বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বাজার নিয়ন্ত্রণে অসাধু সিন্ডিকেট, কিনে নিচ্ছে ভর্ত

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

বাজার নিয়ন্ত্রণে অসাধু সিন্ডিকেট, কিনে নিচ্ছে ভর্ত

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

অধিক মুনাফার লোভ বাজার নিয়ন্ত্রণ সরকারের ভর্তুকি দেয়া টিএসপি ও ডিএপি সার কিনে নিচ্ছে অসাধু সিন্ডিকেটের সদস্যরা। ভর্তুকির কারণ কৃষক কৃষিখাতে দেশে উৎপাদিত ট্রিপল সুফার ফসফেট (টিএসপি) সার প্রতি বস্তা ১১শ’ টাকা এবং ডাই এমোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার সাড়ে ১২শ’ টাকায় পাওয়ার কথা।

কিন্তু বাস্তব দেশের কোথাও ওই দামে টিএসপি ও ডিএপি সার পাওয়া যায় না। বরং সরকারর ভর্তুকি দেয়া সারের বাজার অসাধু সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। ফলে প্রতি বস্তা টিএসপি ১১’শ টাকার বদলে ১৬শ’ থেকে সাড়ে ১৬শ’ টাকা বিক্রি হচ্ছে আর ডিএপি সাড় ১২শ’ টাকার বিপরীতে বিক্রি হচ্ছে ১৮শ’ টাকা থেকে ১৯শ’ টাকা বস্তা। একটি গোয়েন্দা সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, শক্তিশালী  অসাধু সার সিন্ডিকেটের সাথে চট্টগ্রামের টিএসপি সার কমপ্লেক্সে অবস্থিত ডিএপি সার কারখানার কিছু অসাধু কর্মকর্তা জড়িত। ইতিমধ্যে সরকারের একটি গোয়েন্দা সংস্থা তদন্তে ওই সিন্ডিকেট বছরে ৬ কোটি টাকার বেশি হাতিয়ে নেয়ার চিত্র বেরিয়ে এসেছে। তার সঙ্গে স্থানীয় একাধিক সিন্ডিকেট সরাসরি জড়িত। গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন দফতরে সুপারিশ করা হয়েছে করেছে।

সূত্র জানায়, সরকার অনুমোদিত ডিলারদের কাছে প্রতি বস্তা টিএসপি সার ১১শ’ টাকায় বিক্রি করে। আর ডিএপি বিক্রি করে ১২৫০ টাকায়। এই বরাদ্দপত্র চট্টগ্রামের রাঙ্কুনিয়ায় অবস্থিত টিএসপি কমপ্লেক্স ও ডিএপি সার কারখানায় নিয়ে গেলে গোডাউন থেকে ডিলারকে বরাদ্দের সমপরিমাণ সার দেয়া হয়। প্রত্যেক জেলা, থানা বা উপজেলার জন্য সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় ও কৃষি অধিদফতরের অনুমোদিত ওই ডিলাররা নিজ নিজ পরিবহন করে এলাকায় সে সার নিয়ে যায়। নিজ জেলার কৃষকের মধ্যে ডিলারদের এই সার বিক্রি করার নিয়ম রয়েছে এবং সারাদেশে এরকম ৫ হাজার ৪০০ জন ডিলার রয়েছে।

সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামের গুটিকয়েক ব্যক্তি নিয়ে গঠিত একটি সিন্ডিকেটই সারাদেশের ডিলারদের নিয়ন্ত্রণ করছে। ডিলারদের কাছ থেকে সারের বরাদ্দপত্র কিনে নেয়। তারপর অভিক মুনাফার জন্যে বাজারে কৃত্রিমভাবে সার সঙ্কট সৃষ্টি করে তা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়। কিন্তু কিন্তু সার ব্যবসায়ীরা যখন সার তুলতে যান তখন তাদের প্রত্যেকে প্রতি বস্তায় ৫ টাকা করে প্রভাবশালী ওই সিন্ডিকেটের সদস্যদের চাঁদা দিতে হয়। 

চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স থেকে বছরে ১ লাখ টন ও ডিএপি কারখানা থেকে বছরে দেড় লাখ টন সার সরবরাহ করা হয়। ধান চাষের মৌসুমে গড়ে প্রতিদিন ১ হাজার মেট্রিক টন টিএসপি ও ৭শ’ মেট্রিক টন ডিএপি সার বরাদ্দ দেয়া হয়। ১ টন সারে ২০ বস্তা হয়। ওই হিসেবে প্রতিদিন ২০ হাজার বস্তা টিএসপি ও ১৪ হাজার বস্তা ডিএপি সার ছাড় করা হয়। 

৩৪ হাজার বস্তা সারে প্রতিদিন চাঁদা ওঠে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা। শুধুমাত্র একটি খাতেই এভাবে বছরে ৬ কোটি টাকার বেশি চাঁদা ওঠে। আর ওইভাবে সারের বস্তার হাত বদল হতে হতে চাঁদার পরিমাণও বেড়ে যায়। ফলে  স্থানীয় বাজার থেকে কৃষকরা প্রতি বস্তা টিএসপি ১১’শ টাকার বদলে ১৬শ থেকে সাড়ে ১৬শ’ টাকা আর ডিএপি সাড়ে ১২শ’ টাকার বিপরীতে ১৮শ’ টাকা থেকে ১৯শ’ টাকায় কিনতে হয়।

অসাধু সার সিকিট চক্রের তৎপরতা প্রসঙ্গে চট্টগ্রামে র‌্যাব-৭ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল মিফতাহ উদ্দিন জানান, এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে। আগে সার সিন্ডিকেটদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়নি। সিন্ডিকেটের সদস্যদের ব্যাপারে তথ্য থাকলে অবশ্যই বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হবে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩