মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বিজ্ঞানই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি: স্টিফেন হকিং

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

বিজ্ঞানই মানবজাতির জন্য ভয়াবহ হুমকি: স্টিফেন হকিং

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক

বিজ্ঞান মানুষের জন্য আশির্বাদ না অভিশাপ- এ নিয়ে বহুকাল ধরে মানুষের মধ্যে মত পার্থক্য বিদ্যমান। অনেকে বিজ্ঞানকে মনে করেন আধুনিক বিশ্বের জন্য আশির্বাদ। আবার অনেকে মনে করেন অভিশাপ। এবার সেই তর্ক-বিতর্কের  জাল ছিন্ন করলেন আধুনিক প্রজন্মের সেরা বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং।এই বিষ্ময়কর বিজ্ঞানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে মানব জাতির জন্য ভয়াবহতম বিপদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

কৃষ্ণ গহবর নিয়ে বিবিসির এক বাৎসরিক বক্তৃতা অনুষ্ঠনের আগে রেডিও টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতি আমাদের অস্তিত্বের জন্য বড় এক হুমকি। এর কারণে মানবজাতি বর্তমানে ইতিহাসের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের মুখোমুখি।

বিখ্যাত এই মহাকাশবিজ্ঞানী আরও জানান, আগামী এক হাজার থেকে দশ হাজার বছরের মধ্যে আমাদের বাস করা এই পৃথিবীর মধ্যে ঘটতে পারে মহাদূর্যোগ। তবে পৃথিবীর বাইরের কোনো গ্রহে মানুষের বসবাস করতে আরো একশো বছরের বেশি সময় লাগতে পারে বলেও মন্তব্য করেন হকিং।

তার মতে, কমপক্ষে আগামী একশো বছরের মধ্যে আমরা পৃথিবীর বাইরে কোনো স্বনির্ভর বাসস্থান তৈরি করতে পারবো না। তাই এই সময়টা আমাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে।

এর আগে ২০০৩ সালে ব্রিটিশ মহাকাশ বিজ্ঞানী লর্ড রিজ তার ‘আওয়ার ফাইনাল সেঞ্চুরি’ বইতে এই একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন।

রেডিও টাইমসকে হকিং বলেন, মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি হচ্ছে পারমাণবিক অস্ত্র এবং জিনগতভাবে তৈরি ভাইরাসের মতো বিষয়গুলোতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতি। তিনি আরো বলেন, ‘আমরা অগ্রগতিকে থামিয়ে দিতে পারবো না। অথবা একে উল্টে দিতে পারবো না। তাই এ বিপদকে আমাদের মেনে নিতে হবে এবং তা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।’

হকিং কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের লুকাসিয়ান অধ্যাপক হিসেবে ২০০৯ সালের ১ অক্টোবর অবসর নেন। এর আগে মহাকাশ বিজ্ঞানের আরেক নক্ষত্র স্যার আইজ্যাক নিউটনও এই একই পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে হকিং কেমব্রিজের গনভিলি এবং কেয়াস কলেজের ফেলো হিসাবে কর্মরত আছেন। শারীরিকভাবে ভীষণরকম অচল এবং এ. এল. এসের (এমায়োট্রফিক ল্যাটারাল স্ক্লেরোসিস বা লাউ গেহরিগ রোগ - যা একপ্রকার মোটর নিউরন রোগ) জন্য ক্রমাগতভাবে সম্পূর্ণ অচলাবস্থার দিকে ধাবিত হওয়া সত্ত্বেও বহু বছর ধরে তিনি তার গবেষণা কার্যক্রম সাফল্যের সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন।

এত বড় একটি সমস্যা সত্ত্বেও কোন জিনিস তাকে তার কাজে সচল রেখেছে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার কাজ এবং রসবোধই তাকে অনুপ্রেরণা দেয়। তিনি বলেন, ‘জীবনের ওপর রাগান্বিত না হওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জীবন যতই কঠিন হোক, তাতে কিছু যায় আসে না। আপনি তখনই সব আশা হারিয়ে ফেলবেন, যখন হাসতে পারবেন না এবং জীবনকে স্বাভাবিকভাবে নিতে পারবেন না।’

প্রায় ৪০ বছর ধরে হকিং তত্ত্বীয় পদার্থবিজ্ঞানের চর্চা করে আসছেন। লিখিত পুস্তক এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির থেকে তিনি একাডেমিক জগতে যথেষ্ট খ্যাতিমান হয়ে উঠেছেন। ব্রিটিশ রয়াল সোসাইটি অব আর্টসের সম্মানীয় ফেলো এবং পন্টিফিকাল একাডেমি অব সায়েন্সের আজীবন সদস্য তিনি। ২০১৪ সালে তাকে নিয়ে একটি মুভি তৈরী হয়। যার নাম ‘থিওরী অফ এভরিথিং’।

 

সোনালীনিউজ/ঢাকা/মে

add-sm
Sonali Tissue
মঙ্গলবার, ০৬ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২২ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩