বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বাড়তি উন্নয়ন বরাদ্দ : মন্ত্রী-এমপি ও সচিবদের চাপের মুখে অর্থ মন্ত্রণালয়

সোনালীনিউজ রিপোর্ট | সোনালীনিউজ অনলাইন
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

বাড়তি উন্নয়ন বরাদ্দ : মন্ত্রী-এমপি ও সচিবদের চাপের মুখে অর্থ মন্ত্রণালয়

অর্থ বরাদ্দ নিয়ে মাত্রাতিরিক্ত চাপের মুখে অর্থ মন্ত্রণালয়। প্রতিদিনই অর্থ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত উন্নয়ন বরাদ্দের জন্য সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী, সংসদ সদস্য এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের অর্থ চাওয়া আধা সরকারি পত্র (ডিও) পাচ্ছে। প্রায় সব মন্ত্রণালয়ই উন্নয়ন খাতে গতবছরের চেয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দ চাচ্ছে।

মন্ত্রীরা চাচ্ছেন নিজ নিজ এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে প্রত্যাশিত অর্থ বরাদ্দ পেতে। কিন্তু সরকারের কাছে এতো অর্থ নেই। ফলে অতিরিক্ত উন্নয়ন বরাদ্দের নানামুখী চাপ সমন্বয় করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা। অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, জাতীয় সংসদে আগামী ২ জুন ২০১৬-১৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করা হবে। তাতে ১ লাখ ১০ হাজার ২৬৪ কোটি টাকা সম্ভাব্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। যা চলতি সংশোধিত এডিপির তুলনায় ১৯ হাজার কোটি টাকা বেশি।

তবে নতুন এডিপিকে সামনে রেখে বাড়তি অর্থ চেয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে প্রস্তাব আসছে। আর আগামী মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। তাতেই নতুন এডিপির আকার চূড়ান্ত করাসহ সংশোধিত এডিপির অনুমোদন নেয়া হবে। ওই বৈঠকেই মন্ত্রণালয়গুলোর অতিরিক্ত বরাদ্দ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত দেবেন।

সূত্র জানায়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ খাতকে নতুন বাজেটে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। নতুন বাজেটে উন্নয়ন খাতে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় বরাদ্দ চেয়েছে ২৯৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা। একইভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এডিপিতে ৪৭টি অনুমোদিত এবং ১৩টি অননুমোদিত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত করতে ডিও লেটার দিয়েছে।

যুবকল্যাণ তহবিলের জন্য ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে আরো ৫৪০ কোটি টাকা। আর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ অতিরিক্ত সাড়ে ২৭ হাজার কোটি টাকা চেয়েছে। তাছাড়া পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন ৫শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়েছে।

আর ভূমি মন্ত্রণালয়ের আওতায় বাস্তবায়নাধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ করতে নতুন বাজেটে অতিরিক্ত ৫৪০ কোটি টাকা প্রদান এবং মোট বরাদ্দের আকার বাড়াতে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দিয়েছেন ভূমি সচিব।

চিঠিতে বলা হয়─গুচ্ছগ্রাম দ্বিতীয় পর্যায় ও ভূমি ভবন কমপ্লেক্স নির্মাণ একনেক সভায় অনুমোদন দেয়া হয়। অপরদিকে ৫৩৭ কোটি টাকা ব্যয়ে উপজেলা ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণকাজ (৬ষ্ঠ পর্ব) পুরোদমে শুরু হয়েছে। পাশাপাশি শহর ও ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ৩১০০ অফিস নির্মাণের জন্য ২ হাজার ২১৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্প ডিডিপি পরিকল্পনা কমিশনে বিবেচনাধীন রয়েছে। ওসব প্রকল্প যথাযথ বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬-১৭ বছরের বাজেটে উন্নয়ন খাতে প্রকল্প সহায়তাসহ অতিরিক্ত ৫৪০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন।

সূত্র আরো জানায়, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী যুবকল্যাণ তহবিলের জন্য স্থায়ী মূলধন (সিডমানি) হিসেবে ১০ কোটি টাকা চেয়েছেন। সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর কাছে লেখা ডিও লেটারে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আত্মকর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্প বাস্তবায়নে বিভিন্ন যুব সংগঠনকে অনুদান দেয়া হচ্ছে।

একই সঙ্গে সামাজিক ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য যুবকদের পুরস্কার দেয়ার লক্ষ্যেই যুব তহবিল গঠন করা হয়। এখন পর্যন্ত ১০ হাজার ১৭০টি যুব সংগঠনকে ১৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার অনুদান দেয়া হয়েছে। ডিও লেটারে বলা হয়- বর্তমান তালিকাভুক্ত ১৭ হাজারের বেশি যুব সংগঠন রয়েছে। তহবিল থেকে অনুদান পেতে আবেদনকারীর সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু অর্থের অভাবে সহায়তা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

ফলে কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নও ব্যাহত হচ্ছে। তহবিলের মূলধন বাড়ানো না হলে বর্তমান সিড মানির ওপর আহরিত স্বল্প পরিমাণের মুনাফা পাওয়া যাবে তা দিয়ে বিপুল সংখ্যক যুব সংগঠনের কল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়নে আগের মতো ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে না। তাছাড়াও অর্থ সচিবের কাছে আরো ডিও লেটার পাঠানো হয় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। 

ওই চিঠিতে বলা হয়─বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও উন্নয়নে অবকাঠামো ঠিক করা হচ্ছে। ওসব কাজের জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে ২০ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন সম্ভব হবে না।

তাছাড়া প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি অনুযায়ী ঠিকাদার চুক্তির বিপরীতে বিল পরিশোধ করাও সম্ভব হবে না। ডিও লেটারে আরো বলা হয়- সড়ক, ব্রিজ ও কালবার্ট নির্মাণে এলাকার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যাপক চাহিদা বিবেচনা করে নির্ধারিত বরাদ্দের অতিরিক্ত আরো ৬ হাজার ৩৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দের অনুরোধ জানানো হয়।

একইভাবে অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান সম্প্রতি অর্থ সচিবকে ডিও লেটার দিয়েছেন। তাতে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এডিপিতে ৪৭টি অনুমোদন প্রকল্প এবং ১৩টি অননুমোদন প্রকল্প অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছে। ওসব প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ চার কিস্তিতে নয়, প্রয়োজনের নিরিখে টাকা ছাড় করার প্রস্তাব দেয়া হয়।

এদিকে বরাদ্দ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মন্ত্রণালয়গুলোকে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেও তাদের ব্যবহার করার সক্ষমতা কম। যে কারণে অনেক টাকা ফেরত আসে। আবার শেষ সময়ে অর্থ ব্যবহার করার একটি প্রবণতাও রয়েছে। যে কারণে প্রতি বছরই এডিপি কাটছাঁট করতে হয়। এখন নিয়মমাফিক মন্ত্রণালয়গুলোকে অর্থ ব্যয় করতে হবে। ব্যয়ের সক্ষমতা অনুযায়ী প্রকল্প হাতে নেয়া হলে অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আসবে।

অন্যদিকে এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব তারিক-উল-ইসলাম বলেন, নতুন বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আকার হবে ১ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকা। ওই লক্ষ্যমাত্রা ঠিক রেখে এখন মন্ত্রণালয়গুলোর প্রস্তাব বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে সংশোধিত এডিপিতে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের টাকা দিতে সমস্যা নেই। তবে মন্ত্রণালয়গুলোকে তা নিয়মমাফিক ব্যয় করতে হবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩