রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু

অর্থনীতি ডেস্ক

দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে রিজার্ভের একাংশ ফিরিয়ে দিতে চায় ফিলিপাইন।
ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট তৃতীয় অ্যাকুইনো ক্ষমতা ছাড়ছেন আগামী ৩০ জুন। হাতে থাকা ওই দুই মাস সময়ের মধ্যেই ফিলিপাইনে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া রিজার্ভের জব্দকৃত অংশ বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়ার আশা প্রকাশ করছে দেশটি। সাইবার ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে জব্দের নির্দেশ দেওয়ার মধ্য দিয়ে এরই মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে তারা। তবে ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারার জানিয়েছে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশকে ওই অর্থের আনুষ্ঠানিক মালিকানা দাবি করতে হবে এবং দীর্ঘ একটি আইনি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাকড করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে হ্যাকাররা ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ চুরি করে। এরপর ওই অর্থ ফিলিপাইনের আরসিবিসি ব্যাংকের জুপিটার ব্রাঞ্চের চারটি অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়। পরে ওই অর্থ পাঠানো হয় ফিলিপাইনের কয়েকটি ক্যাসিনোতে। সেই টাকার মধ্যে গত ৩১ মার্চ ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং এর আইনজীবীরা প্রথম দফায় ৪ দশমিক ৬৩ মিলিযন ডলার এবং গত ৪ এপ্রিল ৩৮ দশমিক ২৮ মিলিয়ন পেসো এএমএলসিকে ফেরত দিয়েছিলেন। শিগগিরই কিম অং ২৫০ মিলিয়ন পেসো ফেরত দেবেন বলে কথা রয়েছে।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাংকে সাইবার ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন সব ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন আগামী ২০ দিনের জন্য স্থগিতের নির্দেশ দেয় ফিলিপাইনের একটি আদালত। ফিলিপাইনের সংবাদমাধ্যম ইনকোয়ারার জানিয়েছে, এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশকে চুরি যাওয়া অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলো। এর আগে ফিলিপাইনের অ্যান্টি-মানি লন্ডারিং কাউন্সিল গত ১৮ এপ্রিল সম্পদ জব্দের জন্য আদালতের আদেশ চেয়ে একটি পিটিশন দায়ের করে।
পিটিশনে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং, ইস্ট হাওয়াই লেজার কোম্পানি, সেঞ্চুরিটেক্সট ট্রেডিং, রিজাল কমার্সিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন (আরসিবিসি) এবং ফিলিপাইন ন্যাশনাল ব্যাংক (পিএনবি) এর সম্পদ জব্দের আদেশ প্রার্থনা করা হয়। পিটিশন দায়েরের পাশাপাশি মার্চের শুরুতে চুরি যাওয়া অর্থের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের আদেশ দিয়েছিল এএমএলসি। তবে এএমএলসি অ্যাকাউন্ট জব্দের আদেশ দিলেও ৫ এপ্রিল সিনেট ব্লু রিবন কমিটির শুনানিতে প্রশ্ন ওঠে বাংলাদেশকে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে এএমএলসির এখতিয়ার নিয়ে। তখন সিনেট ব্লু রিবন কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর তেওফিস্তো গুইনগোনা জানান, এএমএলসি আদালতের আদেশ চেয়ে একটি দেওয়ানি বাজেয়াপ্তকরণের মামলা দায়ের করবে। এর মাধ্যমে ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং-এর কাছ থেকে ফেরত পাওয়া অর্থ বাজেয়াপ্ত করে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা সম্ভব হবে। সেই ধারাবাহিকতায় এএমএলসির ১৮ এপ্রিলের পিটিশনের সাপেক্ষে এবার আদালতের আদেশে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টগুলো জব্দের নির্দেশ দেওয়া হলো।
সাময়িক জব্দকৃত অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে ফিলিপিন্স ন্যাশনাল ব্যাংকে (পিএনবি) অংয়ের ৪ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন পেসোর অ্যাকাউন্ট, একই ব্যাংকে ক্যাসিনো অপারেটর ইস্টার্ন হাওয়াই লেইজার কোম্পানি লিমিটেডের ৫ দশমিক ৭৪ মিলিয়ন পেসোর অ্যাকাউন্ট এবং রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনে (আরসিবিসি) ব্যবসায়ী উইলিয়াম গোর নামে থাকা ১৯ হাজার ৯৮৩ পেসোর অ্যাকাউন্ট। আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে টাকাগুলো সরিয়ে ফেলা, স্থানান্তর করা, লুকিয়ে রাখার সম্ভাবনা জোরালো হয়ে ওঠায় সম্পদ জব্দের অতিরিক্ত এ আদেশ জারি করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন আদালত।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে পরবর্তী ২০দিন সংশ্লিষ্ট অ্যাকান্টের লেনদেন, সেখান থেকে টাকা তোলা, স্থানান্তর, ভিন্ন মুদ্রায় রূপান্তরসহ এ সংক্রান্ত কোনও কাজ করা যাবে না। ক্যাসিনো ব্যবসায়ী কিম অং এরইমধ্যে চুরি যাওয়া অর্থের যে পরিমাণ অর্থ দেশটির মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ কাউন্সিলকে ফেরত দিয়েছেন তাও সম্পদ জব্দের এ আদেশের আওতায় রয়েছে।
তবে সাইবার ডাকাতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টের লেনদেন আগামী ২০ দিনের জন্য স্থগিতের মাধ্যমে সম্পদ জব্দের প্রক্রিয়া শুরু হলেও অর্থ ফেরত পেতে বাংলাদেশকে আরও বেশ কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অনুসরণ করতে হবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। ইনকোয়ারের প্রতিবেদনে বলা হয়, অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য ওই মামলায় বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে এবং অর্থের মালিকানা দাবি করতে হবে। তা না হলে এ অর্থ ফিলিপাইন প্রজাতন্ত্রের সম্পত্তি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তবে ফিলিপাইনের অর্থবিষয়ক কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতে দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের কথা ভাবছেন না। তারা মনে করছেন, কিম অং স্বেচ্ছায় অর্থ ফেরত দেবেন এবং বাংলাদেশকে অর্থ ফেরতে কেউ আপত্তি করবে না।
ইনকোয়ারারের খবরে বলা হয়, ম্যানিলা রিজিওনাল ট্রায়াল কোর্টের নির্বাহী বিচারপতি রিনাল্ডো এ. আলহামব্রা আগামী ২ মে সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে সম্পদ জব্দের ব্যাপারে শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন। কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়ার ইস্যুটি জড়িত থাকার কারণে এ শুনানি বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হবে।
ফিলিপাইনে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই বাংলাদেশের সব টাকা ফেরত দেওয়া সম্ভব হবে এমন আশা জানিয়ে দেশটির সিনেট প্রেসিডেন্ট রাল্ফ রেক্টো। এক বিবৃতিতে রেক্টো বলেছেন, ‘এটা আমাদের জাতীয় সময়সীমা হওয়া উচিত। প্রেসিডেন্ট অ্যাকুইনো ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে যাওয়ার আগেই চুরি হওয়া অর্থের যে পরিমাণ উদ্ধার করা সম্ভব তা সঠিক মালিকের কাছে ফেরত যাওয়া প্রয়োজন।’ উল্লেখ্য, ফিলিপাইনের বর্তমান প্রেসিডেন্ট অ্যাকুইনো আগামী ৩০ জুন ক্ষমতা ছাড়ার আগেই বাংলাদেশকে অর্থ ফেরত দেওয়ার আশা করছে ফিলিপাইন। সূত্র: ইনকোয়ারার

সোনালীনিউজ/এইচএআর

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩