শনিবার, ২১ জুলাই, ২০১৮, ৫ শ্রাবণ ১৪২৫

বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য, আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা 

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ০৮ জুলাই ২০১৮, রবিবার ০৮:০৭ পিএম

বিএনপির বৃহত্তর ঐক্য, আসছে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা 

ঢাকা: জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে সরকারের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার কাজ অনেকটাই এগিয়েছে বিএনপি। দলগুলো অনানুষ্ঠানিকভাবে একাধিক বৈঠকও করেছে। বৈঠকে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ কমপক্ষে ১১ দফা দাবি নিয়ে শিগগিরই মাঠে নামার প্রাথমিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল ছাড়াও ঐক্য গড়ার ব্যাপারে যে দলগুলো সম্মত হয়েছে সেগুলো হচ্ছে- গণফোরাম, বিকল্পধারা বাংলাদেশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি), নাগরিক ঐক্য, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ও বাম গণতান্ত্রিক ধারার ৪টি দল। হেফাজতে ইসলামের একাংশের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

বিএনপিসহ সংশ্লিষ্ট দলের নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য। আরও জানা গেছে, পরিকল্পনা অনুযায়ী আগস্টে বিভিন্ন ইস্যুতে একই ধরনের বিবৃতি পৃথকভাবে দেবে দলগুলো। এর মধ্য দিয়ে ঐক্য গড়ার দৃশ্যমান কার্যক্রম শুরু হবে।

আর সেপ্টেম্বরে যুগপৎ কর্মসূচি পালন করবে। পরের ‘বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট (প্রথমিকভাবে চূড়ান্ত)’ নামে নির্বাচনী জোট গঠন করবে। অক্টোবরের যে কোনো দিন এ জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে বলেও নিশ্চিত করে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বিএনপির এক নীতিনির্ধারক জানান, উল্লিখিত দলগুলো ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি দল ঐক্যে যুক্ত হতে রাজি রয়েছে। তবে তারা সরকারের ভয়ে এখনই নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছে না। অক্টোবরে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণার আগে ওই সব দলও ঐক্যে থাকবে বলে দাবি করেন তিনি।

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বাংলাদেশের যেসব জাতীয় নেতা ২০ দলীয় জোটের বাইরে আছেন, তারাও গণতন্ত্রের এ বর্তমান সংকটে চিন্তিত। তারাও গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্য জাতীয় ঐক্যের কথা বলছেন। এ ব্যাপারে তাদের সঙ্গে আমরা কথা বলছি, কথা চলছে। সবাইকে দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে একটা জায়গায় আসতে হবে।

বিএনপি মহাসচিব সম্প্রতি লন্ডনে অবস্থানরত দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করে দেশে ফিরেছেন। তারেক রহমান বৃহত্তর ঐক্য প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন বলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে জানিয়েছেন মির্জা ফখরুল। এরপরই মূলত ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া গতি পায়।

জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে এককভাবে আন্দোলন করে জয়লাভ করা সম্ভব নয়। এজন্য সব দলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করতে হবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য দরকার। এ বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই। এ ব্যাপারে ইতিবাচক আলাপ-আলোচনা চলছে। এর বেশি বলা যাবে না।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, দেশে জাতীয় ঐক্যর বিকল্প নেই। জাতীয় ঐক্য গঠনে চেষ্টা চলছে।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, দিন দিন পরিস্থিতির এত অবনতি হয়েছে যে, এখন গণতন্ত্র রক্ষা করাটাই প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্য যে কোনো ধরনের উদ্যোগের সঙ্গে আমরা থাকব। ঐক্যের বিষয়ে যুক্তফ্রন্টের নেতারাও আলোচনা করেছি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপিও ঐক্য হোক তা আন্তরিকভাবে চায়। আমি মনে করি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো একটা প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। সেটার সম্ভাবনা এখন আগের চেয়ে বেশি।

বিকল্পধারার মুখপাত্র ও দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী বলেন, আমরা সবাই একমত যে দেশে এখন একটা দুঃশাসন চলছে। এ আওয়ামী দুঃশাসনের পরিবর্তন চাই। ঐক্যের ব্যাপারে আমাদের সিনিয়র নেতারা কাজ করছেন। ঐক্যের উদ্দেশ্য হবে, আমরা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই। আর ভিত্তি হবে ক্ষমতার ভারসাম্য। প্রতিটি দলের ওজন মাপতে হবে শুধু পেশিশক্তি দিয়ে নয়, রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, ঐক্য গঠন নিয়ে দলটির সিনিয়র নেতাদের বক্তব্য দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাইকমান্ড। এতে জোট গঠন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে এমন আশঙ্কায় এ পরামর্শ দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, গত ১ মাসে ঐক্য প্রক্রিয়া নিয়ে সংশ্লিষ্ট সব দলের সঙ্গে বহুবার কথা বলেছেন বিএনপি মহাসচিব। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেয়া, নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিসহ ১১টি অভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে আন্দোলন করতে সম্মত হয়েছে সরকারের বাইরে থাকা ওই দলগুলো।

তবে ২০ দলীয় জোটের বাইরে থাকা দলগুলো কিছু দাবির কথা বলেছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ক্ষমতার ভারসাম্য আনা। দাবিটির ব্যাপারে লল্ডনে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকেও জানানো হয়েছে। বিএনপি তাদের জানিয়েছে, বৃহত্তর স্বার্থে সব বিষয়েই সমাধান হবে।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক নেতা জানান, ঐক্য প্রক্রিয়ায় ব্যাপারে ২০ দলের সম্মতি রয়েছে। সে ক্ষেত্রে নির্বাচনী জোট বা স্থায়ী কোনো জোট হলেও কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমান সরকারের দুঃশাসনের অবসানে সবাই একমত আছেন। দাবি আদায় হলে নির্বাচনে আসন ভাগাভাগির ক্ষেত্রে ২০ দলে থাকা শরিকদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হবে। যা বিএনপি তাদের শরিকদের জানিয়েছেও।

ঐক্য গঠনে সংশ্লিষ্ট বিএনপির এক নেতা বলেন, তাদের বিশ্বাস দেশের বৃহত্তর স্বার্থে বাম দলগুলোকেও একমঞ্চে তারা পাবেন। এজন্য বাম দলগুলোর সঙ্গেও তারা যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন। কেউ কেউ তাদের জানিয়েছেন, সময় হলে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

সোনালীনিউজ/জেএ