদিন : রাজধানী ঢাকায় প্রায় ৩৩ বছর আগে ১৯৮২ সালে শেষবারের মতো পায়ে চালানো রিকশা ও ভ্যানের লাইসেন্স দিয়েছিল সেই সময়ের অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন। সে হিসাবে ৮৮ হাজার ১৬০টি রিকশার লাইসেন্স দেয় ঢাকা সিটি করপোরেশন (ডিসিসি)। রিকশা চলাচল নিরুত্সাহিত করতে দীর্ঘ তিন দশক ধরে এসব রিকশার লাইসেন্স শুধু নবায়ন করে চলছে ডিসিসি। এর আগে রিকশার চলাচলের জন্য কোনো লাইসেন্সের প্রয়োজন ছিল না। ৮৬ সালের পর আর কোনো রিকশার লাইসেন্স দেয়নি ডিসিসি। অথচ রাজধানীজুড়ে এখন প্রায় ২ লক্ষাধিক রিকশা চলাচল করছে। যার কোনো অনুমোদন নেই। জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা মূল লাইসেন্সটি একাধিকবার জাল করে তা বিক্রি করছে। আর বিভিন্ন সমিতির নামে তা বাজারজাত করছে।

তিন বছরে ৫০ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা : ঢাকার রাজপথে ব্যাটারিচালিত রিকশার চলাচল শুরু হয় বছর তিনেক আগে থেকে। পঙ্গু ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের সুবিধার্থে সীমিতভাবে ব্যাটারিচালিত রিকশার অনুমোদন দেওয়া হলেও সেই অনুমোদনের অপব্যবহার করে প্রতিদিনই বেড়েছে এই রিকশা। ১২ ভোল্টের দুই থেকে চারটি ব্যাটারির সঙ্গে একটি ছোট মোটর যুক্ত করে চলে তিন চাকার এই রিকশা। বাংলাদেশ রিকশা-ভ্যান মালিক শ্রমিক সংগ্রাম পরিষদের তথ্যমতে, রাজধানীতে ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা ৪০ হাজারেরও বেশি।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ফসি উল্লাহ বলেন, অনুমোদন ছাড়াই ব্যাটারিচালিত এসব রিকশা চালানো হচ্ছে। এ বিষয়ে পুলিশকে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিন শত শত মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গচ্ছা যাচ্ছে। কিছু অসাধু লোক অবৈধ এ ব্যবসা পেতে বসেছে। তারা ভুয়া সমিতি বানিয়ে অনুমোদনহীন এসব রিকশা রাস্তায় নামিয়েছে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, অনুমোদনহীন এসব রিকশা চলাচল বন্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। 

ঝুঁকিতে যাত্রীরা : মালিকেরা লাভবান হলেও ব্যাটারিচালিত রিকশায় চড়তে গিয়ে ঝুঁকিতে পড়েছেন যাত্রীরাই। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্তদের চলাচলের প্রধান বাহন রিকশায় চড়ে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন অনেকে। হরহামেশাই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটলেও এর কোনো তথ্য পাওয়া যায় না রাজধানীর থানাগুলোতে।

কয়েকজন রিকশাচালক জানান, সাধারণ রিকশার চেয়ে গতি বেশি, অথচ চাকা একই ধরনের হওয়ার কারণে প্রয়োজনে গতি কমানোর সময় রিকশাগুলো ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। কারিগরিভাবে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা না থাকা এবং এর ব্রেক সাধারণ রিকশার মতো হওয়ায় গতি বেশি হলে সামলাতে পারেন না চালকেরা। প্রাইভেটকার, বাস, মোটরসাইকেলের মতো ব্রেক কষে চটজলদি থামানো যায় না। মফস্বল শহর ও গ্রামে চলা নছিমন-করিমনের মতো করে এক পা উঠিয়ে চালক এর গতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। তাই রাস্তার খানাখন্দে চাকা পড়ে গেলে উল্টে যায়, থমকে যায় যখন-তখন। রিকশার গতি নিয়ন্ত্রণের কোনো বিশেষ ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনা ঘটে হরহামেশাই। মোহাম্মদপুরের রিকশাচালক তারেক আহমেদ বলেন, ‘এইড্যা এমনই। আয় বেশি, কষ্ট কম হয়, তাই চালাই।

ব্যাটারিচালিত রিকশা প্রসঙ্গে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মমতাজ উদ্দিন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ যান হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-বিআরটিএ ব্যাটারিচালিত রিকশার বৈধতা দেয়নি। মোটরচালিত হওয়ার কারণে এ ধরনের যানের লাইসেন্স দেয়ার এখতিয়ারও আমাদের নেই।’

বিআরটিএর উপপরিচালক (প্রকৌশল) সীতাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, ইঞ্জিন থাকলেও নিরাপত্তা এবং অন্যান্য দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা যান্ত্রিক যানবাহন নয়। অন্যান্য যান্ত্রিক যানের চেয়ে ব্যাটারিচালিত রিকশা ধীরগতির। দুর্ঘটনাও ঘটার আশঙ্কা থাকে। সে জন্য এর বৈধতা দেয়া হয়নি এবং দেওয়ার সম্ভাবনাও নেই বললে চলে।

বিদ্যুৎ চুরি ও অপচয় : এই রিকশার ব্যাটারি প্রতিদিনই চার্জ দিতে হয়। প্রতিটি রিকশায় ব্যবহার করা ব্যাটারি চার্জ দিতে প্রতিদিনই বিদ্যুত্ লাগে কমপক্ষে পাঁচ ইউনিট (কোনো কোনো রিকশায় ব্যবহার করা হয় দুটি ব্যাটারি, কোনোটিতে চারটি)। সেই হিসাবে ৫০ হাজার রিকশার পেছনে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ ইউনিট বিদ্যুত্ খরচ হয়। প্রতি রাতেই রাজধানীর গ্যারেজগুলোতে এসব ব্যাটারির চার্জ দেওয়া হতো। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গৃহস্থালি সংযোগের পাশাপাশি চোরাই সংযোগ থেকে বিদ্যুত্ ব্যবহার করা হয়। বিদ্যুত্ চুরির কারণে বড় ধরনের অপচয় হয় সরকারের। ৫০ হাজার রিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে যে পরিমাণ বিদ্যুৎ খরচ হতো তাতে ২০ হাজারেরও বেশি ছোট পরিবারের বিদ্যুতের চাহিদা মেটানো যায়। 

অনুসন্ধানে জানা যায়, চালকদের পরিশ্রম কম এবং আয় বেশি হওয়ায় তাঁরা এ ধরনের রিকশা চালাতে আগ্রহী। মালিকদের দৃষ্টিকোণ থেকে বিনিয়োগের তুলনায় আয় বেশি। সাধারণ একটি রিকশায় মালিকের বিনিয়োগ ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। আর তাতে দৈনিক আয় ১০০ থেকে ১৬০ টাকা। অন্যদিকে ব্যাটারিচালিত একটি রিকশায় বিনিয়োগ ৩৫ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ থেকে দৈনিক আয় ৩০০ থেকে ৫৫০ টাকা।

সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় বাড়বে রাজস্ব : সংশ্লিষ্ট অনেকেই বলছেন, ব্যাটারিচালিত এসব রিকশার যাতায়াত বৈধ করা হলে এ খাতে সরকারের রাজস্ব বাড়বে। লাইসেন্স না দেয়ায় একশ্রেণীর অসাধু ব্যক্তি দুর্বলতার সুযোগে প্রভাব খাটিয়ে রিকশা মালিকদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা আদায় করছে। সিটি করপোরেশন কর্তৃক সাধারণ রিকশাপ্রতি বার্ষিক ট্যাক্স ৩ হাজার ৬০০ টাকা। এ হিসেবে রাজধানীতে চালিত শুধু বৈধ রিকশা থেকেই রাজস্ব আসে প্রায় ৫ কোটি টাকা। কিন্তু ব্যাটারিচালিত রিকশা অনিবন্ধিত হওয়ায় সেখান থেকে কোনো রাজস্ব পাচ্ছে না সরকার। পাশাপাশি প্রতিমাসে গচ্ছা যাচ্ছে সাড়ে ৩শ’ থেকে ৪শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। 

ঢাকা সিটি করপোরেশন রিকশা মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মমিন আলী বলেন, ব্যাটারিচালিত রিকশা শিগগিরই বন্ধ করা উচিত। রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত ব্যাটারিতে চার্জ দিয়ে রাখে। এতে প্রচুর বিদ্যুৎ খরচ হয়। ট্রাফিক পুলিশের দালাল সরকারদলীয় পরিচয় দিয়ে কার্ড (টোকেন) ছাপায়। এটা দেখালে পুলিশ রিকশা ছেড়ে দেয়। ডিলারদের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০০ টাকা করে কার্ড বিক্রি করে একটি চক্র।

ঢাকা জেলা রিকশা মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি ফজলুর রহমান বলেন, রিকশা চালকরা এখন বেশি শ্রম দিতে চায় না। তাই ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য ডিসিসির কাছে অনুমতি চাওয়া হয়েছে। সরকারী ফি দিয়ে চায়না থেকে মোটরসহ রিকশার অন্যান্য পার্টস আনা হচ্ছে। তাহলে সরকার রিকশার রুট পারমিট দেবে না কেন?

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআরসি/আমা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩