সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় ফ্ল্যাট বিক্রিতে গ্রাহক স

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৮ পিএম

মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় ফ্ল্যাট বিক্রিতে গ্রাহক স

সোনালীনিউজ রিপোর্ট

সাধারণ গ্রাহক রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের ফ্ল্যাট কেনায় আগ্রহী হচ্ছে না। মূলত প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও উচ্চ মূল্যের কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি রাজউকের ফ্ল্যাটের কেনার ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকের অনীহার কারণ খতিয়ে দেখতে তাগিদ দিয়েছে।

পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ে ফ্ল্যাটের নির্মাণকাজ সম্পন্ন ও ফ্ল্যাটের দাম কমানোর সুপারিশও করেছে কমিটি। একই সাথে রাজউকের ফ্ল্যাট কিনতে ক্রেতাদের আগ্রহী করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বলেছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকের কার্যবিবরণী  এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের যাত্রার এক বছরের মধ্যেই নিন্ম ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর আবাসন সঙ্কট নিরসনের লক্ষ্যে রাজউক অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্প হাতে নেয়। তারই অংশ হিসেবে রাজউক উত্তরা (তৃতীয় পর্ব) প্রকল্পের ১৮ নম্বর সেক্টরে ২২৩টি ১৬তলা ভবন (বেজমেন্টসহ) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়।

২০১১ সালের ৪ অক্টোবর ওই প্রকল্পের বিস্তারিত পরিকল্পনা (ডিপিপি) অনুমোদন দেয়া হয়। আর প্রকল্পের প্রাক্কলিত মূল্য ধরা হয় ৯ হাজার ৩০ কোটি ৭১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। তিন ক্যাটাগরিতে (এ, বি ও সি) ১৮ হাজার ৭৩২টি ফ্ল্যাট নির্মিত হবে। ‘এ’ ক্যাটাগরির ৭৯টি ভবনে ৬ হাজার ৬৩৬টি ফ্ল্যাট, ‘বি’ ক্যাটাগরিতে ৭২টি ভবনে ৬ হাজার ৪৮টি এবং ‘সি’ ক্যাটাগরিতে ৭২টি ভবনে ৬ হাজার ৪৮টি ফ্ল্যাট তৈরির পরিকল্পনা হয়। 

কিন্তু ‘এ’ ক্যাটাগরির প্রায় আড়াই হাজার ফ্ল্যাট এখনো অবিক্রীত অবস্থায় রয়েছে। দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও ওসব ফ্ল্যাট কেনায় মানুষকে আগ্রহী করতে পারেনি রাজউক। ২০১৫ সালের মধ্যে ‘এ’ টাইপের অ্যাপার্টমেন্ট নির্মাণকাজ শেষ করার কথা থাকলেও তা কবে শেষ হবে রাজউক নিজেই তা জানে না।

আর ‘বি’ এবং ‘সি’ টাইপের ফ্ল্যাট নির্মাণের লক্ষ্যে জি-টু-জি পদ্ধতিতে মালয়েশিয়া সরকারের সাথে ২০১১ সালের ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশ সরকার একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে। যদিও মালয়েশিয়ার মাধ্যমে ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে কিনা তা নিয়েও সংশয় রয়েছে। এ নিয়ে সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

সূত্র জানায়, রাজউকের উত্তরার অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পে টাইপ-এ ক্যাটাগরিতে ফ্ল্যাট বরাদ্দের জন্য প্রথম দফায় ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একাধিকবার রাজউক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাতে প্রাথমিক আবেদনের সময়সীমা ছিল ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। কিন্তু ওই সময় ফ্ল্যাটের চেয়ে কম আবেদন জমা পড়ে। পরে ওই বছরের মার্চে কিছু শর্ত সংশোধন করে রাজউক দ্বিতীয় দফায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আবেদনের সময়সীমা ছিল ওই বছরের ৩০ জুলাই পর্যন্ত।

তাতে নির্ধারিত সময়ে ৬ হাজার ১১৬টি আবেদন জমা পড়ে। যাচাই-বাছাই করে রাজউক ১২তম বোর্ড সভায় ৬ হাজার ৬৮ জনকে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। সে প্রেক্ষিতে ওই বছরের ডিসেম্বরে রাজউকের ওয়েবসাইট ও জাতীয় দৈনিকে নির্বাচিতদের তালিকা প্রকাশ করা হয়।

পরবর্তী সময়ে ফ্ল্যাট বরাদ্দপ্রাপ্তদের অনেকেই টাকা উঠিয়ে নেন। সব মিলিয়ে রাজউকের এখন অবিক্রীত ফ্ল্যাটের সংখ্যা প্রায় আড়াই হাজার। তারপর গতবছরের ডিসেম্বরে রাজউক ফের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। তাতে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত আবেদন করার সুযোগ ছিল। কিন্তু আশানুরূপ সাড়া না পাওয়য় তবে সময় আরো বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে। সেক্ষেে ত্র রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধ করা যাবে ১২ বছরে। আর প্রথম চার বছরে পরিশোধ করতে হবে৫০ ভাগ টাকা। বাকি ৫০ ভাগ পরিশোধ করতে হবে পরবর্তী ৮ বছরে।

সূত্র আরো জানায়, রাজউকের প্রথম দফার বিজ্ঞপ্তিতে প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম নির্ধারণ করা হয় ৩ হাজার ৫শ’ টাকা। দ্বিতীয় দফার বিজ্ঞপ্তিতেও একই দাম রাখা হয়। তবে তৃতীয় দফার বিজ্ঞপ্তিতে (চলমান) ১ হাজার ৩শ’ টাকা বাড়িয়ে প্রতি বর্গফুট ৪ হাজার ৮শ’ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি ফ্ল্যাট কিনতে সাধারণ মানুষের আগ্রহ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনে দাম কমানোর সুপারিশ করেছে।

সংসদীয় কমিটির মতে, যখন দাম কম ছিল তখনই অনেকে ফ্ল্যাট কেনায় আগ্রহী হয়নি। আর দাম বাড়ানোয় মানুষ কতোটা আগ্রহী হবে তা খতিয়ে দেখতে হবে। কমিটি প্রতি বর্গফুট ফ্ল্যাটের দাম কিছুটা কমানো যায় কিনা তা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং রাজউককে ভেবে দেখার সুপারিশ করে। তবে তার সঙ্গে একমত নয় রাজউক। তারা বলছে, বাজারদরের চেয়ে অনেক কম দামেই রাজউক ফ্ল্যাট বিক্রি করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে রাজউকের ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আগ্রহ না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূঁইয়া জানান, উত্তরা অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের টাইপ-এ-এর প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় গ্রাহক সঙ্কটে পড়েছে রাজউক। প্রকল্পের নির্মাণকাজ দেয়া হয়েছিল এনা প্রপার্টিজসহ চারটি প্রতিষ্ঠানকে। কিন্তু প্রথম এক বছরে সে ক্ষেত্রে কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে তাদের চুক্তি বাতিল করা হয়। ওই ঘটনা জনগণের আস্থা নষ্ট করেছে। তবে এখন রাজউকের তত্ত্বাবধানে দেশের খ্যাতিমান প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে নির্মাণকাজ করানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১২টি ভবনের কাজ প্রায় শেষ। রাজউকের অ্যাপার্টমেন্ট প্রকল্পের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফেরাতে  রোড শোসহ বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মসূচি নেয়া হবে।

অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দবিরুল ইসলাম বলেন, রাজউকের প্লটের বিষয়ে সাধারণ মানুষের যে আগ্রহ, ফ্ল্যাট কেনার বেলায় তা দেখা যাচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, রাজউক প্রকল্পের আশপাশে বিভিন্ন ডেভেলপার কোম্পানির ফ্ল্যাট প্রতি বর্গফুট ৮ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেসরকারি কোম্পানির চাইতে রাজউকের ফ্ল্যাটের প্রকল্পের লোকেশন অনেক ভালো। খোলামেলা জায়গা রয়েছে। গুণগত মান অনুযায়ী দাম বেশি ধরা হয়নি।

তাই দাম কমানোরও কোনো চিন্তা নেই। তবে প্রকল্প সম্পর্কে ক্রেতাদের আগ্রহ বাড়াতে প্রচারণামূলক কার্যক্রম বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে প্রকল্প এলাকায় একটি রোড শো করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সেটি যথাযথভাবে করতে পারলে রাজউকের ফ্ল্যাট কিনতে গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়বে। আর প্রকল্প নিয়ে রাজউকের দুশ্চিন্তাও কেটে যাবে।

সোনালীনিউজ/আমা

add-sm
Sonali Tissue
সোমবার, ০৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩