রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

মাটির নিচে যাচ্ছে ডেসকো!

জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০১ পিএম

মাটির নিচে যাচ্ছে ডেসকো!

রাস্তার পাশে বৈদ্যুতিক খুঁটি। সেই খুঁটিতে এলােমেলো তারের জটলা। রাজধানীর প্রধান প্রধান সড়কসহ এলাকার অলিগলিতে বিস্তৃত বৈদ্যুতিক তারের জটলা বেশি দেখা মেলে পুরান ঢাকার শাখারিবাজার, তাঁতীবাজার, লালবাগ, ইসলামপুর, বাংলাবাজার, ধানমণ্ডি, লালমাটিয়া, উত্তরা, বনশ্রী, মালিবাগ, মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায়। শুধু গ্রীষ্মকালেই নয়, বর্ষায় এ খুঁটির তার ছিঁড়ে পানিতে পড়ে ঘটছে প্রাণহানি।

রাজধানীতে এপ্রিল-জুন মাসে এয়ারকন্ডিশনার (এসি) বিক্রি হয় বেশি। কিন্তু এই এসি স্থাপনের ফলে বাড়ে তারের জটলা। তারের সেই জটলা ছোটো বক্স বানিয়ে স্তূপ বানিয়ে রাখা হচ্ছে রাস্তার পাশের বৈদ্যুতিক খুঁটিতে। আর সামান্য ভোল্টেজ ওঠানামায় প্রায়শই বাসা-বাড়িতে টেলিভিশন-ফ্রিজের মতো ইলেকট্রনিক পণ্য নষ্ট হচ্ছে। কখনও কখনও শর্টসার্কিটে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে আগুন লেগে ঘটছে দুর্ঘটনা।

এই দুর্ঘটনা রোধে নেই সরকারি ব্যবস্থাপনা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ডেসা কিংবা ডেসকো’র বা ভূমিকা কী? ঢাকায় সরকারি উদ্যোগে বেশ কয়েকবার তারের এই জঞ্জাল সরানো হয়েছিল। কিন্তু এখনও রাস্তার ওপর ঝুলছে তারের সেই জঞ্জাল। এই স্তূপ এমনভাবে মাথার ওপর ঝুলছে যে, পথচারী হাটার সময় মাথায় ঠেকছে। তবে অনেক পরে হলেও বোধ খুলেছে সরকারের।

শিগগিরই স্মার্ট সিটির আদলে ঢাকা ইলেকক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেডের (ডেসকো) আওতাধীন ঢাকা ও গাজীপুরের ৮৫ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচে নামিয়ে আনা হচ্ছে। এ জন্য চীনের নবনির্মিত এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের (এআইআইবি) সহায়তায় নতুন প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। এতে বদলে যাবে ডেসকো এলাকার বিদ্যুৎ খুঁটি আর লাইনের বর্তমান চিত্র।

মঙ্গলবার (২৪ মে) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় দুটি আলাদা প্রকল্প অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হয়। এই সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, ডেসকো এলাকায় বিদ্যমান ৩৩ কেভি ওভারহেড লাইনকে আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলে রূপান্তর, ক্ষমতা বর্ধন ও স্থাপন শীর্ষক প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৬৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা। এর মধ্যে এআইআইবি ঋণ হিসাবে দেবে ৩৫৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। বাকি টাকা সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) ও ডেসকো বরাদ্দ দেবে।

ঢাকা ও গাজীপুরের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সরবরাহ লাইনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে বিতরণ ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি ও অন্যান্য সমস্যা কমিয়ে আনতেই এই উদ্যোগ। বিশ্বের উন্নত দেশের শহরাঞ্চলে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ লাইন টানা হয়। চীনের সহযোগিতায় ধীরে ধীরে সে ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য এটিকে প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে সরকার। 

প্রকল্পের অধীনে নতুন ৩৩টি আন্ডারগ্রাউন্ড কেবল স্থাপন ও লোড ক্ষমতা বৃদ্ধি, আন্ডারগ্রাউন্ড কেবলস ও বিতরণ সাব স্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং অন্যন্যা সমস্যা দূর হবে। এই অর্থ দিয়ে আলোচ্য এলাকায় স্বল্পক্ষমতা সম্পন্ন ও অকার্যকর ৫০/৭০ এমভিএ ও এআইএস সিস্টেম প্রতিস্থাপন করা হবে। এছাড়া বিদ্যমান গ্রিডের ক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর মাধ্যমে ৭০ হাজার নতুন গ্রাহককে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া যাবে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/জেডআরসি/আমা

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩