শনিবার, ২৫ নভেম্বর, ২০১৭, ১০ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

বাংলাদেশ-ভারতের ৫ রুটে নিয়োগের টেন্ডারে স্থিতাবস্থা জারি

আদালত প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, বুধবার ১২:৫৯ পিএম

বাংলাদেশ-ভারতের ৫ রুটে নিয়োগের টেন্ডারে স্থিতাবস্থা জারি

ঢাকা: ভাড়া নির্ধারণ না করে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে ৫টি রুটে বাস অপারেটর নিয়োগ দেওয়া টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (১৩সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে করা এক আবেদনের শুনানি করে বিচারপতি মো. রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ’র অবকাশকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার এ বি এম আলতাফ হোসেন। সঙ্গে ছিলেন এ আর এম কামরুজ্জামান, অর্পণ চক্রবর্তী ও শুভজিত ব্যানার্জি। বিআরটিসির পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো.মনিরুজ্জামান।

পরে এবিএম আলতাফ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইনের ১৫ ধারা অনুসরণ না করেই টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়। তাই ওই টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা জারি করেছেন হাইকোর্ট। এখন এটা নিয়ে আর কোনো কার‌্যক্রম চালানো যাবে না।

আদালতে আবেদনকারী যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতের আন্তজার্তিক বাস রুটে সরকার টু সরকার সম্পাদিত প্রটোকলের শর্ত অনুযায়ী ঢাকা-কোলকাতা-ঢাকা রুটে নাস্তাসহ ১১ ডলার (প্রায় ৯২০ টাকা) ভাড়া আদায়ের কথা থাকলেও সরকারী পরিবহন সংস্থা বিআরটিসিসহ সকল বেসরকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ১৭০০ থেকে ২০০০ টাকা হারে ভাড়া আদায় করছে।

এতে এই রুটে প্রতিদিন যাতায়াত কারী প্রায় ৮০০০ যাত্রীর স্বার্থ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। এই বাস রুটটি চালুর পর ব্যাপক জনপ্রিয়তা হওয়ায় পরবর্তীতে আগরতলা-ঢাকা-কোলকাতা-ঢাকা-আগরতলা, ঢাকা-খুলনা-কোলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট-শিলং-গোয়াহাটি-ঢাকা রুট সমূহ চালু হলে এসব রুটে এসি/নন এসি বাসের ভাড়া নির্ধারিত না থাকায় অপারেটর প্রতিষ্ঠান সমূহ ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করছে।

মোজাম্মেল হক বলেন, গত ৪ জুলাই দৈনিক যুগান্তর পত্রিকায় প্রকাশিত একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তিতে ৫টি রুটে সমূহে অসম প্রতিযোগীতা মূলকভাবে অপারেটর নিয়োগের কথা বলা হয়েছে। ভাড়া নির্ধারণ না করে এ বিজ্ঞপ্তি চলমান ভাড়া নৈরাজ্যকে আরো বেশী উস্কে দিবে। এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আগে ৫ টি রুটে ১৯৯৯ সালের উভয় দেশের মধ্যে সম্পাদিত প্রটোকলের শর্তানুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করে প্রজ্ঞাপন জারী করে টেন্ডার কার্যক্রম সম্পাদন করতে হবে। এর জন্য ১৩ জুলাই সরকারকে চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু সরকার তা নিষ্পত্তি না করায় হাইকোর্টে রিট করি।

ওই রিটের পর হাইকোর্ট ২৩ জুলাই ভাড়া নির্ধারণ না করে দুই বছরের জন্য বাংলাদেশ-ভারতের সঙ্গে ৫টি রুটে বাস অপারেটর নিয়োগে দেওয়া টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি কেন বেআইনি হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

একইসঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক বাস রুটে প্রটৌকলের শর্ত লংঘন করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে’ সরকারের কাছে যাত্রী কল্যাণ সমিতির করা আবেদন এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।

ব্যারিস্টার আলতাফ হোসেন বলেন, হাইকোর্টের ওই আদেশের পরে ০২ আগস্ট একটি চিঠি দিয়ে আবেদন নিষ্পত্তি করার কথা মোজাম্মেল হককে জানায় বিটিআরসি। এর মধ্যে ৩০ আগস্ট টেন্ডার ওপেনিং কমিটির মিটিং করে বিআরটিসি। ওই মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে টেন্ডারে অংশগ্রহণকারীদের ২টি বাস নিয়ে মতিঝিল ডিপোতে হাজির থাকতে বলা হয়।

কিন্তু আইন অনুসারে ভাড়া নির্ধারণ না করে এ ধরণের টেন্ডার প্রক্রিয়া সঠিক নয় বলে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করে মোজাম্মল হক। আদালত আবেদনের শুনানি নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ার ওপর এক মাসের স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। এখন আদেশের ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো কার‌্যক্রম গ্রহণ করা যাবে না বলে জানান আলতাফ হোসেন।


সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue