শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০১৭, ১০ চৈত্র ১৪২৩

বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে কেন?

সোনালীনিউজ ডেস্ক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

বজ্রপাতে মৃত্যু বাড়ছে কেন?

গত দুদিন দেশে বজ্রপাতে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা আগের তুলনায় বেড়েছে বলে মনে করছে বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। খবর বিবিসির।

অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ বছর এখনও পর্যন্ত বজ্রপাতে অন্তত ৮০ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার একদিনেই বজ্রপাতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রপাতে ৩৫ জন মারা গেছে। যদিও স্থানীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম বলছে মৃতের সংখ্যা ৪০ জনের বেশি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ রুবাইয়াত কবির বলেন, বজ্রপাতে মানুষ মারা যাবার সংখ্যা যেমন বাড়ছে তেমনি বজ্রপাতের প্রবণতাও বেড়েছে। এর মধ্যে উত্তরাঞ্চল এবং উত্তর পশ্চিমাঞ্চল অন্যতম। গ্রীষ্মকালে এ অঞ্চলে তাপমাত্রা বেশি থাকায় এ পরিস্থিতির তৈরি হয়।

 

তিনি বলেন, যেসব এলাকায় গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে সেসব এলাকায় যে মেঘের সৃষ্টি হয়, সেখান থেকেই বজ্রপাতের সম্ভাবনা থাকে। বজ্রপাত বেড়ে যাবার কারণ কী সেটি নিয়ে বাংলাদেশে বিস্তারিত কোন গবেষণা নেই। তবে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন গবেষক এর নানা কারণ তুলে ধরেন।

কোন কোন গবেষক বলেন, তাপমাত্রা এক ডিগ্রি বাড়লে বজ্রপাতের সম্ভাবনা ১০ শতাংশ বেড়ে যায়। পৃথিবীর যে কয়েকটি অঞ্চল বজ্রপাতপ্রবণ তার মধ্যে দক্ষিণ-এশিয়া অন্যতম।

উন্নত দেশগুলোতে বজ্রপাতে মানুষের মৃত্যু কমলেও বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এ সংখ্যা বাড়ছে। বাংলাদেশে বজ্রপাতে যারা মারা যাচ্ছেন তাদের বেশিরভাগই মাঠে কাজ করেন।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের মহাপরিচালক রিয়াজ আহমেদ বলেন, বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা কমিয়ে আনতে সচেতনতা দরকার।

তিনি বলেন , “আশেপাশে যদি কোন উঁচু গাছ থাকে সেখান থেকে দূরে থাকা। টিনের ছাদ এড়িয়ে চলা। উপরে ছাদ আছে এমন জায়গায় চলে আসা।” তিনি বলেন বজ্রপাতের সময় বিদ্যুতের খুঁটি ও টাওয়ার থেকে দূরে থাকতে হবে।

বন্যা এবং সাইক্লোনের মতো দুর্যোগের ক্ষেত্রে কিছু প্রস্তুতি নেবার সুযোগ থাকলেও বজ্রপাতের বিষয়টি ভূমিকম্পের মতোই আকস্মিক। কিন্তু তারপরেও মেঘের আনাগোনা দেখে বজ্রপাতের সম্ভাবনা সম্পর্কে খানিকটা ধারণা করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রনিক অ্যান্ড ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. এ এইচ এম আসাদুল হক।

তিনি বলেন, “ বিশেষ করে যখন দেখা যায় বৃষ্টি হতে যাচ্ছে এবং মেঘ দ্রুত মুভমেন্ট (চলাচল) হচ্ছে তখন ইলেকট্রন সঞ্চিত হয় বেশি। তখনই সাধারণত আমরা বুঝতে পারবো। প্রাথমিক পর্যায়ে ঐ সময়ে বজ্রপাত বেশি হয়।”

তিনি বলেন, এ সময় খোলা জায়গায় না থেকে যতটা সম্ভব ঘরের ভেতরে থাকা উচিত।

বজ্রপাতে মৃত্যুর বিষয়টিকে বাংলাদেশে এতদিন তেমন একটা গুরুত্ব দেয়া হয়নি। কর্মকর্তারা বলছেন, বাংলাদেশে বজ্রপাতে মৃতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে তাতে বিষয়টিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/এমএইউ

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ২৪ মার্চ, ২০১৭, ১০ চৈত্র ১৪২৩