রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বিচারপতি নজরুলকে সাধুবাদ জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

বিচারপতি নজরুলকে সাধুবাদ জানালেন অ্যাটর্নি জেনারেল

সোনালীনিউজ ডেস্ক

‘মীর কাসেম আলীর অনৈতিক মামলা’ থেকে সরে আসায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তিনি বলেন, ‘মীর কাসেম আলীর মামলা ছিল অনৈতিক। মীর কাসেমের মামলা থেকে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই। তবে তাকে মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ ও বৈরি পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়নি।’
আজ সোমবার দুপুরে সুপ্রিম কোর্টের নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

‘প্রচণ্ড বৈরি পরিবেশের কারণে মীর কাসেমের মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য  হচ্ছি’ বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর এমন বক্তব্যকে নাকচ করে দিয়ে মাহবুবে আলম বলেন, ‘তাকে মামলা থেকে সরে দাঁড়াতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হয়নি।’

অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন প্রয়োজন কি না, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি নজরুলের প্রসঙ্গ টেনে প্রশ্ন করা হলে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘দুই চৌধুরী এক করে দেখলে চলবে না। একজন প্রেস কনফারেন্স করে কথা বলেছেন। কিন্তু বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী তা করেননি।’

এর আগে মীর কাসেমের আপিল শুনানি থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে বিচারপতি নজরুল বলেন, ‘প্রচন্ড বৈরি পরিবেশের কারণে আমি মীর কাসেমের মামলার কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হচ্ছি।’

তিনি বলেন, ‘আমি এই মামলায় অংশগ্রহণ করেছিলাম। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং আইনজীবী হিসেবে এটা করার আমার অধিকার রয়েছে।এটা অসাংবিধানিক নয় কিংবা অনৈতিকও নয়।’

তিনি বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই অন্তত দুইটি মামলায় এই মক্কেলের পক্ষে ও তিনটি মামলায় অপর পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছি। উক্ত মামলাগুলোর শুনানি চলাকালে বিজ্ঞ অ্যাটর্নি জেনারেল আমার প্র্যাকটিসের বৈধতা বা নৈতিকতা নিয়ে কোনো আপত্তি উত্থাপন করেননি। কিন্তু শুধুমাত্র মীর কাসেম আলীর মামলা পরিচালনা করতে গেলেই  তিনি আমার প্র্যাকটিসের বৈধতা ও নৈতিকতার প্রশ্ন তুললেন যা অনাকাঙ্ক্ষিত। আইন ও সংবিধান সম্মতভাবে আমি মীর কাসেম আলী সাহেবের আপিলে অংশ নিয়েছিলাম। কিন্তু প্রচণ্ড বৈরি পরিবেশের কারণে আমি এই মামলার কার্যক্রম থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হচ্ছি।’

প্রসঙ্গত, গত ১০ ফেব্রুয়ারি মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিল শুনানিতে অংশ নেন সদ্য অবসরে যাওয়া হাইকোর্টের বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী।

এ নিয়ে পরে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম তার নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আইনমন্ত্রী আনিসুল হকও সরকারি সুযোগ সুবিধা ভোগ করা অবস্থায় মানবতাবিরোধীর পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়ায় বিচারপতি নজরুলের সমালোচনা করেন।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩