বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বিদ্যুৎ বাড়াতে ২২ কোটি ডলার ঋণ বিশ্ব ব্যাংকের

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

বিদ্যুৎ বাড়াতে ২২ কোটি ডলার ঋণ বিশ্ব ব্যাংকের

অর্থনীতি রিপোর্টার

ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে ২১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ দেবে বিশ্ব ব্যাংক; বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা। ছয় বছরের রেয়াতকালসহ ৩৮ বছরে দশমিক ৭৫ শতাংশ সুদে এ ঋণ পরিশোধ করতে হবে।

এ বিষয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও বিশ্ব ব্যাংকের মধ্যে বৃহস্পতিবার একটি চুক্তি হয়েছে। এতে সরকারের পক্ষে ইআরডির অতিরিক্ত সচিব কাজী শফিকুল আজম এবং বিশ্ব ব্যাংকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক পরিচালক রাজশ্রী পারালকার সই করেন। চুক্তি সইয়ের পর অতিরিক্ত সচিব শফিকুল আজম জানান, ঘোড়াশাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চতুর্থ ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে এ ঋণ নেওয়া হচ্ছে। সিদ্ধিরগঞ্জের ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে অর্থায়নের পর ঘোড়াশালের চতুর্থ ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে বড় অঙ্কের অর্থ দিচ্ছে বিশ্ব ব্যাংক। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে জাতীয় গ্রিডে ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে জানিয়ে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বিদ্যুৎ খাতের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।

লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতে সব উৎপাদনশীল খাতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাই বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও শক্তিশালী করতেই এ ঋণ নেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত সচিব জানান, বিশ্ব ব্যাংক গত কয়েক বছর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বেশি বিনিয়োগ করেছে। বর্তমানে অবকাঠামো উন্নয়নেও অবদান রাখছে সংস্থাটি। অনুষ্ঠানে নতুন অংশীদারিত্বের মাধ্যমে অর্থনৈতিক সহযোগিতা শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিশ্ব ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক পরিচালক আশা প্রকাশ করেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে এ প্রকল্পটি ভূমিকা রাখবে। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিদ্যমান বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধির (রি-পাওয়ারিং) মাধ্যমে দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। কারণ এর মাধ্যমে গ্যাসের ব্যবহার কমানো সম্ভব। পুরাতন কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি এবং দূষণ কমানোও সম্ভব হয়। এজন্য ঘোড়াশালে দুটি ইউনিটের কাজ শুরু হচ্ছে। তৃতীয় ইউনিট বাস্তবায়নে অর্থ দিচ্ছে চীনের এক্সিম ব্যাংক। আর চতুর্থ ইউনিট বাস্তবায়নের জন্য বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ঋণ চুক্তি হয়েছে।

ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে দুই হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিশ্ব ব্যাংক ১ হাজার ৭৩৬ কোটি টাকা ঋণ দেবে। বাকি অর্থ সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। ২০১৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শেষ করবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, ঘোড়াশাল চতুর্থ ইউনিট ১৯৮৯ সালে স্থাপিত হয়। আয়ুষ্কাল শেষ হয়ে যাওয়ায় ২১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন কেন্দ্রটিতে ১৮০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন ক্ষমতা বাড়িয়ে ৪০৩ মেগাওয়াট করা হবে। একইসঙ্গে রি-পাওয়ারিং করলে গ্যাস ব্যবহারের দক্ষতা ৫৪ শতাংশ বাড়বে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩