রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বছরের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ১১:৩৭ এএম

বছরের শুরুতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি

সোনালীনিউজ ডেস্ক : ইংরেজি বছর ২০১৬ শুরুর দিনেই বাজারে বেড়েছে নিত্য প্রয়োজনীয় সব পণ্যের দাম। জিনিসপত্রের দাম বাড়ায় বাজারে ক্রেতারা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

শুক্রবার (০১ জানুয়ারি) সকালে সরেজমিনে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা, রামপুরা ও মালিবাগ বাজার ঘুরে এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত তিন-চার দিন আগে থেকে চাল, আলু, পেঁয়াজ ও মুরগির দাম একটু বাড়লেও নতুন বছর শুরুর দিনে তা আরেক ধাপ বেড়ে যায়।
তবে বাজারে হঠাৎ করে দাম বাড়ার বিষয়ে বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ করলেও তারা সঠিক কোনো হিসেবে দিতে পারছেন না।

বিক্রেতারা একটি কথাই বলছেন, বেশি দাম দিয়ে কেনায় আমদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তারা যেভাবে পারছেন সেভাবেই দাম হাকাচ্ছেন।
 
বাজারভেদে কেজি প্রতি ৩ থেকে ৫ টাকা দাম বেড়েছে চাল, আলু ও পেঁয়াজে। এছাড়া ফার্মের মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৫০ টাকা বেশি দামে।
 
বছরের প্রথম দিনে ক্রেতাদের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় খুচরা বিক্রেতারা সাময়িক সময়ের জন্য বাড়তি দামে সকল পণ্য বিক্রি করছেন বলে জানান রামপুরা বাজারের মুরগি বিক্রেতা আরিফ। তবে  তুলনামূলক ভাবে দাম বাড়েনি দেশি মুরগির।
 
রাজধানীর বাজারে ফার্মের মুরগি (সাদা) প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৯০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ফার্মের মুরগি (লাল) গত সপ্তাহের থেকে কেজি প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়ে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে বাজারের অন্য পণ্যের সঙ্গে তাল মেলাতেই আলু ও পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন বিক্রেতারা।
 
এক প্রশ্নের জবাবে রামপুরা বাজারের বিক্রেতা হোসাইন বলেন, ‘আগের দামেই আলু, পেঁয়াজ বিক্রি করছি। তবে নতুন বছরের শুরুতে সব কিছুর চাহিদা বেশি থাকায় একটু বাড়তি দাম রাখা হচ্ছে।’
 
রামপুরা বাজারে (দেশি) পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। আর মালিবাগ বাজারে ৪৫ থেকে ৬০ টাকায়, যা গত সপ্তাহে এ সকল বাজারে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তবে উত্তর বাড্ডা বাজারে কিছুটা কমে (দেশি) পেঁয়াজ  ৩৫ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। (বিদেশি) পেঁয়াজ ৩০ থেকে ৩৫ টাকার মধ্যে সব বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
 
এদিকে আলু (নতুন) গত সপ্তাহের থেকে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি দামে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
তবে চালের দাম বাড়ার পেছনে অন্য কাহিনী রয়েছে। বাধ্যতামূলক চটের বস্তা ব্যবহার করতে হবে সরকারের এমন নির্দেশ আসার পর থেকেই খুচরা ও পাইকারি বাজারে চালের দাম বেড়ে যায়।

গত তিন-চার দিন আগে থেকে চাল কেজি প্রতি তিন থেকে পাঁচ টাকা বাড়তি দামে বিক্রি হলেও চালের বাজারে বিরাজ করছে অস্তিরতা। এক দোকানের সঙ্গে অন্য দোকানে দামেও রয়েছে ভিন্নতা।
 
রাজধানীর বাজারে মিনিকেট চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায়, মোটা চাল (স্বর্ণা) ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, পাইজাম ৩২ থেকে ৩৫ টাকা, কাটারিভোগ ৬৫ থেকে ৭০, আঠাশ ৩৮ থেকে ৪২, উনত্রিশ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
 
বাড়তি দামের কারণ কী এমন প্রশ্নের জবাবে একাধিক খুচরা চাল বিক্রেতা জানান, পাটের বস্তার কারণে কেজি প্রতি এক টাকা বাড়িয়েছেন আড়ৎদাররা। তাহলে বস্তা প্রতি বেড়ে যাচ্ছে ৪০ টাকা।
 
এখনও নির্দিষ্ট কোনো দাম ঠিক করেনি চাল বিক্রেতা সমিতি, যে কারণে সকল পর্যায়ের ব্যাবসায়ীরা ইচ্ছে মতো দামে চাল বিক্রি করছে বলে জানান রামপুরা বাজারে চাল বিক্রেতা আওলাদ।
 
এক শ্রেণির অসাধু খুচরা বিক্রেতারা বিভিন্ন দামে চাল বিক্রি করে বাজার অস্তির করেছেন এমন অভিযোগ তুলে উত্তর বাড্ডার চালের আড়ৎদার আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন চাল বাজারে আসা শুরু করলেই দাম কমবে।’

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩