শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৭, ১ পৌষ ১৪২৪

প্রেমের টানে দেশ-ধর্ম ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে শ্রীঘরে তরুণী!

যশোর প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১২ অক্টোবর ২০১৭, বৃহস্পতিবার ০৮:৪৬ পিএম

প্রেমের টানে দেশ-ধর্ম ছেড়ে শ্বশুরবাড়িতে এসে শ্রীঘরে তরুণী!

যশোর: প্রেমের টানে দেশ-ধর্ম ত্যাগ করে প্রেমিকের হাত ধরে শ্বশুরবাড়ির বাড়ির দেশে এসে রেহাই পেল না তরুণী। বেরসিক পুলিশের হাতে আটক হয়ে ঠিকানা হলো শ্রীঘরে (কারাগার)। ধর্ম ত্যাগের আগে ওই তরুণীর নাম ছিল শবনম পারভীন (২২) এবং পরে নাম হয়েছে বুল্টি মণ্ডল।

ওই তরুণীর বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়া থানার মারাকপুর এলাকায়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ পথে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের হাবড়া এলাকায় যায় যশোরের কেশবপুরের বিষ্ণু মন্ডল। সেখানে তার এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে স্থানীয় একটি স্কুলে ভর্তি হয়ে দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে। এরপর সেখানে ইলেট্রিকের দোকানে থাকতেন। ওই দোকানে আসা-যাওযার পথে শবনম পারভীনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পরে কালীঘাটে শাখা সিঁদুর পরে বিয়েও করেছেন বিষ্ণু-বুল্টি। কিন্তু বুল্টির পরিবার বিয়ে মেনে নেয়নি। এজন্য তারা দুজনে অবৈধ পথে বাংলাদেশে চলে আসেন। তবে এ দম্পত্তির পিছু ছাড়েনি পুলিশ। জেলে পাঠিয়েছে দেশান্তরী হওয়া শবনম পারভীন ওরফে বুল্টি মন্ডলকে।

পুলিশ আরো জানায়, বুল্টি মন্ডলের বাড়ি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার হাবড়া থানার মারাকপুর এলাকায়। হাবড়া শ্রী চৈতন্য কলেজের বিএ শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী তিনি। পড়ালেখার ফাঁকে তিনি একটি কোম্পানীর এরিয়া ম্যানেজার ছিলেন। বাবা আতিয়ার রহমান পঞ্চায়েতের সদস্য ও তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা।

বিষ্ণু মন্ডল বলেন, সাত বছর আগে তিনি অবৈধ পথে ভারতে যান। হাবড়ায় আত্মীয়ের বাসা থেকে তিনি স্কুলে ভর্তি হন। দশম শ্রেণি পর্যন্ত লেখা পড়া করেছেন। সেখানে তিনি একটি ইলেট্রিকের দোকানে থাকতেন। ভারতে যাওয়ার পর থেকে শবনম পারভীন ওরফে বুল্টি মন্ডলের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। তারপর ভালোবাসা থেকে বিয়ে।

কেশবপুর থানা হাজতে শবনম পারভীন ওরফে বুল্টি মণ্ডল সাংবাদিকদের জানান, তিন মাস আগে হাবড়ায় তাদের বিয়ে রেজিস্ট্রি হয়। সেখানে ধর্ম কোনো বাধা নয়। কিন্তু নিজের ও স্বামীর নিরাপত্তার কথা ভেবে প্রায় ২ মাস আগে কলকাতা কালিঘাট মন্দিরে গিয়ে শাখা ও সিঁদুর পরেন। নাম দেন বুল্টি মন্ডল। কিন্তু মন্দিরের পুরোহিত তার ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা জানেন না।

এরপর রাতের আঁধারে কাটাতার পেরিয়ে সাতক্ষীরার কলারোয়া হয়ে তারা চলে আসেন স্বামীর বাড়ি যশোরের কেশবপুর উপজেলার সারগদত্তকাটি গ্রামে। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয়। বাবার তিন সন্তানের মধ্যে বুল্টি দ্বিতীয়। এসব কথা বলার সময় তাকে অত্যন্ত দৃঢ়চেতা মনে হচ্ছিল বুল্টিকে। তিনি অন্তঃসত্ত্বা বলেও দাবি করেন।

তিনি বলেন, আমরা দুজন সারা জীবন একসঙ্গে থাকতে চাই। ধর্ম আমাদের কোনো বাধা নয়। সীমানা আইন আমাদের প্রেমে বিচ্ছেদ ঘটাতে পারবে না। তাকে যেন স্বামীর সঙ্গে থাকতে দেয়ার জন্য আইনি সহায়তা দেয়া হয় সেজন্য বাংলাদেশের মানবাধিকার সংস্থার সহায়তা চেয়েছেন।

এদিকে বুল্টির বাবার বন্ধু পরিচয়ে ঢাকার এক ব্যক্তি কেশবপুর থানায় এসেছিলেন। বুল্টি তাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘স্বামী বিষ্ণু মণ্ডলের সঙ্গে ছাড়া কোথাও তিনি যাবেন না।

কেশবপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন জানান, অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অভিযোগে পাসপোর্ট আইনে শবনব পারভীন বুল্টির নামে মামলা দিয়ে বৃহস্পতিবার তাকে যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমএইচএম