সোমবার, ০১ মে, ২০১৭, ১৮ বৈশাখ ১৪২৪

বাজেটের কাঠামোগত মান বৃদ্ধির প্রস্তাব সিপিডির

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

বাজেটের কাঠামোগত মান বৃদ্ধির প্রস্তাব সিপিডির

সোনালীনিউজ ডেস্ক

বাজেটের বাস্তবায়ন এবং প্রাক্কলনের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে মনে করে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। এ জন্য ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বাজেটের আকারের চেয়ে কাঠামোগত ও গুণগত মান বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

রোববার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আগামী অর্থবছরের বাজেট সম্পর্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সিপিডির এ প্রস্তাব তুলে ধরেন সংস্থাটির বিশেষ ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, আগামী অর্থবছরে বাজেটের সম্ভাব্য যে আকার বলা হচ্ছে, সেটি আমাদের সামগ্রিক অর্থনীতির আকারের তুলনায় খুব বড় কিছু নয়। এ জন্য তিনি ভবিষ্যতে বাজেট আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেন।

নতুন অর্থবছরের (২০১৬-১৭) বাজেট কেমন হওয়া উচিত? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, আগামী বাজেট হওয়া উচিত দরিদ্র ও দুস্থবান্ধব, উৎপাদন ও কর্মসংস্থানমুখী, বৈশ্বিক পরিস্থিতি সচেতন ও সংস্কারমুখী।

অর্থাৎ, বাজেটে গরিবের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকতে হবে, উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ব্যবস্থা রাখতে হবে, প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন সংস্কারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে এবং বিশ্ব অর্থনীতির অভিঘাত যেন বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর আঘাত হানতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছে সিপিডি।

সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত সুপারিশ উপস্থাপন করেন সংস্থাটির অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, নতুন বাজেটে কিছু অর্জনের প্রাক্কলন করা হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, আগের বছরের বাস্তবায়নের হারের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হয় না। তাই বাজেট করা উচিত বাস্তবায়নের সক্ষমতার নিরিখে।

তিনি আরও বলেন, অর্থনীতির সমন্বয় বৃদ্ধি ও আর্থিক খাতে বিভিন্ন ঘটনায় মধ্যে অর্থনীতির নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের ক্ষেত্রে এক ধরনের বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যা দূর করা উচিত।

সিপিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৭ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের যে দাবি সরকারের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে, সেটাকে টেকসই রূপ দিতে হবে। প্রাক্কলিত অর্জনের ভিত্তিতে পরবর্তী প্রাক্কলন করার ফলে বাজেট বাস্তবায়ন ও প্রাক্কলনের মধ্যে ঘাটতি বা তারতম্য ক্রমেই বাড়ছে। এছাড়া বর্তমান বাজেট কাঠামোতে সম্পদ আহরণের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে বলে মনে করে সংস্থাটি। ফলে একদিকে মানুষের আয়  ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকলেও আয়কর আদায় প্রবৃদ্ধি হচ্ছে সর্বনিম্ন। সাধারণ নিয়মে আয় বাড়লে তার সঙ্গে সংগতি রেখে আয়কর আদায়ও বৃদ্ধি পাওয়ার কথা। কিন্তু সেখানে বড় ধরনের বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে।

দেশ থেকে অর্থ পাচার রোধে আয় ও সম্পত্তি আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে অর্থনীতির খাতে সমন্বয় বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি। এছাড়া আর্থিক খাতের সংস্কারের জন্য একাধিক কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয় সংস্থাটির পক্ষ থেকে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

Sonali Bazar

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Get it on google play Get it on apple store
Sonali Tissue
সোমবার, ০১ মে, ২০১৭, ১৮ বৈশাখ ১৪২৪