বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

মার্চের শেষের দিকে ইউপি নির্বাচন

আপডেট: ১৫ জুন ২০১৬, বুধবার ১২:০৯ পিএম

মার্চের শেষের দিকে ইউপি নির্বাচন

বিশেষ প্রতিনিধি

মার্চের শেষের দিকে দেশের ৭৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদে (ইউপি) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষ দিকে তফসিল এবং মার্চের ২২ থেকে ২৪ তারিখের মধ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। নির্বাচন কমিশন ‍সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দেশে স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে বড় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন এবার দলীয়ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হবে। সরকার ইতোমধ্যে আইন সংশোধন করে সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের প্রধান পদটি দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচনের বিধান করেছে। এ বিধান অনুসারেই সম্প্রতি দেশের ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচন দলীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আইনি বাধ্যবাধকতায় মার্চের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য কমিশন সব প্রস্তুতি শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা ও আচরণ বিধিমালা চূড়ান্ত করে তা ভেটিংয়ের জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কমিশন আশা করছে, এ সপ্তাহের মধ্যে তারা দুটো বিধিমালাই গেজেট আকারে প্রকাশ করে ইউপি নির্বাচনের পথে এগিয়ে যাবে। অবশ্য কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার আগে এই বিধিমালা দুইটি তাদের হাতে এলেও কোনও সমস্যা হবে না। তবে, পৌরসভা নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা এবার আগেভাগেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন।

সূত্র জানায়, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সরকারের পক্ষ থেকে ইউপি নির্বাচন মে পর্যন্ত পিছিয়ে দেয়ার ব্যাপারে কমিশনের ওপর একটি চাপ ছিল। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাবও কমিশনকে দেয়া হয়েছিল। তবে, মার্চের পরে নির্বাচন করতে গেলে আইনের সংশোধনের প্রয়োজন হবে বলে কমিশন তাতে সম্মতি দেয়নি। সর্বশেষ তথ্য মতে, সরকারের হাইকমান্ডও মার্চে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনাপত্তির কথা জানিয়েছে। হাইকমান্ডের সবুজ সংকেত পেয়েই মূলত কমিশন তাদের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

আইন অনুযায়ী কোনও পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। গত ২০১১ সালের ২৯ মার্চ দেশের ৫৩৮টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইন অনুযায়ী এসব ইউপিতে ২৮ মার্চের আগে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। জানা গেছে, কমিশন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের আগেই এ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ করতে চায়। এই হিসেবে ফেব্রুয়ারির ১৩ থেকে ১৫ তারিখের মধ্যে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনাই বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে আরও ২০০টির মতো ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। এসব ইউপিতে এ বছর এপ্রিলে নির্বাচন করতে হবে। কিন্তু এপ্রিল মাসে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে মার্চেই এসব নির্বাচন শেষ করতে চায় কমিশন। সব মিলিয়ে মার্চের শেষে প্রথম ধাপে কমিশন ৭৭৪টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন করতে চায়। তবে, মামলা বা অন্যান্য আইনি জটিলতায় এই সংখ্যা কিছু কম বা বেশি হতে পারে।

 

এর আগে গত বছর অক্টোবরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা, শপথ ও পরিষদের প্রথম সভার তারিখসহ প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠিয়েছিল কমিশনে। এ তালিকা থেকে নির্বাচন করতে ৪ হাজার ৫৪৪টি ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা পাঠানো হয়। এই ৪ হাজার ৫৪৪টি ইউপির মধ্যে কয়েক ধাপে নির্বাচনের জন্য ইসির পক্ষ থেকে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।

বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে। সর্বশেষ ২০১১ সালে হুদা কমিশন ৪ হাজার ৫০১টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করে।

এ প্রসঙ্গে ইসি সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘কমিশন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। ইতোমধ্যে বিধিমালা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং পেলে আমরা গেজেট করে অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শুরু করব।’ মার্চের মধ্যে বেশ কিছু ইউনিয়নের নির্বাচন অনুষ্ঠানে আইনি বাধ্যকতা রয়েছে বলেও জানান ইসি সচিব।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনি বাধ্যবাধকতার কারণে আমাদের মার্চের মধ্যে কয়েকশ’ ইউনিয়নে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আইনি বিষয়টি মাথায় রেখে কমিশন সে অনুযায়ী এগুচ্ছে।’

নির্বাচন পেছানোর সুযোগ সীমিত জানিয়ে কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচন পেছাতে হলে আইন পরিবর্তন করতে হবে। আমার মনে হয় না সরকার এখন সেটা করতে যাবে।’

 

সোনালীনিউজ/এমএইউ

add-sm
Sonali Tissue
বুধবার, ০৭ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৩ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩