রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে রেকর্ড

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভে রেকর্ড

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের ক্ষেত্রে সর্বকালের রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আর কখনোই বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের পরিমাণ এতটা স্ফীত হয়নি। রিজার্ভ বৃদ্ধির এই সংবাদ যে কোনো বিচারেই উল্লেখের দাবি রাখে।

বাংলাদেশকে এক সময় বৈদেশিক মুদ্রার জন্য উন্নত দেশগুলোর নিকট ধর্ণা দিতে হতো। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। বাংলাদেশ এখন ইচ্ছে করলেই উন্নয়ন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রার যোগান নিজেই দিতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তথা সরকার বৈদেশিক মুদ্রার এই রেকর্ড পরিমাণ রিজার্ভ নিয়ে উল্লসিত। প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটানোর মতো নির্দিষ্ট পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ না থাকলে যে কোনো দেশের সরকারকেই বিপাকে পড়তে হয়। সে দিক থেকে বাংলাদেশ এখন নিরাপদ এবং স্বস্তিদায়ক অবস্থানে। বৈদেশিক মুদ্রার জন্য এখন তাকে আর উন্নত দেশগুলোর কাছে ধর্ণা না দিলেও চলবে। বিশ্বে এমন অনেক দেশ আছে যারা প্রতিনিয়তই বৈদেশিক মুদ্রার জন্য উন্নত দেশগুলোর নিকট ধর্ণা দিয়ে থাকে। একটি দেশের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে দেশটির আত্মমর্যাদা বলে কিছুই অবশিষ্ট থাকে না।

স্বাধীনতার পর এক সময় বাংলাদেশকে বিদ্রুপ করে ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি’ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। কেউ বা বাংলাদেশকে ‘টেস্ট কেস’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে টিকে থাকতে পারবে কিনা তা নিয়ে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে বাংলাদেশ প্রমান করেছে যে ‘টেস্ট কেস’ হবার জন্য তার সৃষ্টি হয়নি। বাংলাদেশ এখন বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে ‘উন্নয়নের মডেল’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশ্বের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান মন্তব্য, আগামী ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশে পরিণত হতে পারবে। এমন কি ৩০টি শীর্ষস্থানীয় শিল্পোন্নত দেশের কাতারে বাংলাদেশ অবস্থান করবে। অনেক সমালোচকই বলে থাকেন,বাংলাদেশ ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির চক্রে আটকে আছে। কিন্তু তারা একবারও ভেবে দেখার প্রয়োজন বোধ করেন না যে, দীর্ঘদিন ধরে ৬ শতাংশের উপরে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখাটা কটি দেশের পক্ষে সম্ভব হয়েছে?

সরকার আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোন তৈরি করতে যাচ্ছে। মাত্র কদিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে ১০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের প্রাথমিক অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

২০৩০ সালের মধ্যে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক জোনের কার্যক্রম শুরু হবে। এই মহাযজ্ঞ সম্পন্ন হলে দেশে চেহারা পাল্টে যাবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়িত হবার পর দেশের রপ্তানি আয় ৪৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে প্রায এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এই অর্থনৈতিক জোনগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিনিয়োগ কার্যক্রমে চমৎকার গতিশীলতা আসবে। বর্তমানে আমাদের বিনিয়োগের পরিমাণ হচ্ছে জিডিপি’র ২৯ শতাংশের কিছু বেশি।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩