রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

ব্যাংকিং খাতে কমেছে খেলাপি ঋণ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

ব্যাংকিং খাতে কমেছে খেলাপি ঋণ

বিশেষ প্রতিনিধি

ঋণ পুনঃতফসিল ও পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে ব্যাংকিং খাতে কমেছে খেলাপি ঋণ।  কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযাযী, সেপ্টেম্বর প্রান্তিকের তুলনায় ডিসেম্বরে খেলাপি ঋণ তিন হাজার ৩৩৭ কোটি টাকা কমেছে। ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। যা মোট বিতরণকৃত ঋণের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমেছে শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ডিসেম্বর প্রান্তিকে ঋণ পুনঃতফসিল ও পরিশোধের মেয়াদ বাড়ানোর ফলে খেলাপি ঋণ কমেছে। সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৫৪ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। জুন প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর মোট খেলাপি ঋণ ছিল ৫২ হাজার ৫১৯ কোটি টাকা। মার্চে ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার কারণে খেলাপি ঋণ কমেছে।’

তিনি বলেন, এমনিতেই শেষ প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর আদায় জোরদার হয়ে থাকে। এছাড়া পুনঃতফসিলের প্রভাব পড়েছে।

প্রসঙ্গত, গেল দুই বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পুনঃতফসিল করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০১৫ সালে এসে দীর্ঘ মেয়াদে বড় ঋণ পুনর্গঠনের সুযোগ নিয়ে ১১টি গ্রুপের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার ঋণ পুনর্গঠন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ডিসেম্বর শেষে ব্যাংকগুলো ৫ লাখ ৯৫ হাজার ৩০২ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করেছে। এর মধ্যে খেলাপি ঋণ ৫১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ১৫৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০১৩ সালের ডিসেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৫৮৩ কোটি টাকা বা ৮ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩৯টি বেসরকারি ব্যাংকের চেয়ে ৬ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেশি। আলোচ্য সময়ে রাষ্ট্রীয় মালিকানার সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বিডিবিএলের খেলাপি ঋণ বেড়ে ২৩ হাজার ৭৪৪ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা এসব ব্যাংকের মোট ঋণের ২১ দশমিক ৪৬ শতাংশ। এর আগে ২০১৪ ডিসেম্বর শেষে এসব ব্যাংকের ২২ হাজার ৭৬৩ কোটি টাকার বেশি খেলাপি ঋণ ছিল। যা ওই সময় বিতরণকৃত ঋণের ২২ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০১৩ সাল শেষে রাষ্ট্র মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংকে অর্থাৎ সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৬ হাজার ৬০৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা যা মোট ঋণের ১৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

২০১৫ সাল শেষে বেসিক ব্যাংকের খেলাপি ঋণ আগের প্রান্তিকের চার হাজার ১৪৬ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ছয় হাজার ৩৯২ কোটি টাকা হয়েছে। সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে আট হাজার ১০০ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে যা সাত হাজার ৯১৮ কোটি টাকা ছিল। ডিসেম্বর শেষে অগ্রণী ব্যাংকে খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে চার হাজার ২২৪ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে ছিল চার হাজার ৭২১ কোটি টাকা। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ তিন হাজার ৭৬২ কোটি থেকে কমে দুই হাজার ৮৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। রূপালী ব্যাংকে এখন খেলাপি ঋণ রয়েছে এক হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা। গত সেপ্টেম্বরে যা এক হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা ছিল। আর বিডিবিএলের খেলাপি ঋণ ৫৯৬ কোটি থেকে বেড়ে হয়েছে ৬৪৯ কোটি টাকা।

বেসরকারি ৩৯ ব্যাংকে ২০১৫ শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হয়েছে ২০ হাজার ৭৬০ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এর আগে ২০১৪ সাল শেষে এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকা বা ব্যাংকগুলোর বিতরণ করা ঋণের ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। ২০১৩ সাল শেষে ছিল প্রায় ১৪ হাজার ৩১৬ কোটি টাকা বা ৪ দশমিক ৫৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি ছিল।

বিশেষায়িত কৃষি ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের (রাকাব) খেলাপি ঋণ কমে হয়েছে ৪ হাজার ৯৬৮ কোটি টাকা বা তাদের মোট ঋণের ২৩ দশমিক ২৪ শতাংশ।

বিদেশি ৯ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বেড়ে ১ হাজার ৮৯৭ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা ওই ৯ ব্যাংকের মোট ঋণের ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। ২০১৪ সাল শেষে এর পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা বা মোট ঋণের ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ। ২০১৩ সাল শেষে ছিল প্রায় ১ হাজার ৩০৪ কোটি টাকা বা সাড়ে ৫ শতাংশ।

ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট শ্রেণিকৃত ঋণের মধ্যে মন্দমানে শ্রেণিকৃত ঋণ রয়েছে ৪৩ হাজার ৪৮৬ কোটি টাকা। আগের প্রান্তিকে যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। সন্দেহজনক মানে শ্রেণিকৃত ঋণ তিন হাজার ৩২১ কোটি টাকা। সেপ্টেম্বরে যা চার হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ছিল। আর সাব-স্ট্যান্ডার্ড বা নিম্নমানে শ্রেণিকৃত রয়েছে চার হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা। তিন মাস আগে ছিল ছয় হাজার ১৪৭ কোটি টাকা।

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩