মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০১৭, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪

বিপদে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় মিলেছে !

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

বিপদে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয় মিলেছে !

সোনালীনিউজ ডেস্ক

কথায় আছে বিপদে প্রকৃত বন্ধুর পরিচয়। শুধু কথায় নয় কাজেও এর প্রমাণ মিললো। চীনের দুজন শিক্ষার্থী কথায় নয় কাজেও তা করে দেখালো। একজন ১৮ বছর বয়সী জি জু এবং অপরজন ১৯ বছর বয়সী ঝ্যাং শি। গত তিন বছর ধরে তারা একসঙ্গে চীনের একটি কলেজে পড়ালেখা করছেন। তবে ঝ্যাং শিং শারিরীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় নিয়মিত ক্লাশে আসতে পারে না। তাই বলে বন্ধুর পড়ালেখাতো আর বন্ধ থাকতে পারে না। ঝ্যাং শিকে প্রতিদিন কাধে করে কলেজে নিয়ে যায় বন্ধু জি জু।

তাদের বন্ধুত্বের এই অসাধারণ দৃশ্যটি প্রথমে কলেজের অধ্যক্ষের চোখে পড়লে তিনি বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান। এরপর থেকেই স্থানীয় গণমাধ্যমগুলোতে তাদের বন্ধুত্বের দৃষ্টান্ত নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়। কলেজের অধ্যক্ষ বলেন, ‘তারা তিন বছর ধরে একসঙ্গে পড়ালেখা করে আসছে। তাদের এই বন্ধুত্বের সম্পর্ক সবার দৃষ্টান্ত হওয়া উচিত।’ পুষ্টির অভাবে ঝ্যাং’র পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়ায় তার পায়ের হাড় দুর্বল হয়ে গেছে। ফলে সে হাটতে পারে না। তাই জি তাকে প্রতিদিন ক্লাশে পৌছে দিতে সাহায্য করে। তারা কিন্তু একই পরিবারের সদস্যও নয় এরপরও জি তিন বছর ধরে তাকে নিজের কাধে করে ঝ্যাংকে কলেজে নিয়ে আসে।

তাদের সম্পর্কে কলেজের অন্যান্য ছাত্ররা বলে ‘তারা হলো আমাদের কলেজের সবচেয়ে সুন্দর জুটি। তাদের দেখে আমরাও খুবই অনুপ্রাণিত হই।’ তবে ঝ্যাং ও জি’র একসঙ্গে তো সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হয় না। তাদের বন্ধুত্ব যদিও সবার মনকে ছুঁয়ে যায় তারপরও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। আর তা হলো, যদি জি অন্যত্র চলে যায় তাহলে ঝ্যাং’র তখন কি হবে।

মানবাধিকার সংস্থার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো চীনেও রয়েছে বৈষম্যতা। শারিরীকভাবে অক্ষম ব্যাক্তি অধিকাংশ ক্ষেত্রে সবার অবহেলার পাত্র। সারা পৃথিবীর ওপর একটি জরিপ চালিয়ে দেখা যায় স্কুলে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুই লাখ তেতাল্লিশ হাজার শারিরীকভাবে অক্ষম। আর তাদের এই অক্ষমতার কারণে পড়ালেখা শুরু হতে না হতেই শেষ হয়ে যায়। কারণ তাদের জি’র মতো কোন বন্ধু থাকে না।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন