মঙ্গলবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১৮, ৪ পৌষ ১৪২৫

বেকায়দায় বিএনপি

বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০১৮, শনিবার ০৮:৫৮ পিএম

বেকায়দায় বিএনপি

ঢাকা : একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা রায়ের পর সাময়িক বেকায়দায় বিএনপি। এমনটাই মনে করছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলেন, রায়ের প্রতিবাদে কর্মসূচি ঘোষণার কারণে তফসিল ঘোষণার আগে দলের কারাবন্দি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ ৫ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নামার পরিকল্পনায় ব্যাঘাত ঘটেছে। রায়ের প্রতিবাদে ঘোষিত সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি শেষে ৫ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নামবে বিএনপি।

তারা আরো বলেন, সাময়িক বেকায়দায় পড়লেও একটি লাভ হয়েছে। সেটা হলো সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন, চাঙ্গা হয়েছেন। তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ সমাবেশসহ কোনো ধরনের প্রতিক্রিয়া না দেখানোর নির্দেশ থাকলেও নেতাকর্মীরা তা মানেননি। বরং নিজ উদ্যোগে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলেছে কি না জানতে চাইলে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান বলেন, সরকারের একের পর এক ষড়যন্ত্রে বিএনপি চিন্তিত। বিশেষ করে একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়ে কিছু বেকায়দায় পড়েছে। তবে লাভও হয়েছে। সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সারা দেশে দলের নেতাকর্মীদের প্রতিক্রিয়া দেখাতে নিষেধ করলেও বসে থাকেননি তারা। এটি বিএনপির জন্য লাভ হয়েছে। কারণ সারা দেশে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়েছেন, চাঙ্গা হয়েছেন। তার প্রমাণ সারা দেশে দলের নেতাকর্মীরা রায়ের প্রতিবাদে তাৎক্ষণিকভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ, মিছিল করেছেন। তবে তারা সরকারের ফাঁদে পা দেননি। গাড়ি ভাঙচুর কিংবা অন্য কোথাও হামলা করেননি। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানিয়ে ঘরে ফিরে গেছেন।

তিনি বলেন, বিএনপি সাময়িকভাবে বেকায়দায় পড়লেও চলতি সপ্তাহের কর্মসূচির পর ৫ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে নেমে আসবে।

সম্প্রতি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে স্থায়ী কমিটির সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করেছিলেন। বৈঠকে ৫ দফা দাবি আদায়ে বিভাগীয় পর্যায়ে সমাবেশ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কিন্তু গত বুধবার একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণার পর কর্মসূচি ঘোষণায় তাদের পরিকল্পিত বিভাগীয় সমাবেশে ব্যাঘাত ঘটেছে। এখন তারা রায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালনে ব্যস্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির অপর ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সরকার তাদের পরিকল্পনায় কিছু ব্যাঘাত ঘটিয়েছে ঠিকই। কিন্তু সরকারের অবস্থাও নড়বড়ে। এতদিনে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন, তফসিল ঘোষণার কথা ছিল। কিন্তু সরকার এখনো ঠিক করতে পারছে না এর কোনোটাই। কারণ, তারা বুঝে গেছে তাদের পায়ের তলায় মাটি নেই। অস্থির হয়ে পড়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকার।

বিএনপির একটি ঘনিষ্ঠ সূত্র জানায়, গত রোববার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের গুলশানের বাসভবনে বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতারা বৈঠক করেন। বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তিসহ পাঁচ দফা দাবিতে একমঞ্চে থেকে আগামী দিনে আন্দোলন করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপি, যুক্তফ্রন্ট ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া।

তাদের অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে- নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেওয়া, প্রধানমন্ত্রীসহ মন্ত্রিসভার পদত্যাগ, নিরপেক্ষ সরকার গঠন, সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিয়ে নির্বাচনের আগে ও পরে মোতায়েন রাখা, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন ও ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহার না করা, নিরাপদ সড়কের দাবি ও কোটা সংস্কার আন্দোলনে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে তাদেরসহ সব রাজনৈতিক বন্দির মুক্তি দেওয়া।

এদিকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় ঘোষণাকে সামনে রেখে সারা দেশে বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড় অব্যাহত রেখেছিল পুলিশ। রায় ঘোষণার পরও বিএনপিদলীয় নেতাকর্মীদের ধরপাকড় চলছে। এভাবে ধরপাকড় করে সরকারের শেষ রক্ষা হবে না। একুশ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায়কে সামনে রেখে সরকার বিএনপিকে কোণঠাসা করতে চেয়েছিল। কিন্তু বিএনপি তাদের পাতানো ফাঁদে পা দেয়নি। বরং বিএনপি যা ঠিক করে রেখেছিল তাই করছে।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তোলার কাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে কর্মসূচি প্রণয়নের কাজ। কর্মসূচি চূড়ান্ত হলে ৫ দফা দাবি আদায়ে রাজপথে ঝাঁপিয়ে পড়বেন তারা।

সোনালীনিউজ/এমটিআই