শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

বড় কর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাচ্ছে এনবিআর

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

বড় কর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাচ্ছে এনবিআর

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

রাজস্ব ঘাটতি কাটাতে পারছে না জাতীয রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হচ্ছে। আর প্রতি মাসেই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ঘাটতির আকার বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে শুধুমাত্র আয়কর আহরণেই লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি পিছিয়ে আছে এনবিআর।

এ পরিস্থিতিতে রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে বড় কর মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি চাচ্ছে এনবিআর। এই লক্ষ্যে ওসব মামলা নিষ্পত্তি করে বড় অঙ্কের বকেয়া কর আদায়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমেও বড় মামলাগুলোর নিষ্পত্তির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) আওতায় এনবিআরের বড় কর মামলাগুলো। চলতি অর্থবছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত উচ্চ আদালতে এলটিইউর অনিষ্পন্ন বড় মামলার সংখ্যা ছিল ৫৯০টি। তাতে রাজস্ব আটকে আছে প্রায় ৪ হাজার ৮৯৬ কোটি টাকা। তার মধ্যে গত চার অর্থবছরেরই ২৯৫টি মামলায় আটকে আছে ২ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা। 

ওসব অনিষ্পন্ন মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য উচ্চ রাজস্ব সংশ্লিষ্ট রেফারেন্স মামলার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এ জন্য অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে এলটিইউ। একই সঙ্গে এডিআরে মাধ্যমেও সমাধানের চেষ্টা করছে এনবিআর। সেজন্য কয়েকজন ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যারা করদাতা ব্যক্তি ও কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা শুরু করেছে।

সূত্র জানায়, এনবিআর রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে এলটিইউকে সর্বোচ্চ ১০ করদাতার ওপর নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ওসব করদাতার কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকা আদায় হয়েছে। যা এলটিইউর মোট আদায়ের ৬৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরেও ওসব করদাতার কাছ থেকে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা পাওয়ার লক্ষ্যে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। এডিআরের মাধ্যমে সর্বশেষ হিসাব পর্যন্ত এনবিআর প্রায় আড়াইশ’ কোটি টাকা রাজস্ব পেয়েছে। আরো কয়েকটি বড় মামলা এডিআরে এনে দু’মাসের মধ্যে ৩শ’ কোটি টাকা পাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেসরকারি কয়েকটি ব্যাংকের ৮ থেকে ১০ বছরের পুরনো মামলা এডিআরে নিষ্পত্তির জন্য আবেদন জমা পড়েছে। সেগুলো আগামী মে মাসের মধ্যে সমাধানের প্রক্রিয়া চলছে।

সূত্র আরো জানায়, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ৮ মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি হয়েছে ১৩ হাজার ৫১১ কোটি টাকা। এই সময়ে ১ লাখ ৪ হাজার ১৬৫ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আমদানি শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর বা মূসক, আয়করসহ মোট শুল্ককর আদায় হয়েছে ৯০ হাজার ৬৫৪ কোটি টাকা। তাতে রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ দশমিক ৫৫ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে আয়কর খাতে সবচেয়ে বেশি রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে আয়কর, ভ্রমণ করসহ প্রত্যক্ষ কর আদায় হয়েছে ২৭ হাজার ৮৭৯ কোটি টাকা। অথচ লক্ষ্য ছিল ৩৪ হাজার ১২২ কোটি টাকা। সেক্ষেত্রে ঘাটতি হয়েছে ৬ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা।

এদিকে বর্তমানে হাতেগোনা কয়েকটি মামলায় বড় অঙ্কের রাজস্ব জড়িয়ে আছে। ইতিমধ্যে এক দশক আগের মামলাও এডিআরের নিষ্পত্তির আবেদন পড়েছে। আবার অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসের মাধ্যমেও বড় মামলার নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব মিলিয়ে পুরনো মামলা থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে এনবিআরের চেয়ারম্যান মো. নজিবুর রহমান বলেন, বছরের পর বছর ওসব মামলায় আটকে রয়েছে কয়েক হাজার কোটি টাকার রাজস্ব। এর আগে বিচ্ছিন্নভাবে নানা উদ্যোগ নিলেও কোনোটি আলোর মুখ দেখেনি। এখন প্রথমবারের মতো সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আটকে থাকা রাজস্ব সরকারের কোষাগারে আনার প্রচেষ্টা চলছে। নিষ্প্রাণ এডিআর এখন জনপ্রিয়তা পেয়েছে। একটি বিশেষ টিম গঠন করে বড় অঙ্কের রাজস্ব মামলাগুলো সমাধানের চেষ্টা চলছে।  সেজন্য ১০ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আরো দু’জনকে নিয়োগের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এসব ব্যক্তি অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে যোগাযোগ করে বড় মামলাগুলো দ্রুত সমাধান করবেন।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
শনিবার, ০৩ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩