শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

ভোলায় কাঁকড়া রফতানি হচ্ছে ১৮টি দেশে

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৩ পিএম

ভোলায় কাঁকড়া রফতানি হচ্ছে ১৮টি দেশে

ভোলা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৪ উপজেলায় সংগ্রহ ও চাষ করা কাঁকড়ার মধ্যে ভোলা জেলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলা বিখ্যাত। এই দুই উপজেলার প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের আয়ের উৎস কাঁকড়া শিকার করা ও পুকুর বা হ্যাচারিতে কাঁকড়া চাষ করা। সে কারণেই চরফ্যাশন ও মনপুরার উপকূলের ৪০ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানজুড়ে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে ‘কাঁকড়া মহল’। আর ওই কাঁকড়া ঢাকা হয়ে রফতানি হচ্ছে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের ১৮ দেশে।

কেবল তাই নয়, ভোলার অন্য উপজেলারগুলোর উপকূলে নদী, খাল ও পুকুরে হ্যাচারি তৈরি করে আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করছেন অনেকে। কম খবর ও কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় অনেকেই এ ব্যবসায় ঝুঁকে পড়ছেন। এভাবেই কাঁকড়া চাষে সফলতার আলো এসে পড়েছে অনেকের পরিবারে।

এই সফলতার কারণে কাঁকড়া চাষের ওপর সরকারিভাবে উন্নত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতার সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে সরকার। যা স্বাগতম জানিয়েছে উপকূলের কাঁকড়া চাষীরা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার চরকুকরী-মুকরী, চরপাতিলাসহ কয়েকটি চর ও মনপুরা উপজেলার মনপুরা বিভিন্ন স্থান ও ঢালচরসহ বেশ কয়েকটি চরের প্রায় ৩০ হাজার পরিবারের আয়ের উৎস কাঁকড়া চাষ ও শিকার করা। তারা বিভিন্ন পুকুরে খাল বা নদীর সাথে পাইপ সংযোগ দিয়ে হ্যাচারি তৈরি করে আধুনিক পদ্ধতিতে কাঁকড়া চাষ করছেন।

মনপুরা উপজেলার ঢালচর এলাকার কাঁকড়া চাষী রফিক মিয়া বললেন, ‘আমি অনেক আগে কাঁকড়া শিকারীদের থেকে কাঁকড়া কিনে একটি হ্যাচারি তৈরি করে সেখানে কাঁকড়া চাষ করতাম। এরপর তিনটি হ্যাচারি তৈরি করি। এখন আমি কাঁকড়া পাইকারি বিক্রি করে অনেক স্বাবলম্বী। আমার হ্যাচারির কাঁকড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা কিনতে আসে।’

একই উপজেলার হাজির হাট এলাকার কাঁকড়া ব্যবসায়ী সাত্তার আলীর অভিমত, ‘আমি বছরে বার মাস কাঁকড়া শিকার করি। কাঁকড়া শিকারে আমি আমার ভাগ্য পরির্বতন করেছি। প্রতিদিনই আমি বিভিন্ন নদী ও খাল থেকে কাঁকড়া শিকার করে পাইকারি আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করি। এতে আমার প্রতিদিন আয় ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা।’

চরফ্যাশন উপজেলার কচ্ছপিয়া এলাকার কাঁকড়া চাষী এ বিষয়ে আব্দুল শহীদ বললেন, ‘আমি আগে কাঁকড়া শিকার করতাম। দুই বছর আগে আমি কাঁকড়া চাষের ওপর প্রশিক্ষণ নিই। এ ছাড়াও উপজেলার মৎস্য কর্মকর্তারাও আমাকে সহযোগিতা করেন। তাদের সকলের সহযোগিতায় আমি কাঁকড়া চাষ করে আজ স্বাবলম্বী হয়েছে। এখন আমি কাঁকড়া ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করি।’

এ বিষয়ে ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রীতিষ কুমার মল্লিক বললেন, ‘কাঁকড়া চাষের উপর মনপুরা ও চরফ্যাশন প্রকল্প হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত কাঁকড়া চাষের প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ প্রকল্পে চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও আর্থিকভাবে সহযোগিতা করা হবে। আশার কথা, এ অঞ্চলের কাঁকড়া এখন বিভিন্ন দেশে রফতানি হচ্ছে।’

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩