শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

বিদ্যুৎ উৎপাদনে ধীরগতি

গ্যাস ও তেলভিত্তিক বড় ২০টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রই নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে আসছে না। বরং কয়েকটি কেন্দ্রের কাজ একেবারেই প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। বাকিগুলোও চলছে ধীরগতিতে। ফলে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদনে আসতে পারছে না কোনো কেন্দ্রই। তাতে আটকে আছে ৫ হাজার ৫৬৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা।

যার ফলে সরকার রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। এ নিয়ে সম্প্রতি বিদ্যুৎ বিভাগের বৈঠকেও আলোচনা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ২০১১ সালের ডিসেম্বরে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র (উত্তর) প্রকল্পটি নেয়া হয়। আর পরের বছরের মে মাসে তার ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়। তারপর চার বছরেও কেন্দ্রটির নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ২০১৫ সালের নভেম্বরেই উৎপাদনে যাওয়ার কথা ছিল।

৩ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত কেন্দ্রটির আগামী বছরের শেষে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর সম্ভাবনা রয়েছে। একই অবস্থা ২০১০ সালের জুলাইয়ে নেয়া ভেড়ামারা ৩৬০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও। ২০১৪ সালের জুনে ওই কেন্দ্রটি উৎপাদন শুরুর কথা থাকলেও ঠিকাদারই নিয়োগ করা হয় ওই বছর মার্চে।

৪ হাজার ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটি ২০১৮ সালের আগে শেষ হচ্ছে না। তাছাড়া ২০১১ সালে নেয়া ভোলার ২২৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল প্রকল্পটি পাঁচ বছরেও ঠিকাদার নিয়োগ হয়নি। ফলে কবে নাগাদ ওই কেন্দ্রের উৎপাদন শুরু হবে তা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।

সূত্র জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ ৩৩৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেনের আইসোলাক্সের আর্থিক অবস্থা ভালো নয়। ফলে তারা জেনারেল ইলেকট্রিককে (জিই) পাওনা পরিশোধ করতে পারেনি। ফলে প্রকল্প এলাকা ছেড়ে গেছে জিইর প্রতিনিধিরা। তাতে প্রকল্প এলাকায় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি পড়ে আছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে একাধিকবার বৈঠকও করা হয়েছে।

২০০৯ সালে নেয়া প্রকল্পটির মেয়াদ কয়েক দফা বাড়ানো হয়েছে। তাতে প্রকল্প ব্যয়ও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা। আগামী বছর জুনের আগে এর কাজ শেষ হবে না বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শাহজিবাজার ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নেয়া হয় ২০১২ সালে। পরের মে মাসে ঠিকাদার নিয়োগ হয়। তবে অর্থায়নের জন্য এক বছর কাজ বন্ধ ছিল।

ফলে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির মূল কাজ শুরু করা হয়। তারপর দুই বছরে প্রকল্পটির অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। যদিও চলতি বছরই তার পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর কথা ছিল। তবে ২০১৮ সালের এর উৎপাদন শুরু সম্ভব হবে না বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট ডুয়াল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল প্রকল্পটিও নেয়া হয়েছে ২০১২ সালে।

চলতি বছর জুনে তার কাজ শেষ করার কথা থাকলেও অর্ধেক কাজও এখনো সম্পন্ন হয়নি। ফলে প্রকল্পটির মেয়াদ কমপক্ষে দুই বছর বাড়াতে হবে। ওই হিসাবে ২০১৮ সালের আগে উৎপাদনে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই কেন্দ্রটির।

সূত্র আরো জানায়, বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেলের (দক্ষিণ) কিছুটা অগ্রগতি হয়েছে। ২০১০ সালে নেয়া প্রকল্পটির ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় ২০১২ সালের মার্চে। ৩ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পটির কয়েক দফা মেয়াদ বাড়ানো হয়। তার সিম্পল সাইকেল সম্পন্ন হয়েছে গত বছর ডিসেম্বরে। তাতে ২৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।

তবে এখনো কম্বাইন্ড সাইকেলের কাজ শেষ হয়নি। ফলে সক্ষমতার ৪০ শতাংশ অব্যবহৃত রয়ে গেছে। আর ২০১৮ সালের আগে উৎপাদনে যেতে পারছে না ঘোড়াশাল ৩৬৫ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল, ৪০০ মেগাওয়াট বিবিয়ানা-৩ কম্বাইন্ড সাইকেল, ৪১০ মেগাওয়াট বিবিয়ানা (দক্ষিণ) কম্বাইন্ড সাইকেল কেন্দ্র ও কুশিয়ারা ১৬৩ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল।

তাছাড়া সিরাজগঞ্জ ২২৫ মেগাওয়াট ডুয়াল ফুয়েল দ্বিতীয় ইউনিট ও ২২৫ মেগাওয়াট ডুয়াল ফুয়েল তৃতীয় ইউনিট ২০১৯ সালের আগে উৎপাদনে যেতে পারবে না। আর ৪১৬ মেগাওয়াটের ঘোড়াশাল তৃতীয় ইউনিট পুনঃক্ষমতায়ন ও ৪২০ মেগাওয়াটের ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট পুনঃক্ষমতায়ন কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে পারবে তাও এখনো নিশ্চিত নয়।

তাছাড়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের ১০০ মেগাওয়াট, চট্টগ্রামের আনোয়ারার ৩০০ মেগাওয়াট, পটিয়ার ১০০ মেগাওয়াট ও জুলদার ১০০ মেগাওয়াট ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোর উৎপাদনও কবে নাগাদ শুরু হবে তার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়নি। একইভাবে সিরাজগঞ্জ ৪১৪ ডুয়াল ফুয়েল কম্বাইন্ড সাইকেল কবে নাগাদ উৎপাদনে যাবে তাও নিশ্চিত নয়।

এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো উৎপাদনে আসতে দেরি হলে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বন্ধ করা হবে না। তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও কমবে না। তাছাড়া বেশকিছু পুরনো সরকারি বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ করার কথা বলা হচ্ছে। তাতে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কমবে। ফলে বিদ্যুৎ খাতে আগামীতে নতুন ঝুঁকি তৈরি হবে। তাই দ্রুত বড় কয়েকটি কেন্দ্র চালু করা দরকার।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ জানান, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ জটিলতা তার মধ্যে অন্যতম। জমি অধিগ্রহণেই অনেক সময় এক-দুই বছর লেগে যায়। অর্থায়নও আরেকটি চ্যালেঞ্জ। দাতা সংস্থার সহায়তা না পাওয়ায় পরে কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ইসিএ (এক্সপোর্ট ক্রেডিট এজেন্সি) ঋণ নেয়া হয়েছে।

তাছাড়া বিদ্যুৎ বিভাগে দক্ষ জনবলের ঘাটতি রয়েছে। সব মিলিয়ে বড় কেন্দ্রগুলো নির্মাণ বিলম্বিত হচ্ছে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে দ্রুত এগুলোর উৎপাদন শুরু করার। সেজন্য বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আমা

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩