বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বেড়েছে দুদকের তৎপরতা

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৯ পিএম

বেড়েছে দুদকের তৎপরতা

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

দুর্নীতিতে জড়িত সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে দুদক। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব ইকবাল মাহমুদ গত মাসের মাঝামাঝি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করার কয়েকদিন পরেই শুরু হয় দুদকের গ্রেফতার তৎপরতা।

গত মাসের ২৭ তারিখ রাতভর অভিযান চালিয়ে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির কয়েকজন আসামিকে গ্রেফতারের মধ্যে দিয়েই শুরু হয় এ কমিশনের প্রথম গ্রেফতার কার্যক্রম। ওইদিন রাতভর অভিযান চালিয়ে বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ৪ আসামিকে গ্রেফতার করে দুদক।

এরপর তাদের রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের হাতে গ্রেফতার হওয়া বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারির ওই আসামিরা বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। এরপর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রায় প্রতিদিনই চলে দুদকের গ্রেফতার অভিযান। ওইদিন রাত থেকে এ পর্যন্ত সারাদেশে অর্ধশতাধিকের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে দুদক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২৭ মার্চ রাত থেকে শুরু হওয়া গ্রেফতার অভিযানে এ পর্যন্ত ৫২ জন আসামিকে গ্রেফতার করেছে দুদক। তার মধ্যে চলতি মাসের ১৯ ও ২০ তারিখ দু’দিনেই দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সরকারি, বেসরকারি পর্যায়ের মোট ২৩ জনকে গ্রেফতার করে দুদক।

গত ২০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক নিউরো সার্জন ডাক্তার মো. জাহাঙ্গীরসহ মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করে দুদক। ঢাকা, বগুড়া, টাংগাইল, দিনাজপুর এবং কুমিল্লা থেকে তাদের পৃথক দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার করেন রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটির তদন্ত কর্মকর্তারা। এর আগে গত ১৯ এপ্রিল ১৪ জনকে গ্রেফতার করে দুদক।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দুদকের দায়ের করা নিজস্ব মামলা রয়েছে প্রায় ৩ হাজার। এর বাইরে আদালত, থানা ও বিভিন্ন দফতর থেকে প্রায় ১৫ হাজারের মতো মামলা রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি দমন সংস্থাটিতে তদন্তের জন্য এসেছে। দুদকের তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এসব মামলায় আসামি প্রায় ২০ হাজার। এর মধ্যে জামিনের বাইরে আছেন প্রায় ৮ হাজার আসামি।

তবে এসব আসামিদের বেশিরভাগই দুদকের গ্রেফতার এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছেন। গ্রেফতার অভিযানের সঙ্গে জড়িত দুদকের একাধিক তদন্তকারী কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, অনেক আসামি গ্রেফতার এড়াতে পলাতক রয়েছেন।

এদিকে, সাম্প্রপ্রতিক গ্রেফতার অভিযানে নেমে দুদকের কর্মকর্তারা অনেক তিক্ততার কথাও জানিয়েছেন। বলেছেন, গ্রেফতারে দুদকের লোকবল সংকট থাকায় অনেক জায়গায় পুলিশের সহযোগিতা নিচ্ছেন। আসামি গ্রেফতারের পর দুদকে রাখার ব্যবস্থা না থাকায় থানায় পাঠাতে হচ্ছে। অভিযানের জন্য শক্তিশালী আলাদা ফোর্স গঠনেরও দাবি জানান তারা।

সেই সঙ্গে আসামি ধরতে আলাদা ট্র্যাকার মেশিনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন দুদকের কর্মকর্তারা। দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, তারা পৃথকভাবে আসামিদের তালিকা তৈরি করেছেন। সে তালিকায় রয়েছেন বিভিন্ন মামলায় জামিন না নিয়ে পলাতক আসামিরা।

এর মধ্যে রয়েছেন ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিনিয়র কর্মকর্তা, ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎকারী ব্যবসায়ী, সেবা সংস্থার প্রকৌশলী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, এলজিইডি, রাজউকের প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ, তিতাস, ওয়াসাসহ সেবা খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারী, ব্যাংকের ঋণ গ্রহীতা, অর্থ আত্মসাৎকারী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন এজাহারভুক্ত আসামি।

মামলার তদন্তকারী দুদক কর্মকর্তারা মনে করছেন, সাম্প্রপ্রতিক গ্রেফতার অভিযানের খবরে অনেক আসামিই পালিয়েছেন। তবে এর মধ্যেও বিভিন্ন কৌশলে আসামিদের গ্রেফতার করছেন দুদকের কর্মকর্তারা। তাদের এই গ্রেফতার অভিযান অব্যহত থাকবে এবং দুর্নীতিগ্রস্ত ‘হেভিওয়েট’ আরও অনেক ব্যক্তিকেও দুদকের জালে আটকাতে হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩