বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বিয়ের পর মুটিয়ে যাওয়া রোধ করার উপায়

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

বিয়ের পর মুটিয়ে যাওয়া রোধ করার উপায়

সোনালীনিউজ ডেস্ক
বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী দুই জনেরই হুট করে ওজনটা বেড়ে যায়। কিন্তু কেন জানি স্বামীর ক্ষেত্রে অতটা বেশি নজরে না পড়লেও, কিন্তু স্ত্রীর ক্ষেত্রে বেড়ে যাওয়া ওজনটা বেশ ভাল মতোই নজরে পড়ে। কিন্তু হঠাৎই কেন ওজন এত বেড়ে যায় তা কি ভেবে দেখেছেন?

বিয়ের পর একটি মেয়ে যে শুধু নিজের বাড়িটা পেছনে ফেলে আসে তা নয়। সেই সঙ্গে ফেলে আসে এত দিনের পুরানো খাদ্যাভ্যাস,খাবার সময়,পরিমান। একটি নতুন পরিবেশে নিজেকে মানিয়ে নেয়া, নতুন পরিবারের সবাইকে খুশি করা, নতুন খাবারে নিজেকে মানিয়ে নেয়া, সব মিলিয়ে মানসিক চাপ ও অনিয়মের মিলেমিশে কখন যে অজান্তে ওজন বেড়ে যায় তা কেউই টের পায় না। হঠাৎ করে সুন্দরী কণে থেকে হয়ে যান অধিক ওজনের একজন নারী।

আসুন জেনে নেয়া বিয়ের পর ওজন নিয়ন্ত্রণে রেখে কিভাবে শেপে থাকা যায়। বিয়ের পরের কিছু ডায়েট টিপস। তবে কেবল মেয়েদের জন্য নয়, নারী-পুরুষ উভয়েই এই টিপস মেনে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ওজন–

১।- নিজের খাবারের সময়ের খুব বেশি হেরফের করবেন না । দুই বেলার খাবারের ভেতর যেন খুব বেশি গ্যাপ না হয় সেদিকে নজর রাখুন। বেশি অনিয়মে ওজন বাড়বেই বাড়বে।

২। – হানিমুনে গেলে খুব বেশি জাঙ্ক ফুড না খেয়ে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন – পোলাও, বিরিয়ানি না খেয়ে গ্রিল করা চিকেন বা মাছ খেতে পারেন। সাথে খাবেন প্রচুর পরিমানে সালাদ । আর মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন কেক, পেস্ট্রি খাওয়ার বদলে ফ্রুট সালাদ আর ফলের রস খেতে পারেন। ভ্রমনে গেলে রিচ ফুড এমনিতেও এড়িয়ে চলা উচিত।

৩। – ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে ভিটামিন বি জাতীয় ওষুধ খেতে পারেন। নতুন পরিবেশে নতুন দায়িত্ব নেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় এনার্জি জোগাবে ভিটামিন বি, বাড়ি খাবারের প্রয়োজন পড়বে না।

৪। –বিয়ের পর প্রায় প্রতিদিনই কোন না কোন আত্মীয়ের বাসায় নতুন জুটির দাওয়াত থাকাটাই স্বাভাবিক। আর এতেই ওজন অনেকটা বেড়ে যায়। তাই বলে কোথাও দাওয়াতে গেলে একদমই যে খাবেন না তা কিন্তু নয়, ঘি ও তেল মশলা দেয়া খাবার কম নিয়ে সালাদের পরিমান বাড়িয়ে দিন। কোমল পানীয়ের বদলে পানি পান করুন। গরু বা খাসীর মাংসের বদলে মাছ ভাজা থাকলে তা খেতে পারেন। দুপুরে বা রাতে দাওয়াত থাকলে ১১টার সময়কার কিংবা বিকালের নাস্তাতা এড়িয়ে যান।

৫। –শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব হলে মোটা হয়ে যাবার প্রবনতা দেখা দেয়। তাই চা– কফি ও কোল্ড ড্রিঙ্কস খাওয়া কমিয়ে দিন। আর রাতে শুতে যাবার আগে এক গ্লাস দুধ খাবার কথা ভুলবেন না, কারন দুধই ক্যালসিয়ামের সব চাইতে বড় উৎস। কষ্ট করে হলেও ব্যাপারটা মেনে চলুন।

৬। – নতুন পরিবারে গেলেও নিজের ব্যায়ামের রুটিনটা মেনে চলুন। যতই ব্যস্ত থাকুন না কেন দিনে অন্তত আধা ঘণ্টা শরীর চর্চায় ব্যয় করুন। নিদেন পক্ষে নিজের কামরায় দরজা আটকে কিছু ফ্রি হ্যান্ড ব্যায়াম করে নিন।

৭। –বিয়ের পর সকলেরই একটা প্রবণতা বাড়ে। সেটা হলো সকালে একটু বেশি ঘুমানো বা দুপুরে ভাত খাওয়ার পর ঘুম। ওজন বৃদ্ধি করার জন্য এর চাইতে খারাপ অভ্যাস আর হতে পারে না। বিশেষ করে ভাত ঘুমটা তো অবশ্যই পরিহার করুন।

৮। –বিয়ের পর দুজনে নানান স্থানে বেড়াতে যাবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তবে চেষ্টা করুন যেন সপ্তাহে একদিনের বেশি খুব হুলস্থুল খাওয়া দাওয়ার স্থানে যাওয়া না হয়।

৯। –নারীরা জন্ম নিয়ন্ত্রণের জন্য পিলের ওপর ভরসা না করে বেছে নিন অন্য কোন পদ্ধতি। পিল আপনার শরীরে যেসব সাইড এফেক্ট দেখায় তার মানে একটি হলো অকারণে ওজন বৃদ্ধি।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩