রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ

বিশেষ প্রতিনিধি

বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশই বর্তমানে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রদানে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। ইতিপূর্বে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার ব্যাপারে কিছুটা কড়াকড়ি থাকলেও এখন সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারেরও ভিসাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি জরুরি চিকিৎসার জন্য বর্তমানে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের ভিসাও বাংলাদেশিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।  সহজসাধ্য নয়। দেশের একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বেও কয়েকটি দেশ বর্তমানে বাংলাদেশিদের ভিসা প্রদানের ক্ষেত্রে কিছুটা কড়াকড়ি আরোপ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিগত দু’মাস ধরেই বাংলাদেশীদের থাইল্যান্ডের ভিসা পেতে সমস্যা হচ্ছে। অথচ আগে যেখানে ৫-৭ দিনে ভিসা পাওয়া যেতো এখন এক মাসেও তা পাওয়া যাচ্ছে না। বরং থাইল্যান্ড দূতাবাসে পাসপোর্ট জমা দেয়ার পর দীর্ঘ সময় ধওে ওই পাসপোর্টও ফেরত দিচ্ছে না। আর ভিসা ছাড়াই পাসপোর্ট ফেরত চাইলে বলা হচ্ছে ভিসা প্রক্রিয়াধীন আছে, অপেক্ষা করুন। থাইল্যান্ড দূতাবাসে বিগত দু’মাস ধরে রাষ্ট্রদূত নেই। তাছাড়া আগে ঢাকায় থাইল্যান্ড দূতাবাস থেকেই ভিসার সিদ্ধান্ত দেয়া হতো। এখন ওই সিদ্ধান্ত আসছে ব্যাংকক থেকে। ফলে গত দু’মাসে প্রায় ২৫ হাজার ভিসার আবেদন জমা পড়েছে। তার মধ্যে মাত্র দেড় হাজার জন ভিসা পেয়েছেন। আর প্রায় ১০ হাজারের মতো ভিসা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই দীর্ঘসময় আটকে রাখা হয়েছে। আবার অনেকের পাসপোর্ট তিন সপ্তাহ থেকে এক মাস আটকে রেখে ভিসা না দিয়েই ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, থাইল্যান্ড সরকার গত আগস্টে ব্যাংককে একটি বৌদ্ধ ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার পর ভ্রমণ ভিসার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে নির্দেশনা দিয়েছে। একই সাথে যেসব দেশের বেশিসংখ্যক অবৈধ অভিবাসী সেদেশে রয়েছে সেসব দেশের নাগরিকদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রেও কঠোর হওয়ার নির্দেশনা আছে। এই কারণেই বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা পেতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকায় দীর্ঘসময় রাষ্ট্রদূত না থাকায়ও সংকট আরো বেড়েছে। ভিসার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের একই ধরনের জটিলতায় পড়তে হচ্ছে সিঙ্গাপুরের ভিসার ক্ষেত্রেও। কিছুদিন আগে জঙ্গি সন্দেহে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিককে সিঙ্গাপুরের পুলিশ গ্রেপ্তারের পর বাংলাদেশি নাগরিকদের ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। আগে চিকিৎসকের সাথে সাক্ষাতের সময়সূচির প্রমাণপত্র দিলে সহজে ভিসা দেয়া হতো। কিন্তু বর্তমানে চিকিৎসার জন্য ভিসার ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। গত ৩-৪ মাসে সিঙ্গাপুরের ভিসা প্রার্থীদের প্রায় ৮০ শতাংশের আবেদনই প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় সিঙ্গেল এন্ট্রি ট্যুরিস্ট ভিসা এয়ারলাইন্সের রিটার্ন টিকিট এবং কোথায় কতো দিন থাকবে তার সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে দেয়া হচ্ছে। তবে কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে। ব্যাংক ব্যালেন্সের তথ্য এবং অন্যান্য কাগজপত্রও সময় নিয়ে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। ফলে ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে দুই থেকে তিন সপ্তাহ সময় লেগে যাচ্ছে। তাছাড়া বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং কাতারের ভিসা পাওয়াও বাংলাদেশিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে। ঢাকায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা সেন্টার খোলা হলেও ভিসা পেতে দীর্ঘসময় লাগছে। আর অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ভিসা দেয়া হচ্ছে না। তাছাড়া সৌদি আরবে ওমরাহ ভিসার আবেদনের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশ আবেদনকারী ভিসা পাচ্ছেন না। পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের ভিসা নিয়েও জটিলতা কাটেনি। নতুন করে ইতালি, ফ্রান্সের ভিসা পাওয়া নিয়েও সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। দিল্লিতে ভিসা সেন্টার স্থানান্তরের পর যুক্তরাজ্যের ভিসা প্রত্যাখ্যানের হার বাড়তে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রেই ভিসা দেয়া হচ্ছে না। ২০ শতাংশ ক্ষেত্রে এক মাসের অধিক সময় নিয়ে ভিসা দেয়া হচ্ছে। এসব কারণে অনেকেই পূর্বনির্ধারিত ফ্লাইট সিডিউল অনুযায়ী ভ্রমণ করতে পারছেন না। তাছাড়া বর্তমানে ইতালির ভিসা নিয়েও বড় ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। ভিসার আবেদনের পর তিন থেকে চার মাস পর্যন্ত পাসপোর্ট আটকে রাখা হচ্ছে। ভিসাপ্রার্থীরা ভিসা ছাড়া পাসপোর্ট ফেরত চাইলেও দেয়া হচ্ছে না। তবে ইতালিসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশের ভিসার ক্ষেত্রে দালালচক্র সক্রিয় রয়েছে। ওই চক্রকে তাদের চাহিদা মতো টাকা না দিলে ভিসা প্রক্রিয়াধীন আছে জানিয়ে পাসপোর্ট দীর্ঘ সময় আটকে রাখে। প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে হাতেগোনা দু'একজন ছাড়া অধিকাংশই ফ্রান্সের ভিসা পায়নি।

এদিকে ভিসা নিয়ে জটিলতা নিরসনে থাইল্যান্ডে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করে সেদেশের কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ভিসা দেয়া নিয়ে সমস্যা দ্রুত নিরসনে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশিদের বিভিন্ন দেশের ভিসা পাওয়া নিয়ে সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, যেসব দেশে অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা বেশি সেসব দেশে ভিসার ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপ করা হচ্ছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে সংকট সমাধানে চেষ্টা চালাচ্ছে। আশা করা যায় ভিসা পাওয়া নিয়ে সমস্যা দ্রুতই কমে যাবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩