শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৪৩ পিএম

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সরকার

বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন দেশের সরকার ও বহির্বিশ্ব। বিমানবন্দরে একজনের বেশি সঙ্গী না নেয়ার অনুরোধ জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ভিআইপিদের প্রতি চিঠি পাঠাচ্ছেন। গত ২৮ ডিসেম্বর এ সংক্রান্ত আধা সরকারি ওই চিঠিতে (ডিও) সই করেছেন মন্ত্রী। যা এখনও মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হচ্ছে।

এদিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাচাই করতে এক মাসের শুরুতে আবারও ঢাকায় এসেছেন ব্রিটিশ বিমান নিরাপত্তা গোয়েন্দাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তা জন লেগোভস্কি ।

সম্প্রতি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এবং যশোর বিমানবন্দরে দুটি অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ভিআইপিদের সঙ্গে তাদের কর্মীরা ঢুকে পড়লে নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দেয়। এ সময় বিমানবন্দরে তৈরি হয় অপ্রীতিকর পরিবেশ।

গত ২৭ ডিসেম্বর মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে রাশেদ খান মেনন নিরাপত্তার বিষয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় কেউ বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করলে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এর একদিন পরই মন্ত্রী ডিও পাঠাতে শুরু করেন।

ব্রিটিশ বিমান নিরাপত্তা গোয়েন্দাদের আঞ্চলিক কর্মকর্তা জন লেগোভস্কি গত মঙ্গলবার শাহজালাল বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন। দিল্লি থেকে আসা এই ব্রিটিশ কর্মকর্তা দুই দিনের সফরে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের কার্গো শাখা এবং ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটের নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখবেন বলে জানা গেছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন (সিভিল অ্যাভিয়েশন) কর্তৃপক্ষের একটিসূত্র জানায়, সম্প্রতি সন্ত্রাসীদের পেতে রাখা বোমায় মিসরের শারম আল শেখ বিমানবন্দর থেকে উড়ে যাওয়া একটি রুশ বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের ডিপার্টমেন্ট অব ট্রান্সপোর্ট বাংলাদেশসহ আরও কিছু দেশকে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে তাগাদা দিচ্ছে। বিশেষ করে যেসব দেশ থেকে যুক্তরাজ্যে সরাসরি বিমান যায়, সেসব দেশের ওপর তারা নজর দিচ্ছে।

এরই অংশ হিসেবে ব্রিটিশ বিমান নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা আঞ্চলিক কর্মকর্তা জন লেগোভস্কি গত ১১ নভেম্বর ঢাকায় আসেন। তিনি সরেজমিন পরিদর্শনে শাহজালাল বিমানবন্দরের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্ক্যানার মেশিনের কার্যকারিতা এবং এর অপারেটরদের অদক্ষতা দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

এরপর ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ শাহজালাল বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার জন্য কিছু পর্যবেক্ষণসহ লিখিতভাবে তাগাদা দেয়। তাতে বিমানবন্দরে লোকজনের যাওয়া-আসা, মালামাল (ব্যাগেজ) ব্যবস্থাপনা, বিস্ফোরক চিহ্নিত করার ব্যবস্থা এবং উড়োজাহাজে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় নিরাপত্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। সেসব পরামর্শ কতটা বাস্তবায়ন করা হয়েছে, তা স্বচক্ষে দেখার জন্যএকই কর্মকর্তা আবার ঢাকায় এসেছেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাজ্য উদ্বেগ জানানোর পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় বাড়তি কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে ইতোমধ্যে শক্তিশালী স্ক্যানার মেশিন ও বিস্ফোরক চিহ্নিতকরণ মেশিন বসানো হয়েছে। যাত্রীদের চেক-ইনের সময় নিরাপত্তা তল্লাশির ক্ষেত্রে আরও কড়াকড়ি করা হয়েছে। মালামাল ব্যবস্থাপনায় জড়িত কর্মীদের ব্যাপারে গোয়েন্দা ও পুলিশের নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেয়া হচ্ছে। ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটের যাত্রীদের স্ক্যানিংয়ের জন্য নেয়া হয়েছে তিন স্তরের ব্যবস্থা। কাজ করছে র‌্যাবের ডগ স্কোয়াডও।

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩