শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

প্রতি জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার ফ্ল্যাট

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

প্রতি জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের ১০ হাজার ফ্ল্যাট

সোনালীনিউজ ডেস্ক


প্রতিটি জেলায় মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসনের জন্য ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প প্রণয়নের কাজ হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক। সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য জানান তিনি। বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত ৪৪ আসনের সংসদ সদস্য বেগম-নুর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি ভাতাভোগীর সংখ্যা ১ লাখ থেকে বৃদ্ধি করে ২ লাখ করা হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার টাকা করা হয়েছে। আগামী জুলাই থেকে মাসিক সম্মানি ভাতা ১০ হাজার টাকায় উন্নীত করার বিয়টি প্রক্রিয়াধীন।

ভাতা পাচ্ছে ছেলে-মেয়েরা-
মন্ত্রী জানান, যুদ্ধাহত ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে (অনধিক ২ সন্তান) বার্ষিক প্রতি সন্তানকে ১ হাজার ৬০০ টাকা হারে শিক্ষা ভাতা দেয়া হচ্ছে। বিবাহ ভাতা হিসেবে যুদ্ধাহত ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে (অনধিক দুই কন্যা) প্রতি কন্যার জন্য এককালীন ১৯ হাজার ২০০ টাকা হারে আর্থিক সুবিধা দেয়া হচ্ছে। ভাতাভোগী যুদ্ধাহত ও মৃত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে ২ ঈদে মূল ভাতার সমপরিমাণ ঈদ বোনাস দেয়া হয়।

এছাড়া রাষ্ট্রীয় সম্মানি ভাতাপ্রাপ্ত সব যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাকে সরকারি যানবাহনে (বাংলাদেশ রেলওয়ে, বিআরটিসির কোচ, বাস ও জলযান) এবং বাংলাদেশ বিমানের অভ্যন্তরীণ সব রুটে বছরে একবার (আসা-যাওয়া) এবং আন্তর্জাতিক রুটে বছরে দুইবার (আসা-যাওয়া) বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের জন্য মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় থেকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়। যা প্রতি ৫ বছর অন্তর নবায়নযোগ্য।

বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি-
সরকার দলীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম মোল্লার (নরসিংদী-৩) প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী মোজাম্মেল হক জানান, বীরাঙ্গনাদের মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তাদের নামে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি চলমান।

মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বীরাঙ্গনাদের পূর্ণাঙ্গ কোনো তালিকা মন্ত্রণালয়ে সংরক্ষিত নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বীরাঙ্গনাদের একটি তালিকা সংরক্ষিত আছে। এছাড়া বীরাঙ্গনা হিসেবে তালিকাভুক্তির জন্য প্রাপ্ত আবেদনগুলো যাচাই-বাছাই করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) সুপারিশের আলোকে তাদের মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতি দিয়ে ‘মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে তাদের নামে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি চলমান।

মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে প্রাপ্ত তালিকার ভিত্তিতে ইতোমধ্যে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ২৯তম সভার অনুমোদনক্রমে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে ৪১ জন বীরাঙ্গানার নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেট প্রকাশিত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। আরো ৩২ জন বীরাঙ্গনার নামে গেজেট প্রকাশের বিষয়টি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলেও জানান তিনি।

এছাড়াও ১২১টি আবেদন উপজেলা বিশেষ যাচাই-বাছাই কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। ওই কমিটির কাছ থেকে প্রতিবেদন পাওয়া গেলে জামুকার সাব-কমিটির মাধ্যমে রিভিউ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের সভায় উপস্থাপন করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩