শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বিজেএমইএর সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী নয় কারখানা মালিকর

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

বিজেএমইএর সঙ্গে যুক্ত হতে আগ্রহী নয় কারখানা মালিকর

বিশেষ প্রতিনিধি

কারখানার মালিকরা দেশের তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএর বায়োমেট্রিক ডাটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত হতে আগ্রহী হচ্ছে না। যদিও ওই তথ্যভাণ্ডারে যুক্ত হতে সংগঠনের সদস্যদের বিগত ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়সীমা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু ওই সমযের মধ্যে আশানুরূপ পরিমাণ কারখানাই ওই তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৩৭৫টি কারখানা তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন করে বিজিএমইএর সদস্যদে নোটিশ দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে তথ্যভাণ্ডার হালনাগাদ করার জন্য বলা হয়। ওই সময়ের মধ্যে হালনাগাদ করা না হলে বিজিএমইএ থেকে সব ধরনের সেবা বন্ধ করে দেয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়। বিজিএমইএ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিজেএমইএর পক্ষ থেকে সংগঠনের সদস্যদের বায়োমেট্রিক তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্তির জন্য বার বার তাগিদ দেয়া হলেও কারখানার মালিকরা তাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এজন্য আড়াই বছরেও তথ্যভাণ্ডারের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। অথচ যুক্তরাষ্ট্রে অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা (জিএসপি) ফিরে পেতে ১৬ শর্তের অন্যতম শর্ত হচ্ছে এই তথ্যভাণ্ডার। কিন্তু গত আড়াই বছরেও তার সন্তোষজনক কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তথ্যভাণ্ডারে অন্তর্ভুক্তি শেষ করার বিষয়ে জোর প্রতিশ্রুতি দিলেও তার কমিটির মেয়াদকালীন মাত্র ৭৫টি প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়। অথচ বিজিএমইএর সদস্য সংখ্যা ৪ হাজার ২০০। তারমধ্যে প্রায় আড়াই হাজার কারখানই বিজিএমইএর ইউডি (ইউটিলাইজেশন ডিক্লারেশন) সুবিধা গ্রহণ করে।

সূত্র জানায়, বিজিএমইএর বায়োমেট্রিক তথ্যভাণ্ডারে পোশাক শ্রমিকের বিভিন্ন তথ্য যেমন- ছবি, আঙুলের ছাপ, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা, বেতন-ভাতা, কাজের ধরন, দক্ষতা ইত্যাদি বিষয় থাকবে। সুষ্ঠুভাবে তথ্য পূরণের পর প্রত্যেক শ্রমিককে একটি স্বতন্ত্র নম্বরসংবলিত কার্ড দেয়ার কথা। এ লক্ষ্যে ২০১৩ সাল থেকে ডাটাবেইসের কাজ শুরু করা হয়। পাশাপাশি সংগঠনের পক্ষ থেকে সদস্য কারখানাগুলোকেও কয়েক দফা তাগাদা দেয়া হয়। কিন্তু মালিকরা খুব একটা সাড়া দেননি। ফলে আড়াই বছরেও তথ্যভাণ্ডারের কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র আরো জানায়, বিজিএমইএর আগের কমিটি তথ্যভাণ্ডারে সংগঠনের সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির উদ্যোগ নিলেও তাদের সময় এই বিষয়ে খুবি বেশি অগ্রগতি না হওয়ায় বিজিএমইএর নতুন পর্ষদ এ বিষয়ে জোরালো উদ্যোগ নেয়। সে প্রেক্ষিতে গত ১৭ অক্টোবরের বোর্ড মিটিংয়ে পোশাকশিল্পে তথ্যভাণ্ডার চালুর কাজ আবারো শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান কমিটি প্রথমে যেসব কারখানা এখনো তথ্যভাণ্ডার চালু করেনি তাদের আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় ফি জমা দিতে বলে। ওই সময়ে বেশি সাড়া না পাওয়ায় আবারো এক মাস বাড়িয়ে ৩১ জানুয়ারি করা হয়। কিন্তু তাতেও সাড়া না পাওয়ায় এবার ১৫ ফেব্রুয়ারি সময়সীমা নির্ধারণ করে আরো কঠোর অবস্থানে গেছে বিজিএমইএ।

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সহ-সভাপতি মোহাম্মদ নাছির বলেন, তথ্যভাণ্ডার নিয়ে বিজেএমইএর কার্যক্রম চলমান। এজন্য অঞ্চল ভেদে পরিচালকদের নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। তারা কারখানার মালিকদের মোটিভেশনের কাজ করছে। আশা করা যায় সব কারখানাই তথ্যভাণ্ডারের আওতায় আসবে। সরকার প্রতিটি রপ্তানি ক্রয়াদেশের বিপরীতে প্রাপ্ত মোট অর্থের ০.০৩ শতাংশ হারে নিয়ে একটি শ্রমিক কল্যাণ তহবিল করেছে। ওই তহবিলের সুষ্ঠু ব্যবহার ও কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে শ্রমিকদের খুঁজে বের করতে তথ্যভান্ডারের খুবই দরকার।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩