বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

পৌর নির্বাচন উলিপুরে পন:ভোট গ্রহণ ১২ জানুয়ারি

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম


পৌর নির্বাচন
উলিপুরে পন:ভোট গ্রহণ ১২ জানুয়ারি


সোনালীনিউজ ডেস্ক

অাগামী ১২ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের উলিপুর পৌরসভা নির্বাচনে স্থগিত হওয়া দুটি কেন্দ্রে পন:ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

কেন্দ্র দুটি হল- নারিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্র।
নির্বাচনের ব্যাপারে উলিপুর পৌরসভার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা দেলওয়ার হোসেন  জানান, বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনার কারণে নারিকেলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করা হয়েছিল। আগামী ১২ জানুয়ারি স্থগিত কেন্দ্র দুটিতে পুনরায় ভোট গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি আকারে মাইকিং করে পৌর এলাকার জনসাধারণকে অবহিত করা হচ্ছে।

ঢাকা: বিদায় নেয়া ২০১৫ সালের প্রায় পুরো সময় ধরেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। বছরের শেষ কয়েক মাসে এদের নিয়েই মূলত ব্যস্ত থাকতে হয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। বিদায়ী বছরে বেশ কিছু ঘটনা ঘটে, যেগুলোর অধিকাংশই বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে একেবারেই নতুন। আর এসবের নেপথ্যে ছিল জেএমবি। বছরের শেষ দিকে ভারতের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের জেএমবি’র ভয়াবহ পরিকল্পনার বিষয়ে সতর্কবার্তা দেয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও এদের বিষয়ে সতর্ক থাকায় বেশ কিছু জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তারসহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর পরও জেএমবির তৎপরতা রোধ করা যায়নি। ২০১৫ সালের এপ্রিল মাসে রাজধানীর অদূরে দিনেদুপুরে ব্যাংক ডাকাতি করে আলোচনায় আসে জেএমবি। প্রকাশ্য দিবালোকে এভাবে ব্যাংক লুটের ঘটনা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। ২১ এপ্রিলের ওই ঘটনায় ৮ জনকে খুন করে জেএমবি’র সদস্যরা। এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় ১১ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের ৬ জনই আদালতে অপারাধ স্বীকার করে। গত সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রামের শাহ কর্পোরেশনে ডাকাতির ঘটনায় অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ গ্রেপ্তার হয় ৫ জেএমবি সদস্য। তারা আদালতে ডাকাতি, চট্টগ্রামের ন্যাংটা ফকিরসহ দুটো হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে। ২২ অক্টোবর রাজধানীর দারুস সালামে এএসআই ইব্রাহিমকে খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয় মাসুদ রানা নামের জেএমবি সদস্য। তার কাছ থেকে পুলিশ ৫টি হ্যান্ড গ্রেনেড উদ্ধার করে। ২৪ অক্টোবর হোসেনি দালানে তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় জেএমবির জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়। ৫ অক্টোবর ঢাকায় খিজির খান হত্যাকা-ের ঘটনায় ৭ জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে খিজির খানের দুটি ল্যাপটপ এবং দুটি ক্যামেরা উদ্ধার করা হয়েছে। তারা গোপীবাগের লুৎফর রহমান হত্যার দায়ও স্বীকার করেছে। ৪ নভেম্বর ঢাকায় আশুলিয়ায় কনস্টেবল মুকুল হত্যাকা-টি জেএমবি সদস্যরা চালিয়েছিল বলে তদন্তে নিশ্চিত হয় পুলিশ। এই দলের ৫ জনকে পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করা হয়। ৪ ডিসেম্বর দিনাজপুরের কাহারোলে রাসমেলায় হামলায় জেএমবি সদস্যের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আটক হয়েছে মোসাব্বির, আবু বকর ও মেহেদী হাসান। আটককৃতদের কাছ থেকে একটি একে ২২ এসএমজিসহ গুলি ও বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। ১০ ডিসেম্বর দিনাজপুর সদর থানায় তৃপ্তি ফিলিং স্টেশনে ডাকাতি করে পালানোর সময় জেএমবির চার সদস্যকে হাতেনাতে আটক করে জনতা। গত ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ অভিযান চালিয়ে জেএমবির চট্টগ্রাম শাখার সামরিক কমান্ডার তৌফিকুল ইসলাম জাবেদসহ পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় ৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, একটি পিস্তল, ১২০ রাউন্ড গুলি, বোমা তৈরির বিপুল পরিমাণ সরঞ্জাম উদ্ধার করে। কিন্তু আত্মঘাতী বোমা ফাটিয়ে মারা যায় জাবেদ। গত ২৩ ডিসেম্বর মিরপুরে গোয়েন্দা পুলিশ ও সোয়াতের পাঁচটি দল ১৬ ঘণ্টার অভিযান চালিয়ে জেএমবির ৩ জনসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের কাছ থেকে ১৬টি অবিস্ফোরিত হ্যান্ড গ্রেনেড, দুটি পাইপবোমা, ট্রাংক ভর্তি বিস্ফোরক, কয়েকটি সুইসাইডাল ভেস্টসহ দুই শতাধিক বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করে। গত ২৬ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আমিনবাজারে জঙ্গি আস্তানা থেকে স্নাইপার রাইফেল, সেনাবাহিনীর পোশাক, র‌্যাংক ব্যাজ, গুলি ও বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে জেএমবির তিন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে এসব উদ্ধার করা হয়। পরদিন রোববার গভীর রাতে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস এলাকায় র‌্যাব অভিযান চালায় জেএসবি’র ঘাঁটিতে। এ ঘটনায় র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে মারা যায় দুই জেএমবি সদস্য। যদিও নিহতদের পরিচয় নিয়ে পরবর্তীতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়। রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক বিগ্রেডিয়ার (অব.) এম শাখাওয়াত হোসেন জঙ্গিবাদ প্রসঙ্গে  বলেন, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের ধরন ও প্রকৃতি বদলে গেছে। একসময় জঙ্গি সংগঠনগুলোর সাথে মাদরাসার ছাত্র কিংবা অশিক্ষিত মানুষজন সম্পৃক্ত ছিল। এখন শিক্ষিত, এমনকি উচ্চবিত্তের শিক্ষিত ঘরের সন্তানরাও জঙ্গি কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ছে।  তিনি বলেন, জোর করে বা চাপিয়ে দিয়ে এদের নিবৃত্ত করা যাবে না। আসলে খুঁজে বের করতে হবে শূন্যতা কোথায়? কেন শিক্ষিত যুবকদের একটি অংশ জঙ্গিবাদের দিকে যাচ্ছে? কিন্তু সেদিকে মনোযোগ দেয়া হচ্ছে না।

 সোনালীনিউজ/এমএ ইউসুফ

 

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩