রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বাজেট নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

বাজেট নিয়ে বিভিন্ন সংগঠনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া

বাজেট ২০১৬-১৭নতুন অর্থবছরের জন্য ৩ লাখ ৪০ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার বাজেট উত্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। অর্থমন্ত্রীর এ বাজেট প্রস্তাবে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিভিন্ন সংগঠন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনা শেষে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে সংগঠনগুলো।

প্রজ্ঞা : দেশকে তামাকমুক্ত করতে আগামী অর্থবছরের জন্য ঘোষিত বাজেটে গৃহীত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়  বলে জানিয়েছে তামাক বিরোধ সংসঠন প্রজ্ঞা। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অর্থমন্ত্রী আবারও বহুজাতিক তামাক কোম্পানির পক্ষে বাজেট দিয়েছেন। যাতে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ অর্জনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার তেমন প্রতিফলন হয় নি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দামি সিগারটে করহার প্রায় অপরিবর্তিত রাখার মাধ্যমে আবারও রেহাই দেওয়া হলো বহুজাতিক তামাক কোম্পানিগুলোকে। গত একবছরে জনগণের মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিলে এই প্রস্তাব চরম জনস্বাস্থ্যবিরোধী। এর ফলে এই স্তরের সিগারেটের ভোক্তারা বাজেটের পর আরও কম দামে একই পরিমাণ সিগারেট কিনতে পারবে। একইসঙ্গে এই স্তরের সিগারেট থেকে সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়বেনা। অথচ ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে সম্পূর্ণ তামাকমুক্ত করার কৌশল হিসেবে সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি সহজ তামাক কর কাঠামো প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে তামাকজাত পণ্যের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস ও তামাক রাজস্ব বৃদ্ধির কথা বলেছেন। এবারের প্রস্তাবিত বাজেটে সেসবের তেমন কোনও প্রতিফলন নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাজেটে অর্থমন্ত্রী ১০ শলাকা সিগারেটের মূল্য (নিম্নস্তর) ১৮ টাকার পরিবর্তে ২৩ টাকা, উচ্চস্তর ৪৪-৬৯ টাকার পরিবর্তে ৪৫ টাকা, প্রিমিয়ামস্তর ৭০ টাকা ও তদূর্ধ্ব বহাল রাখার প্রস্তাব করেছেন। এ দুই স্তরে সম্পূরক শুল্ক মাত্র ১ শতাংশ বৃদ্ধি করে যথাক্রমে ৬২ শতাংশ ও ৬৪ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে এই দুই স্তরের সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে। এর মাধ্যমে আবারও বহুজাতিক তামাক কোম্পনিগুলোকে অর্থমন্ত্রীর সুবিধা প্রদানের প্রয়াস চোখে পড়ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তামাকবিরোধীদের দীর্ঘদিনের দাবি উপেক্ষা করে একক স্তরভিত্তিক কর কাঠামো প্রতিষ্ঠার কোনও নির্দেশনা বাজেট ঘোষণায় প্রতিফলিত হয়নি। ফলে বিভিন্ন স্তরের সুবিধা নিয়ে সিগারেট কোম্পানিগুলোর রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ অব্যাহত থাকলো। একইসঙ্গে ভোক্তাদেরও স্তর পরিবর্তনের সুযোগ থাকলো। তামাক কোম্পানিগুলোর পরামর্শেই এটি করা হয়েছে তা পরিস্কার, সুতরাং জনস্বাস্থ্যের সঙ্গে এমন প্রহসন কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এফবিসিসিআই : আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ছোট বলে মনে করছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ শিল্প ও বণিক সমিতি ফেডারেশন (এফবিসিসিআই)।বাজেট নিয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এ কথা জানান সংগঠনের আবদুল মাতলুব আহমাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারের বাজেট সবচেয়ে বড় বাজেট। কিন্তু দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি। জনসংখ্যার তুলনায় ২০১৬-১৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ছোট। আশা করি, আগামী বাজেটগুলোতে সরকার সেদিকে মনোযোগ দিবে।

সরকার এ বছর ব্যাংকিং খাত থেকে ৩৮ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন উল্লেখ করে এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি বলেন, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা বেশি। এতে করে ব্যাংকগুলোতে অতিরিক্ত তারল্যের চাপ কিছুটা কমবে।  এডিপি ঘোষণা করার আগে অর্থ কিভাবে ব্যয় করা হবে তার পরিকল্পনা আগেই নির্ধারণ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের কর থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় সরকারকে সাধুবাদ জানান আবদুল মাতলুব আহমাদ। এবারের বাজেটে ১০টি বড় প্রকল্পে মেগা বাজেট দিয়েছে সরকার। এতে বাইরের বিনিয়োগকারীরা উৎসাহিত হবে বলেও মনে করেন তিনি।

রিহ্যাব : রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়,  বাজেট  তাদের প্রস্তাবনা রক্ষার কোনও প্রতিফলন পাওয়া যায়নি। এমনকি বাজেটে আবাসন খাতে প্রস্তাবিত আয়করের পরিমাণ পরিবর্তনের ফলে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের মৌলিক অধিকার বাসস্থানের জন্য ব্যয় বেড়ে যাবে। ফলে প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষভাবে জড়িত ২ কোটি মানুষের আয়ের এ খাতটি আরো মুখ থুবড়ে পড়তে পারে। আর আবাসন খাতের এই সংকট ২৬৯টি লিংকেজ শিল্পকে আরও সংকটে ফেলবে। তাই প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পাস করার আগে রিহ্যাবের ১৩ দফা দাবি বিবেচনা দাবি জানানো হয়েছে।

ডিসিসিআইডিসিসিআই : ব্যবসা পরিচালনায় ব্যয় হ্রাসের উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ট্যাক্স এবং ভ্যাট সংগ্রহের প্রক্রিয়ার সহজীকরণের আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই)। গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি বাজেট বিষয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এ আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ পূর্নবহালেরও দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৭ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ, তবে এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য ২০১৫-১৬ অর্থবছরে অর্জিত বিনিয়োগ ২১ দশমিক ৭৮ শতাংশকে ২৭ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। এছাড়াও দেশি এবং বিদেশি বিনিয়োগের বর্তমান হারকে বাড়ানোর জন্য অবকাঠামো, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, বন্দর ব্যবস্থাপনার উন্নয়নের পাশপাশি বিনিয়োগ সংক্রান্ত নীতিমালার সংস্কার করা প্রয়োজন।

তবে ডিসিসিআই করপোরেট ট্যাক্স কমানোর উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য খাতে রফতানি বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করে

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআরসি/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩