রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বিদেশি শক্তির চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনর

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

বিদেশি শক্তির চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীনর

বিশেষ প্রতিনিধি

বিদেশি শক্তির চাপ অনুভব করতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। চলতি বছর বিদেশ থেকে একের পর এক দুঃসংবাদ আসছে সরকারের কাছে। শীর্ষ পর্যায়ের কোনও কোনও নেতা সোজা-সাপ্টা বলছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে আবার আন্তর্জাতিক খেলা শুরু হয়েছে। তবে এসব বলাবলি একবারেই ঘরোয়া ও একে অপরের আলাপ-আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বিষয়গুলো স্পর্শকাতর হওয়ায় এখনই সেগুলো নিয়ে নেতিবাচক কোনও মন্তব্য করতে নারাজ আওয়ামী লীগের নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতারা। হাইকমান্ড থেকেও বিদেশি ইস্যু নিয়ে মুখ না খেলার নির্দেশনা রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিরাপত্তা ‘ঝুঁকির কথা’ বলে যুক্তরাজ্যের কার্গো বিমান বন্ধের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যাত্রীবাহী বিমানও বন্ধের আভাস পেয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাজ্যের মতো নিরাপত্তা ঝুঁকির অজুহাত দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বিমান পরিচালনা বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকারকে। এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চ পর্যায়ের পৃথক দু’টি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এতে আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের মুখোমুখি হতে পারে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

উল্লিখিত দু’টি ঘটনার মধ্যেই শনিবার (১২ মার্চ) সরকারের কানে এসেছে আরেকটি দুঃসংবাদ। মালয়েশিয়া জি টু জি প্লাস পর্যায়ে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে চুক্তি করেছিল তিন সপ্তাহ আগে। কিন্তু শনিবার (১২মার্চ) বাংলাদেশ থেকে কোনও শ্রমিক নেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে দেশটি। হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের টাকা চুরির ঘটনাও সরকারকে চাপের মুখে ফেলে দিয়েছে। শুল্কমুক্ত অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা (জিএসপি) বন্ধ করে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এর আগে বড় ধরনের চাপে ফেলে রেখেছে সরকারকে। এই চাপ থেকে মুক্ত হতে সরকার যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া বিভিন্ন শর্ত পূরণ করলেও এখন পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা ফিরে পাওয়া যায়নি। এ নিয়ে অনেকটা ক্ষুব্ধ হয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ সম্প্রতি বলেন, কেয়ামতের আগের দিনও যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত আমরা পূরণ করতে পারবো না।

নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ের নেতৃস্থানীয়রা জানান, অব্যাহতভাবে এই দুঃসংবাদগুলো আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারকে চাপের মুখে ফেলে দিচ্ছে এটা স্বীকার করলেও এসব ইস্যু নিয়ে নেতিবাচক বক্তব্য দেবে না শীর্ষস্থানীয়রা। তারা মনে করছেন, বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করলে সমস্যা সমাধানের পথে নতুন প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। আন্তর্জাতিক এসব চাপ থেকে বেরিয়ে আসার আশা রয়েছে সরকারের নীতি-নির্ধারণী মহলের। তবে বেরিয়ে আসার পথ যে খুব সহজ তা মনে করেন না নীতি নির্ধারকদের বড় একটি অংশ। তাদের মতে, বের হওয়ার সুযোগ থাকলেও এজন্য সরকারকে অনেক কাঠখড়ি পোড়াতে হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী খোলাসা করে কিছু বলতে চাননি। তবে তিনি বলেন, বিদেশি এসব ইস্যু নিয়ে এখনই কোনও কথা বলতে চাই না। এগুলো টেকনিক্যাল ও আইনগত ব্যাপার। বিষয়গুলো আরও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের কিছু নেতা সরকারের জন্যে ‘বিপজ্জনক’ এসব সিদ্ধান্তের পেছনে ষড়যন্ত্র থাকতে পারে বলে মনে করেন। তাদের মতে, সরকার যখন সবকিছু নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনেকটা শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে ঠিক তখনই ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। ঠিক তখনই বিভিন্ন ছুঁতো ধরে আন্তর্জাতিক শক্তিগুলো সরকারকে ঘায়েল করতে চেষ্টা করছে। গত কয়েকদিনে আসা দুঃসংবাদগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে বলে তারা মন্তব্য করেন।

জানতে চাইলে সভাপতিমণ্ডলীর অপর সদস্য নূহ-উল আলম লেনিন বলেন, বিদেশি এসব ঘটনা এখনি নেতিবাচকভাবে দেখতে চাই না। এটাকে এখনই ষড়যন্ত্রও মনে করছি না। আর এসবের কারণে আন্তঃরাষ্ট্র সম্পর্কের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছি না। বিষয়গুলো আরও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

প্রসঙ্গক্রমে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবস্থান নিয়ে চলে, আমাদের অবস্থান নিয়ে আমরা চলি। পঁচাত্তর পরবর্তী সময় হলে হয়তো এসব শক্তিকে তৈলমর্দন করতাম। এখন সেই সময় নেই।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমও একই ধরনের মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিমান পরিচালনা বিষয়ে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিষয়টিকে আমরা রাজনৈতিকভাবে দেখছি না। নিরাপত্তা ইস্যুতে তাদের কোনও অবস্থান থাকতেই পারে। কারণ বিশ্বে যেভাবে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটেছে বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশও সেক্ষেত্রে বিচ্ছিন্ন নয়।

তবে ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক না নেওয়ার বিষয়ে মালয়েশিয়া যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এটা নিয়ে চিন্তার বিষয় রয়েছে’। তিনি বলেন, শ্রমিক নেওয়ার ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে চুক্তি সম্পাদনের পর সেটা এভাবে একতরফা বাতিল করা যায় কি-না সেই প্রশ্ন আমাদের রয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমিক না নেওয়ার যে কথা জানিয়েছে এটা সত্যি হলে ভবিষ্যতে তাদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে আরও ভাবতে হবে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩