রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন গাইবন্ধার বীরাঙ্গনা ফ

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৩:৫৬ পিএম

মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেলেন গাইবন্ধার বীরাঙ্গনা ফ

সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি

রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির জন্য গাইবান্ধার বীরাঙ্গনা রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাসের ৪৫ বছরের লড়াই শেষ হলো। সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালীদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে স্বাধীন দেশে মাথা উঁচু করে বাঁচার অধিকার চেয়েছিলেন ফুলমতি (৭৩)। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে নির্যাতিত এ বীরাঙ্গনা।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৩৩তম সভায় গত ১৪ মার্চ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজকুমারী রবিদাসসহ আরও ২৬ জন বীরাঙ্গনাকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়েছে সরকার।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলা সদরের উত্তরপাড়া গ্রামের মৃত কুশিরাম রবি দাসের স্ত্রী। বর্তমানে সাদুল্যাপুর উপজেলা শহরের ভূমি অফিসের সামনে রাস্তার ধারে সরকারি খাস জমিতে বসবাস করছেন। পাঁচ ছেলে-ছেলের বউ ও নাতি-নাতনীকে নিয়ে কোনো রকমে খেয়ে-না খেয়ে দিনাতিপাত করছেন। তবে বড় ছেলে অসুস্থ জনিত কারণে ২৭ বছরেই মারা যান। আর একমাত্র মেয়ে তার স্বামীর বাড়িতে রয়েছে। ৪৪ বছর ধরে তিনি মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন। বয়সের ভারে অনেকটা নুয়ে পড়েছেন। ছোট-খাটো রোগের কারণে শেষ বয়সে  আগের মত হাঁটাচলা করতে পারেন না।

জীবনের শেষ বেলায় এসে রাষ্ট্রীয় মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়ে রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি বেশ আনন্দিত। স্বীকৃতি মেলায় তার পরিবারের লোকজনও খুব খুশি। ফুলমতির পরিবারের লোকজনের মধ্যে এখন আনন্দ বিরাজ করছে।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতি বলেন, ‘আমি আর কয়দিন বাঁচবো। তারপরেও জীবনের শেষ সময়ে এসে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছি। এখন মরেও শান্তি পাব। কিছুটা হলেও কলঙ্ক দূর হলো।’ এজন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

ফুলমতি আরও বলেন, ‘আমার ছোট দুই ছেলে মনিরাজ ও সুজনের কোনো কাজ নেই। মনিরাজ চলতি ডিগ্রি ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছে।’ জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি সেই ছেলের জন্য একটি সরকারি চাকরির প্রত্যাশা করছেন।

রাজকুমারী রবিদাস ফুলমতির ছেলে মনিরাজ তার মায়ের স্বীকৃতির জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘর, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের কমান্ডার, ডেপুটি কমান্ডারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। এছাড়া স্থানীয়, জাতীয় পত্র-পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলে তার মাকে নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রচার হয়। এ জন্য তিনি সাংবাদিকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

মনিরাজ বলেন, ‘বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে মাকে নিয়ে অর্ধহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন-যাপন করি। এরমধ্যে কপালে একবার জুটেছিল দুই বান্ডিল ঢেউটিন, নগদ ১০ হাজার টাকা, আর কয়েকবার সম্মাননা পুরস্কার। পাশপাশি এক্সপ্রেশন লিমিটেড থেকে তার মাকে সম্মাননা ও ৫০ হাজার টাকা দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে আমাদের সংসারে অভাব-অনাটন চলছে। মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে সামান্য জায়গা থাকলেও তাতে কোনো ঘর-বাড়ি নেই। তবে নিজের একটা চাকরির জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানাই।’  

প্রসঙ্গত, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এক রাতে স্থানীয় এক বিহারির সঙ্গে হঠাৎ করে পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগিরা রাজকুমারী ফুলমতি রবিদাসের বাড়িতে ঢুকে পড়ে। তাকে ঘর থেকে টেনে-হেঁচড়ে বের করে বাইরে এনে সম্ভ্রমহানি ঘটানো হয়। এরপর কয়েক দফায় হানাদাররা তাকে লাঞ্ছিত করে।

সোনালীনিউজ/ঢাকা/আকন

add-sm
Sonali Tissue
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২০ অগ্রাহায়ণ ১৪২৩