বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অনিশ্চিত

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৩৪ পিএম

ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি অনিশ্চিত

বিশেষ প্রতিনিধি
ঝুলে গেল ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রক্রিয়া। বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দেয়ার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি। বর্তমানে ভারত থেকে যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে তারচেয়ে ভবিষ্যৎ আমদানিতে অনেক বেশি দাম চাচ্ছে ভারত। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, গত ডিসেম্বর মাসেই ভারত থেকে ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির প্রক্রিয়া থেকে ত্রিপুরার পালাটানা গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করার কথা ছিল। এজন্য উভয় দেশে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু ভারত বিদ্যুতের বেশি দাম চাওয়ায় এখনো আমদানি শুরু হয়নি। আর বাকি ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ভারত থেকে আমদানি করা হচ্ছে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা দিয়ে। এজন্য ভেড়ামারায় বিদ্যমান আন্তঃসংযোগ উপকেন্দ্রটির সক্ষমতা বাড়ানোর যে প্রকল্প নেয়া হয়েছিল তার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
সূত্র জানায়, ভারত প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম চাচ্ছে ৮ রুপি (প্রায় ১০ টাকা)। গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রের বিদ্যুতের ওই দাম অনেক বেশি। যদিও তারমধ্যে সঞ্চালন ব্যয়ও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ভারত থেকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা হয়ে যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে সঞ্চালন ব্যয়সহ তার প্রতি ইউনিটের দাম পড়ছে ৬ টাকার মতো। এ পরিস্থিতিতে প্রস্তাবিত বিদ্যুতের দাম বেশি হওয়ায় ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে বিদ্যুৎ বেচাকেনার চুক্তি সই না করে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় দামের প্রস্তাবটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠায়। তারপর ভারত সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার সিদ্ধান্ত হয়। সে প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সম্প্রতি একটি সভাও হয়। তবে দাতা সংস্থার পক্ষ থেকে ভারতের প্রস্তাবটি গ্রহণ করার জন্য অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে। কিন্তু সরকার চাচ্ছে এ ব্যাপারে একটু ধীরে চলতে। আর বিদ্যুতের দাম সম্পর্কে ধারণা পাওয়ার পরই প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি নির্ধারণ করা হতে পারে।
সূত্র আরো জানায়, আগামী ২০১৮ সালে ভারত থেকে ভেড়ামারা দিয়ে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এদেশে আসার কথা। কিন্তু দাম নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ভেড়ামারা থেকে যে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বাংলাদেশ পাচ্ছে সেই দামে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহে ভারত আপত্তি জানিয়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে জানানো হয় আগামী জুন মাসে ভারতের কেন্দ্রীয় রেগুলেটরি বোর্ড নতুন করে বিদ্যুতের দাম নির্ধারণ করার পরই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। তাছাড়া ভেড়ামারা থেকে ওই বাড়তি বিদ্যুৎ আনার জন্য বিদ্যমান উচ্চক্ষমতার গ্রিড উপকেন্দ্রটির (এইচভিডিসি) ক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থ সহায়তায় একটি প্রকল্প নিয়েছে পিজিসিবি। ওই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য দরপত্র আহ্বান করে একটিমাত্র দরপ্রস্তাব পাওয়া গেছে। যাতে দাম প্রস্তাব করা হয়েছে অনেক বেশি। আর দাম বেশি চাওয়ায় ওই প্রস্তাব পিজিসিবির বোর্ড গ্রহণ করেনি।
এদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নের যে দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে তাতে আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার মাধ্যমে বিদ্যুৎ আমদানি একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। ২০৩০ সালের মধ্যে ৪০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনায় শেষ পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াটই হতে পারে আমদানি করা বিদ্যুৎ। কাজেই বিদ্যুৎ আমদানির ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ত্রিপুরা সরকার বিদ্যুতের যে দাম নির্ধারণ করেছে তা একটু বেশিই মনে হচ্ছে। তাই বিষয়টি নিয়ে ত্রিপুরা সরকারের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

সোনালীনিউজ/এমএইউ/তা/হা

add-sm
Sonali Tissue
বৃহস্পতিবার, ০৮ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩