বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বাংলাদেশও কি জিকা ভাইরাসের ঝুকিঁতে?

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

বাংলাদেশও কি জিকা ভাইরাসের ঝুকিঁতে?

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়া H1N1 ভাইরাস, যা এখন সোয়াইন ফ্লু নামে পরিচিত, ২০০৯ সালের জুনে মেক্সিকো থেকে বাংলাদেশে পৌঁছাতে সময় লেগেছিল দুই মাস। সে সময় উৎকণ্ঠিত লোকজনকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে ভিড় করতে দেখা যায়। আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ তখন ওই ভাইরাসে আক্রান্ত হন, যাদের অন্তত আটজনের মৃত্যু হয়। এই অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশিরা এখন ভয়ে আছেন জিকা ভাইরাসের। কিন্তু বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জিকা ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশে শঙ্কার কিছু নেই।

তাদের ভাষ্যমতে, সতর্কতা অবলম্বন করলেই এ ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব। জিকা ভাইরাস ডেঙ্গুর মতো একধরনের জ্বর। লক্ষণ হিসেবে শরীরে জ্বর থাকে, অস্থিসন্ধিতে ব্যথা থাকে। বিশেষ করে হাত এবং পায়ের জয়েন্টে বেশি ব্যথা হয়। গায়ে ফুসকুঁড়ি থাকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, জিকা ভাইরাস প্রতিরোধে তারা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জিকা ভাইরাস নিয়ে বাংলাদেশের সতর্কতামূলক ব্যবস্থার বিষয়ে এরই মধ্যে সংক্রামক ব্যাধির বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বৈঠকে বসেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক আবুল খায়ের মো. শামসুজ্জামান এ তথ্য জানান। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সতর্কতা জারির পর স্বাস্থ্য অধিদফতর এ বৈঠক ডেকেছে।
 
বাংলাদেশ সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের  (আইইডিসিআর) পরিচালক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, আমাদেও দেশে জিকার পোষক রয়েছে। তবে ভাইরাসটি নেই। আমরা সতর্ক রয়েছি, যেমনটি সব সময় থাকি। যেসব দেশে জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে সেগুলোতে বাংলাদেশিদের খুব বেশি যাতায়াত নেই বলে জানান অধ্যাপক মাহমুদুর। এরপরেও ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনো অনুমান কাজে খাটে না বলে জিকা চলে আসতে পারে। তবে এরজন্য সময় নেবে। জিকা ভাইরাসের কোনো ওষুধ বা ভ্যাকসিন না থাকায় সতর্কতা মেনে চলার পরামর্শ দেন আইইডিসিআর’র পরিচালক। মশার কামড় থেকে এড়িয়ে চলা এবং এর বংশবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জিকা ভাইরাসের লক্ষণ সবসময় স্পষ্ট থাকে না। প্রতি পাঁচজন রোগীর মধ্যে একজনের হালকা জ্বর, চোখে লাল হওয়া বা কালশিটে দাগ পড়া, মাথা ব্যথা, হাড়ের গিঁটে ব্যথা ও চর্মরোগের লক্ষণ দেখা যায়। জিকা ভাইরাস বহনকারী মশা দিনের বেলাতেও কামড়ায় বলে বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত হয়েছেন। ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, এটি নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। তবে, সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। আফ্রিকায় এটি এই সময়ের একটি বড় সমস্যা।

যেসব নারী গর্ভবতী হতে চান, তাদের সাবধান থাকতে হবে। যদি বাংলাদেশ থেকে ওখানে কেউ যান এবং গর্ভবতী হন, তাহলেই কেবল আতঙ্কের বিষয় আছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) সামিউল ইসলাম সাদী বলেন, জিকা ভাইরাস তো এখনও নেই বাংলাদেশে। এডিস মশা তো আছেই। বিষয়টা এমন যে, ওইসব এলাকায় যারা ভ্রমণ করছেন, তাদেরই এই আশঙ্কা রয়েছে। তবু সর্তকতার একটা বিষয় রয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি এবং ব্যবস্থাপনা রয়েছে। ভয়ের কিছু নেই।

ভাইরাসটির সংক্রমণ ঘটেছে এমন কোন রোগীকে এডিস মশা কামড়ানোর মধ্যে দিয়ে এটি স্থানান্তরিত হয়। পরে ঐ মশা অন্যদের কামড় দিলে তা ছড়াতে থাকে। তবে সবচেয়ে উদ্বেগজনক যে তথ্যটি উঠে এসেছে তা হল গর্ভবতী মায়েরা জিকা ভাইরাসে আক্রান্ত হলে শিশুটি মাইক্রোসেফালি বা ছোট আকৃতির মাথা ও ক্ষতিগ্রস্থ  ব্রেইন নিয়ে ভূমিষ্ঠ হতে পারে। সূত্র মতে, জিকা ভাইরাস প্রথম আফ্রিকাতে শনাক্ত হয় বানরের শরীর থেকে। কিন্তু কখনও সেটি মহামারি আকারে ছড়ায়নি। তবে, নতুন করে গত বছরের মাঝামাঝি ব্রাজিলে ভাইরাসটি শনাক্ত হয়। এরইমধ্যে ব্রাজিলসহ আশেপাশের ২৩টি দেশে ছড়িয়েছে এই ভাইরাস। জিকার কোনও প্রতিষেধক এখনও আবিষ্কার হয়নি। মাইক্রোসেফালিতে (অস্বাভাবিক আকৃতির মাথা নিয়ে জন্ম নেওয়া) আক্রান্ত শিশুদের জন্মের হার বাড়তে থাকায় নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে সংস্থাটি। তবে ভাইরাসটি মোকাবেলায় ডব্লিউএইচও একটি জরুরি টিম গঠন করেছে। সংস্থার হিসেবে, এ বছরের শেষ নাগাদ জিকা ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হতে পারে ৪০ লাখ মানুষ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, উত্তর আমেরিকার দেশগুলোয় জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছে এবং তা ছড়াচ্ছে দ্রুতগতিতে। সংক্রমণটি মোকাবেলায় গোটা বিশ্বকে এক হতে হবে।

গত বছর ইবোলার সংক্রমণ ঠেকাতে ডাব্লিউএইচও যে সতর্কতা জারি করেছিল, এবার সেই একই মাত্রার সতর্কতা জারি করেছে। এর মানে হল, সংক্রমণ প্রতিরোধের উপায় খুঁজতে গবেষণার গতি বাড়ানো হবে এবং প্রয়োজনীয় অর্থের সংস্থান করা হবে। ডব্লিউএইচও মতে, ব্রাজিলসহ মোট ২৩টি দেশে এখন পর্যন্ত জিকার সংক্রমণ ঘটেছে এবং এটি আরও বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেই সূত্রে, বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা অভয় দিলেও এব্যাপারে সতর্ক থাকার বিষয়টিও গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করেছেন।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩