বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গাইডলাইন প্রস্তুত

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গাইডলাইন প্রস্তুত

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রনালয় প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গাইডলাইন প্রস্তুত করেছে। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সেবা প্রদানের ন্যূনতম মানদণ্ডসমূহ উল্লেখ করে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গাইডলাইন নির্দেশনায় স্কুল ও শ্রেণীকক্ষের পরিবেশ, সহশিক্ষা কার্যক্রম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি স্কুল পরিদর্শন ও মূল্যায়নে কার্যকারিতা এবং অভিভাবক সম্মেলনের ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। মানদণ্ডের আলোকে শিক্ষা সেবা প্রদান করে সকল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়কে এই মানদণ্ড অর্জন করার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সারাদেশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক স্তরের শিশুদের শেখানোর ক্ষেত্রে শিক্ষকরা কিভাবে যোগাযোগ করবেন প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা গাইডলাইনের মানদণ্ডে তা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় শ্রেণীকক্ষে শিক্ষক শিশুর সাথে যোগাযোগের সময় তাদের চোখে চোখ রাখবেন, নরম সুরে কথা বলবেন, শালীনভাবে অঙ্গভঙ্গি করবেন এবং শিশুদের সাথে সহজবোধ্যভাবে কথা বলবেন, সম্মান প্রদর্শন করে শিশুদের সাথে শিক্ষকদের এমন আচরণের নির্দেশনা দিয়েই প্রাক-প্রাথমিক স্তরে পাঠদানের ন্যূনতম মানদণ্ডের অনুমোদন দিয়েছে। গাইডলাইনে মানদণ্ডের ৩৭ ক্ষেত্র ও উপাদান উল্লেখ করে প্রথমেই বলা হয়, তৃতীয় প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির একটি উল্লেখযোগ্য এবং অগ্রাধিকারভিত্তিক কার্যক্রম হলো প্রাক-প্রাথমিক। জাতীয় শিক্ষা নীতির আলোকে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী চালু করা হয়েছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড প্রণীত এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনুমোদিত কারিকুলামের আলোকে সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শেখন-শেখানো সামগ্রী বিনামূল্যে বিতরণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই ৩৭ হাজার ৬৭২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একজন করে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে সরকারী শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়ন করা হয়েছে। অবশিষ্ট বিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণী অবস্থিত হতে হবে উল্লে খ করে মানদণ্ডে বলা হয়েছে, স্কুলের প্রাঙ্গণ হবে পরিষ্কার, সমতল ও জলাবদ্ধতামুক্ত। শ্রেণীকক্ষের বাইরে খেলাধুলার জায়গা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করতে হবে।

সূত্র জানায়, গাইডলাইনের মানদণ্ডের আলোকে ৩০ শিক্ষার্থীর জন্য কমপক্ষে ২৫০ বর্গফুট শ্রেণীকক্ষ ও তার পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হবে। প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র, বসার জায়গা রাখা, পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা বিষয়ক ঝুঁকিমুক্ত এবং স্কুলে ফার্স্ট এইড কিট বক্স রাখা বাধ্যতামূলক। জাতীয় শিক্ষাক্রম অনুসারে স্কুলে সকল উপকরণ সরবরাহ ও সংরক্ষণ, শ্রেণীকক্ষে সৃজনশীল কাজ প্রদর্শনের ব্যবস্থা রাখা এবং শিখন কার্যক্রমের সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ বেলা আড়াইটা পর্যন্ত। প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিখন চাহিদাকেও গুরুত্ব দিয়ে ক্লাস রুটিন তৈরি করতে হবে। তাছাড়া ইতিবাচক নিয়মানুবর্তিতা হিসেবে শারীরিক বা মানসিক কোনো শাস্তি না দিয়ে বা নেতিবাচকভাবে শিক্ষার্থীদের নিয়মতান্ত্রিকতার মধ্যে না রাখার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে মানদণ্ডে। অভিবাদন ও উৎসাহ প্রদান করার ওপর জোর দিয়ে বলা হয়েছে, অভিবাদন একটি দৈনন্দিন চর্চার বিষয় হিসেবে দেখা হবে। শিক্ষক শিশুদেরকে যে কোনো উপলক্ষে প্রশংসা করবেন এবং উৎসাহ প্রদান করবেন। তাছাড়া শিক্ষকের সাথে সম্পর্ক নিয়ে বলা হয়েছে, শিশুরা ক্ষেত্রবিশেষে শিক্ষকের সাথে তাদের অনুভূতি, সমস্যা, প্রতিবন্ধকতা ও শিখন চাহিদার কথা শেয়ার করবে। প্রতি শ্রেণীত একজন করে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক রাখা ছাড়াও শিক্ষক ও তত্ত্বাবধায়কদের প্রশিক্ষণের জন্যও মানদণ্ডে বলা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার গাইডলাইনের মানদন্ডে খেলার ধরন সম্পর্কে বলা হয়, বার্ষিক পরিকল্পনা ও শিখনকর্ম অনুসারে শিশুর শারীরিক, স্কুল ও সূক্ষ্ম পেশীর সঞ্চালনসহ জ্ঞান বৃদ্ধিতে সহায়তা করে এমন খেলা নির্ধারণ করতে হবে। খেলা নির্ধারণের সময় লক্ষ রাখতে হবে, যাতে সৃজনশীল, কল্পনার খেলা ও ইচ্ছেমতো খেলার সমন্বয় থাকে। শিক্ষকরা খেলাধুলায় সহায়তা করবেন। পাশাপাশি  শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে মিথক্রিয়া করার সুযোগ, নেতৃত্বের উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের মোট সময়ের অর্ধেক নানা কাজ ও কথা যেমন- প্রশ্ন করা, ব্যাখ্যা চাওয়ায় নিয়োজিত রাখতে বলা হয়েছে। একক ও দলীয় কাজগুলো কিভাবে করা হবে তাও মানদণ্ডে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে গাইডলাইনে বলা হয়েছে, নিয়মের মধ্যে না থেকে আগ্রহমূলক শিক্ষা ছাড়াও প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের নমনীয় হয়ে শেখাতে হবে। হাজিরা খাতা আপডেট থাকা, শিক্ষার্থীদের মাসিক স্বতন্ত্র মূল্যায়ন, নিয়মতান্ত্রিকভাবে মাসে একবার স্কুল পরিদর্শন ও রিপোর্ট প্রদান, বছরে কমপক্ষে ৬টি অভিভাবক সভা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, ২০১০ সাল থেকে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা চালু হলেও মানদণ্ড ছিল না। এখন প্রণীত হয়েছে। এর মাধ্যমে স্কুলগুলো ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে। এর ফলে শিশুদের জন্য সহনশীল অভিন্ন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা সহজ হবে। তবে এ নির্দেশনা অনুসারে সকল প্রতিষ্ঠান চলছে কি না তা দেখার ওপরই এর সুফল নির্ভর করছে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩