শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

পেসারদের খোঁজে বিসিবি

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৪৩ পিএম

পেসারদের খোঁজে বিসিবি

স্পোর্টস রিপোর্টার
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে গত বছরটা বাংলাদেশ দলের দুর্দান্ত কেটেছে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে খেলেছে মাশরাফি ব্রিগেড। এরপর ঘরের মাঠে পাকিস্তান, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষেও জিতেছে ওয়ানডে সিরিজ। টাইগারদের এমন সাফল্যের পেছনে দুর্দান্ত ভূমিকা রেখেছেন বাংলাদেশ দলের পেসাররা।
যদিও একটা সময় ভালোমানের পেসারদের অভাবে হাহাকারে পুড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে। তবে সেই সময়টা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, রুবেল হোসেন, তাসকিন আহমেদ এবং মুস্তাফিজুর রহমানের মতো পেসাররা। সেই সাফল্যের ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানি রবি অজিয়াটাকে সঙ্গে নিয়ে আবারো রুবেল-শফিউলদের মতো একঝাঁক ফাস্ট বোলার খোঁজার কাজে নেমে পড়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
বিসিবি ও জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পন্সর প্রতিষ্ঠান রবি আজিয়াটা লিমিটেড যৌথভাবে আয়োজন করতে যাচ্ছে ‘রবি ফাস্ট বোলার হান্ট’ কার্যক্রম। আর এতে অংশ নিতে এরই মধ্যে দেশজুড়ে আগ্রহীদের ব্যাপক সাড়া পড়েছে। এখন পর্যন্ত ৩৫ হাজার ফাস্ট বোলার এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়ার জন্য এসএমএস, ইন্টারনেটে লগ ইন ও রবি ওয়াক ইন সেন্টারে গিয়ে আবেদন করেছেন। তবে এর মধ্যে প্রতিভা বাছাইয়ের শর্ত অনুযায়ী যোগ্য প্রতিযোগী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন সাত হাজার পাঁচ’শ প্রতিযোগী। নিবন্ধন কার্যক্রম শেষ হবে আগামী ১৪ জানুয়ারি।
এরপর ১৭ জানুয়ারি থেকে দেশের ১৬টি স্থানে শুরু হবে মূল কার্যক্রম। বলের গতি, বোলারের ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করে তুলে আনা ১২ জন (১০ ছেলে ও দুই মেয়ে) সেরা বোলারকে। তারপর তাদরকে হাইপারফর্ম্যান্স ইউনিটের অধীনে রেখে দেয়া হবে উচ্চতর প্রশিক্ষণ। এই প্রক্রিয়ায় আরো এক ঝাঁক পেসারকে জাতীয় দলের পাইপলাইনে আনা যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন আয়োজকরা। ফলে ফাস্ট বোলার সঙ্কট কাটিয়ে বাংলাদেশের সাফল্যের পথ আরো বিস্তৃত হবে বলে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
মঙ্গলবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে রবি ফাস্ট বোলার হান্ট প্রোগ্রাম নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির সহ-সভাপতি মাহবুব আনাম, রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, বিসিবির মার্কেটিং এ্যান্ড কমার্শিয়াল কমিটির চেয়ারম্যান কাজী ইনাম আহমেদ, মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ও এইচপি কার্যক্রমের তত্ত্বাবধানকারী স্টুয়ার্ট কার্পিনেন। এই কর্মসূচির মাধ্যমে সারাদেশ থেকে ভালো মানের পেস বোলার উঠে আসবে-এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।
প্রথমবারের মতো এবার ছেলেদের পাশাপাশি নারী পেসাররা অংশ নেবেন পেসার হান্ট কার্যক্রমে। অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক যোগ্যতা, ক্রিকেট দক্ষতা ও গতির পাশাপাশি ওজন, উচ্চতা, ভারসাম্য, নি টু ওয়াল টেস্টের উপর ভিত্তি করে যাচাই-বাছাই করা হবে। অংশগ্রহণকারীদের বয়স ১৬ থেকে ২৩ বছরের মধ্যে হতে হবে। ছেলেদের ক্ষেত্রে উচ্চতা কমপক্ষে ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি আর মেয়েদের ক্ষেত্রে ৫ ফুট হতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির সহসভাপতি মাহবুব আনান বলেন, ‘ক্রিকেটে আরো সাফল্যের জন্য আমাদের বেশি সংখ্যক ভালোমানের পেস বোলার দরকার। এই আয়োজনের মাধ্যমে আগে আমরা রুবেল ও শফিউল ইসলামের মতো বোলারদের পেয়েছি। তাই এবারো আগের মতো সেরা পেসারদের তুলে এনে উচ্চতর প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। ছেলেদের পাশাপাশি এবার আমরা মেয়ে পেসারও খুঁজব। আমাদের নারী ক্রিকেটাররা এখন বিশ্বমানের। তারা টি২০ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে।'
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস বলেন, 'আগে আমাদের বোলিং লাইনে প্রভাব ছড়াতো কেবল স্পিনাররা। এখন পেসাররাও দারুণ করছে। অনেক সময় দেখা যায় জাতীয় দলের পেসাররা ইনজুরিতে পড়লে তাদের বিকল্প পাওয়া যায় না। কিন্তু বেশি বোলার থাকলে এই সমস্যা হবে না। এবার আমরা শুধু মাত্র গতি বেশি হলেই তাকে যোগ্য বিবেচনা করব না। থাকতে হবে শক্তপোক্ত শরীরও। সবমিলিয়ে এবারের আয়োজন থেকে একঝাঁক ভালো পেসার পাবো বলে আশা করছি।'
এদিকে রবি’র চিফ অপারেটিং অফিসার মাহতাব উদ্দিন আহমেদ, 'আমরা বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নতির জন্য আরো বেশি কাজ করতে চাই। এটা তারই একটা প্রাথমিক ধাপ।'
এই আয়োজনে বিসিবি-রবির সঙ্গে থাকছেন সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার স্টুয়ার্ট কার্পিনেন। এর আগে এইচপি কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান করেছিলেন তিনি। রবির পেসার হান্ট কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'আমরা পেসারদের বড় একটা দল গঠন করতে চাই। যারা এক সময় বাংলাদেশের হয়ে সব ফরম্যাটের ক্রিকেটে মাঠে নামতে পারবে।'

সোনালীনিউজ/ঢাকা/তা

শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩