রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বুদ্ধিজীবীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে ইসলাম

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

বুদ্ধিজীবীদের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়েছে ইসলাম

মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী, সোনালীনিউজ
ইসলাম বুদ্ধিজীবীদের অতুলনীয় সম্মান দিয়েছে। নিরক্ষর হওয়া সত্ত্বেও মহানবী হজরত মুহম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুসলমানদের সব সময় জ্ঞান সাধনায় উদ্বুদ্ধ করেছেন, কথা বলেছেন।

তিনি ঘোষণা করেন, ১. 'শিক্ষিত সম্প্রদায় নবীর উত্তরাধিকারী। যে জ্ঞানকে ব্রত হিসেবে গ্রহণ করেছে, সে তার এক বিরাট অংশ অধিকার করেছে এবং যে জ্ঞানার্জনের পথে নিজেকে নিয়োজিত করে আল্লাহ তার জন্য বেহেশতের পথ সুগম করেন।' ২. 'জ্ঞানের জন্য চীনে যেতে হলেও এটি অনুসন্ধান কর।' ৩. 'জ্ঞানের অন্বেষণে যে তার বাসস্থান ত্যাগ করে সে আল্লাহর পথে ভ্রমণ করে।' ৪. 'শহীদের রক্তের চেয়ে বিদ্বানের কালি পবিত্রতর।'

মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বিভিন্ন যুদ্ধে বন্দি অমুসলিম বুদ্ধিজীবীদের মুক্তিপণ হিসেবে আর্থিক বা বৈষয়িক সুবিধার বদলে তারা কোনো মুসলমানকে অক্ষরজ্ঞান দান করলে মুক্তি দেওয়া হবে এমন শর্ত নির্ধারণ করতেন। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেক হাদিসে বলা হয়েছে- 'রাতে কিছু সময় জ্ঞান চর্চা করা সারা রাতের নফল ইবাদতের চেয়ে উত্তম' (দারিমির সুনান থেকে মিশকাতে)।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে এ দেশের বুদ্ধিজীবীরা পাকিস্তানি হানাদারদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। এ হত্যাকান্ড যে ইসলামের দৃষ্টিতে সাধারণ হত্যাকাণ্ডের চেয়েও জঘন্য তা বুদ্ধিজীবীদের প্রতি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই অনুমান করা যায়। ইসলাম যেকোনো অবৈধ হত্যাকান্ডকে জঘন্য অপরাধ বলে মনে করে। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদাররা বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালায়। ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগসহ নানা অপরাধে তারা জড়িত ছিল।

আমাদের দেশের কেউ কেউ এসব অপকর্মে মদদ জুগিয়েছে। বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডেও তাদের ভূমিকা ছিল। ইসলাম কোনো অবস্থায় জালেমদের সহায়তা করাকে অনুমোদন করে না। মহানবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদিসে ইরশাদ করা হয়েছে, 'সত্যকে পরাভূত করার জন্য যে ব্যক্তি জালেমকে সাহায্য করল সে মহান আল্লাহ ও তার রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হেফাজত বহির্ভূত হয়ে গেল। মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনী এবং তাদের সহযোগীরা ইসলামের নামে ইসলামবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিল বলেই আল্লাহর পক্ষ থেকে তাদের ওপর গজব বা শাস্তি নাজিল হয়েছিল।

এ প্রসঙ্গে হজরত আলী (রা.) বর্ণিত একটি হাদিস স্মরণযোগ্য। তিনি বলেন, 'রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নির্যাতিতদের বদ দোয়াকে ভয় কর। কেননা সে আল্লাহর কাছে নিজের অধিকার প্রার্থনা করে। আর আল্লাহতায়ালা কোনো হকদারকে তার অধিকার থেকে বঞ্ছিত করেন না।

লেখক : মাওলানা মুহাম্মদ আশরাফ আলী, খতিব, আল আমিন জামে মসজিদ, খুলনা।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩