রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

ভেজাল গরম মসলার দখলে বাজার

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

ভেজাল গরম মসলার দখলে বাজার

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

ভারত থেকে অবাধে এদেশে ভেজাল গরম মসলা আমদানি হচ্ছে। জিরা, দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জয়ত্রী, সাদা গোলমরিচ, কালো গোলমরিচ ও ধনিয়ায় সবচেয়ে বেশি ভেজাল মেশানো হচ্ছে। গ্রাহকদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে কালো গোলমরিচের সাথে পেঁপে ও তুলার বীজ মিশিয়ে রঙ করে। এমনকি নিম্নমানের কালো গোলমরিচ রঙ করার মাধ্যমেও বাজারে সরবরাহ করছেন দেশীয় আমদানিকারক। পাশাপাশি কালো গোলমরিচও মেশিনের সাহায্যে রঙ করে সাদা গোলমরিচ বানানো হচ্ছে। শুধুমাত্র আমদানিকারকই নয়, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের চাক্তাই, আছাদগঞ্জ এবং রিয়াজউদ্দিন বাজারের একাধিন ব্যবসায়ীর কাছে প্রতিদিনই এমন নিম্নমানের গরম মসলা কেনার প্রস্তাব আসছে। ফলে কোনো কোনো ব্যবসায়ী বেশি লাভের আশায় নিম্নমানের ওসব ভেজাল গরম মসলা দেশে আমদানি করছে। তাদের মধ্যে চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের একাধিক শীর্ষ মসলা ব্যবসায়ীও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, লবঙ্গ গাছ থেকে সংগ্রহ করা ডাঁটা বা ফুলের একটি অংশ কেজিপ্রতি ১৪০-১৬০ দরে আমদানি করে তা লবঙ্গে মেশানো হচ্ছে। আর দারচিনির সাথে মেশানো হচ্ছে সমগোত্রীয় বিভিন্ন বনজ গাছের বাকল। নিম্নমানের জয়ত্রীতে রঙ মিশিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ভালো মানের জয়ত্রী হিসেবে। মিষ্টি জিরাকে ক্রাশিংয়ের মাধ্যমে কয়েক ভাগে বিভক্ত করে মিশিয়ে দেয়া হচ্ছে ভালো মানের জিরার সাথে। বিভিন্ন হাত ঘুরে ওসব মসলা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের বিভিন্ন বাজারে। যা ভোক্তার স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে। তবে নিম্নমান ও ভেজাল মসলা আমদানিকারকরা তা মানতে নারাজ। তাদের মতে- চাহিদার সময়ে ধনিয়ার মধ্যে আগাছা মেশানোর কথা শোনা যায়। তবে দেশের বাজারে চাহিদা বাড়লে রফতানিকারকরা ভারত কিংবা বিভিন্ন দেশ থেকে নিম্নমানের মসলা পাঠায়।

সূত্র জানায়, দেশে ব্যবহৃত ২৭ ধরনের মসলার মধ্যে বাংলাদেশে চাষ হয় ১৭টির। প্রধান মসলা পেঁয়াজ, রসুন, আদা, হলুদ, মরিচ ও ধনিয়া ছাড়া বাকিগুলোও দেশে সীমিত পরিসরে চাষাবাদ হচ্ছে। বছরে ৪ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় ১৪ দশমিক শূন্য ৬ লাখ টন প্রধান মসলা উৎপাদিত হলেও তা দেশীয় চাহিদার মাত্র অর্ধেক। ফলে প্রতিবছরই ৬১৭ কোটি টাকার প্রধান মসলা আমদানি করা হয়। তাছাড়া শতভাগ আমদানি নির্ভর দারচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, জিরা ও গোলমরিচ আমদানিতে বছরে ব্যয় হয় প্রায় ১১৫ কোটি টাকা। বর্তমানে দেশের বাজারে কেজিপ্রতি জয়ত্রী বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৭০ থেকে ১ হাজার ২৮০ টাকায়। কেজিপ্রতি ভালো মানের সাদা গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২৮০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায়। কালো গোলমরিচ বিক্রি হচ্ছে ৮৮০ টাকায়। বিশ্ববাজার থেকে নিম্নমানের গোলমরিচ আমদানি করে একই আকৃতির বীজে প্রলেপ দিয়ে তৈরি হচ্ছে কালো ও সাদা গোলমরিচ। সেগুলো ভালো মানের মসলার চেয়ে ১০০-২০০ টাকা কম দামে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে প্রতি কেজি ভারতীয় জিরা ২৫০-২৮০ টাকা ও সিরীয় জিরা ৩২০-৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মূলত রঙ ব্যবহারের মাধ্যমে মিষ্টি জিরাকে সিরিয়া, ভারতীয় কিংবা আফগানিস্তান থেকে আমদানিকৃত জিরা বলে চালিয়ে দিচ্ছে অনেক ব্যবসায়ী।

এদিকে দেশে ভেজাল ও নিম্নমানের গরম মসলা আমদানির বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ গরম মসলা ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাফেজ মোহাম্মদ এনায়েত উল্লাহ। তিনি বিষয়টিকে খুবই উদ্বেগজনক হিসাবে চিহ্নিত করে করে বলেন- এতো দিন চোরাই পথে ভারতীয় মসলা আসতো। বর্তমানে নিম্নমানের মসলার সাথে বিভিন্ন কৃষিজ পণ্য মিশিয়ে বিক্রি হচ্ছে। চোরাই মসলার কারণে এতো দিন বৈধ পথের আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। এখন নিম্নমানের মসলার কারণে অনেক আমদানিকারক দেউলিয়া হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারের উচিত মসলার বাজারের ওসব অনিয়ম প্রতিরোধে উদ্যোগী হওয়া।

অন্যদিকে এ বিষয়ে বাংলাদেশ মসলা গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ভেজাল মসলায় বিভিন্ন ধরনের উপাদান মেশানো হলে জনস্বাস্থ্যে তার মারাত্মক প্রভাব পড়ে। মসলায় রঙের পাশাপাশি স্বাদ আনতে কেমিক্যালও ব্যবহার করা হয়। আমদানিকৃত গরম মসলার সাথে বীজ কিংবা আগাছার বীজ প্রাকৃতিকভাবে পাওয়া যেতো। বর্তমানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওসব পদার্থ মেশানো হচ্ছে।

সোনালীনিউজ/এমটিআই

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ১১ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩