শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

ভালো ঘুমের ৯টি গোপন রহস্য!

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৪ পিএম

ভালো ঘুমের ৯টি গোপন রহস্য!

সোনালীনিউজ ডেস্ক

সারাদিন আপনার হাতে থাকে নানারকম কাজ-কর্ম! চোখ বুজে আসছে ক্লান্তিতে, অথচ ফুরসতই মেলেনা দু-দন্ড শান্তিতে ঘুমিয়ে নেবার। আবার ঘুমোতে গেলেই দেখা যায় অন্য সমস্যা!

সারারাত বিছানায় এপাশ-ওপাশ করেই কেটে যায়। হতচ্ছাড়া ঘুমের দেখাই মেলেনা। কিন্তু না ঘুমোলে শরীর টিকবে কী করে? হাতের এত এত কাজই বা হবে কী করে? আর তাই প্রতিদিন একটা লম্বা এবং শান্তিপূর্ন বিশ্রাম খুবই দরকার।

ভালো ঘুমের গোপন রহস্য:-
সারাদিন মানসিক অবস্থা কেমন ছিল তার ওপরেই মূলত নির্ভর করে আপনার রাতের ঘুমটা কেমন হবে! তবে তার বাইরেও আরো কিছু শত্রু রয়েছে আপনার যেগুলো খুব সহজেই আপনার ঘুমের বারোটা বাজিয়ে দিতে পারে।

আর তাই ভালো ঘুমের জন্যে খুব সাধারন কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে আপনাকে প্রতিদিন। মানুষভেদে ঘুমের সময়েরও রকমফের হয়। তাই প্রথমেই জেনে নেওয়া জরুরী আপনার ঠিক কতটা ঘুম দরকার। দরকারের অতিরিক্ত সময় ঘুমিয়ে থাকাটাও কিন্তু পরে নিদ্রাহীনতার কারণ হতে পারে!

সময় মেনে ঘুম:
কেবল পরিমাণমতন ঘুমালেই চলবেনা! ঘুমোতে হবে ঠিক সময়েও। একটা নির্দিষ্ট সময় মেনেই ঘুমোতে হবে রোজ। গবেষনায় দেখা গেছে- একই পরিমাণ ঘুম দিনের নির্দিষ্ট একটি সময়ে প্রতিদিন ঘুমালে বেশি ফল পাওয়া যায়! কেবল ঘুমানোই নয়। ঘুম থেকে উঠতেও হবে রোজ একই সময়ে! আর সময়ের আগেই যদি কখনো ঘুম আসে তবে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন অন্য কোন কাজে, যেমন- বন্ধুদের সাথে আড্ডা মারা, রান্না করা, টিভি দেখা!

ক্ষতিপূরণ:
কোনদিন যদি রাতে ঘুমোতে খানিকটা দেরীও হয়ে যায়, পরদিন যে কোনো একটা সময় ঘুমিয়ে সেটাকে পুষিয়ে দিতে হবে। শরীর যেন তারতম্যটা একেবারেই বুঝতে না পারে!

ইনসোমনিয়া:
ঘুম যদিও শরীরকে রিচার্জ করার অন্যতম একটা মাধ্যম হিসেবে ধরা হয়, ইনসোমনিয়ায় আক্রান্তদের ক্ষেত্রে সেটা খানিকটা সমস্যার সৃষ্টি করে। তবে ইনসোমনিয়ায় আক্রান্তরা বিকেলবেলা ৩০ মিনিটের জন্যে ঘুমিয়ে এই সমস্যা দূর করতে পারেন।

আলো:
মেলাটোনিন! আপনার মস্তিষ্কে সময়ে-অসময়ে ঘুমভাব তৈরী করে এই হরমোনটিই! আর এটি কাজ করে আলোর স্বল্পতায়। আর তাই দিনের বেলা ঘুমাতে চাইলে বেরিয়ে পড়ুন বাইরে, থাকুন ঝলমলে আলোতে, টিভি দেখুন, কম্পিউটারে বসুন, বাসা বা অফিসে ব্যবহার করুন উজ্জ্বল আলো! আর তাহলেই আপনি মুক্তি পাবেন অসময়ের ঘুম থেকে।

তবে রাতের বেলায় কিন্তু আবার এর ঠিক উল্টোটা করতে হবে। রাতে খুব একটা উজ্জ্বল আলো ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। রাতের বেলায় সহজে ঘুম আসতে তাহলে আর কোন সমস্যাই হবে না।

বিছানা:
বিছানা আপনার ঘুমোনোর স্থান! আর তাই বিছানাকে রাখুন শোরোগোল থেকে দূরে, ঠান্ডা এবং আরামদায়ক! কেবল ঘুম আর ভালো কিছু সময় কাটানোতেই বিছানার ব্যবহার করুন।

তাহলে বিছানার কাছে গেলেই আপনার শরীর ঘুমানোর জন্য প্রস্তুত হয়ে যাবে! ঘুমোতে যাবার আগে শুনুন হালকা সুরের গান, পড়ুন গল্পের বই! রিল্যাক্সে রাখুন শরীরকে! ঘুম আসবে আপনা আপনিই!

খাবার:
খাবারের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলুন। এ্যালকোহল থেকে দুরে থাকুন। রাতের কাবারে খুব ভারী কিছু খাওয়া থেকে বিরত থাকুন! অতিরিক্ত পানি আর ধুমপানটাকেও একটু পরিহার করুন।

ঘুমোনোর আগে ক্ষুধাবোধ হলে কার্বোহাইড্রেটজাতীয় খাবার, যেমন- স্যান্ডুইচ, কলা ইত্যাদি খান। কার্বোহাইড্রেট আপনার ভেতরে ঘুমভাব তৈরী করবে!

দুশ্চিন্তা:
দুশ্চিন্তা, রাগ, ভয়- এগুলোর যেকোনটাই আপনার ঘুমে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে! তাই যতটা পারা যায় এগুলোকে পরিহার করাই ভালো! এজন্যে-

১. দুশ্চিন্তার ব্যাপারগুলো নোট করে রাখা
২. যোগব্যায়াম করা
৩.পরিবারের সবার সাথে শেয়ার করা
৪. ঘুমের আগে বড় করে শ্বাস ছাড়া ইত্যাদি করতে পারেন!

রাতের ডিউটি:
অনেকেরই কর্মক্ষেত্রে রতেরবেলা ডিউটি করে থাকেন। তাদেরকে পুরো ছকটাকেই উলটো করে সাজাতে হবে। রাতের বদলে জাগতে হবে রাতে! আর এজন্যেই মেনে চলতে হবে নিচের নিয়মগুলো-

১. রাতে কাজের সময় কফি খাওয়া
২. খানিক বাদেই এদিক-ওদিক হেঁটে আসা
৩. ছুটির দিনগুলোতে বেশী করে ঘুমানো
৪. ঘরে দিনের বেলায় পর্দা ব্যবহার করে আলো কম রাখা
৫. শব্দ থেকে দুরে থাকা।

আর তাহলেই এই রাতের ডিউটির সমস্যাটাকে খুব সহজেই এড়িয়ে চলা যাবে।

হঠাৎ ঘুম ভেঙে যাওয়া:
হটাৎ করে ঘুম ভেঙে যেতেই পারে। যদিও ঘুম ভেঙে যাবার পর আবার ঘুমোতে যাওয়াটা বেশ কষ্টকর একটা ব্যাপার, তারপরেও নিজেকে ঠিক রাখতে আপনাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে ঘুমোতে যাবার। শরীরকে রিল্যাক্স বোধ করাতে হবে। গভীর শ্বাস এবং মেডিটেশন করলেও এসময় কাজ হতে পারে।

ডক্টর:
এতকিছু করবার পরেও যদি আপনার ঘুমে সমস্যা হযে থাকে, ডাক্তারকে দেখান। মেনে চলুন তার পরামর্শ! তবে স্লিপিং পিল থেকে দুরে থাকাটাই আপনার শরীরের পক্ষে ভালো!

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩