সোমবার, ১৫ অক্টোবর, ২০১৮, ৩০ আশ্বিন ১৪২৫

মেলায় বসন্তের হাওয়া

দ্বীন ইসলাম আরিয়ান | সোনালীনিউজ ডটকম
আপডেট: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার ১১:৫৭ এএম

মেলায় বসন্তের হাওয়া

ঢাকা : বাতাসে শীতের সে তীব্রতা নেই। নেই কুয়াশার ধূসর আচ্ছাদন। স্নিগ্ধ কোমল পরশ জানান দিচ্ছে- আজ বসন্ত। গাছে গাছে সবুজ কিশলয়। ডালে ডালে মঞ্জরিত নতুন ফুলদল। শিমুল, পলাশ, কৃষ্ণচূড়ার বর্ণিল আভা রাঙিয়ে দিচ্ছে বিরহ ক্লান্ত মন। দূরের দিগন্ত থেকে ভেসে আসছে কোকিলের কুহুকুহু কলতান। মৌ-মৌ গন্ধ ছড়িয়ে ডালে ডালে অঙ্কুরিত আম্র্রমুকুল। রঙিন ডানায় ফুলের পরাগ মেখে হাওয়ায় হাওয়ায় দোল দিচ্ছে বর্ণিল প্রজাপতি। প্রতিটি ঋতুর শেষে প্রকৃতি তার পুরনো অবয়ব থেকে এভাবেই বাঁক নেয় নতুন আবাহনে। ষড়ঋতুর লীলা চাতুর্য ভরা এটিই বাংলার চিরন্তন রূপ। এই রূপ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষও বদলে যায়। বদলে যায় তাদের জীবন। ফিরে পায় নতুন চঞ্চলতা।

এসেছে মধুর বসন্ত। আজ ১ ফাল্গুন। বাঙালির উৎসবে মেতে ওঠার দিন। সব জরাজীর্ণ মুছে ফেলে পাখিরা আজ গাইবে নতুন দিনের গান। পলাশ-শিমুলের ডালে ফুটবে রক্তরাঙা ফুল। ঋতুরাজকে বরণ করে নিতে ঘর ছেড়ে বাইরে আসবে হাজারও নবীন-প্রবীণ প্রাণ।

এমন দিনে বাসন্তী রঙে সাজবে অমর একুশে গ্রন্থমেলাও। আর বসন্তকে সঙ্গী করেই আগামীকালও মেলায় থাকবে ভালোবাসার আবহ। কারণ দিনটি ভালোবাসার, মানে ভ্যালেন্টাইনস ডে। প্রিয় মানুষকে সঙ্গী করে এদিনও মেলা হয়ে উঠবে রঙিন।

ঝিরিঝিরি বাতাসে শুকনো পাতা ঝরা শুরু হয়েছে প্রকৃতিতে। বসন্তের এ আগমনী বার্তা লেগেছে অমর একুশে গ্রন্থমেলায়ও। আজ পহেলা ফাল্গুন। বসন্তের শুরু। প্রতি বছর এ দিনটি থেকেই সত্যিকার অর্থে মেলা জমে ওঠে। বাসন্তী রঙে সেজে তরুণ-তরুণীসহ অসংখ্য পাঠক-দর্শনার্থী এ দিন মেলায় আসে।

বসন্ত উৎসবের দিনটিতে পাঠক-দর্শকের মাথায় রেখে প্রস্তুতি সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দেখা গেছে প্রকাশকদের মধ্যে। পাঠক-দর্শনার্থীতে ঠাসা দিনটিতে মেলায় যত বেশি সম্ভব নতুন বই আনবেন তারা। উপচে পড়া ভিড়ে বই বিক্রির পরিমাণটা অনেক বেশি হবে বলে প্রত্যাশা করছেন লেখক-প্রকাশকরা।

প্রিয়মুখ প্রকাশনীর আহমেদ ফারুক জানালেন, পহেলা ফাল্গুন উপলক্ষে তার স্টলে নতুন পাঁচটা বই আসছে। তিনি বলেন, যেহেতু মেলায় কাল (আজ) লোক সমাগম বেশি থাকবে, আমি চাই সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন বই মেলাতে থাকুক। তাই চেষ্টা করব বেশি বই আনতে।

একই কথা বললেন সময় প্রকাশনের ফরিদ আহমেদ। গতকাল তিনি বলেন, আমাদের বেশিরভাগ বই মেলায় চলে এসেছে। বাকি যে দু-চারটা আছে, তা আগামীকালের (আজ) মধ্যে চলে আসবে। মেলা কাল থেকে জমে উঠবে। সুতরাং সবগুলো নতুন বই মেলায় হাজির করার চেষ্টা করব।

গতকাল মেলায় লোকসমাগম ছিল কিছুটা কম। তবে বেচাকেনা আগের দিনের তুলনায় কমেনি। এখন যারা মেলায় আসছেন, তাদের বেশিরভাগই বই কিনতে আসছেন। এ প্রসঙ্গে সাহস পাবলিকেশন্সের নাজমুল হুদা রতন বলেন, এখন শুধু ঘোরাঘুরি করতে লোকজন আসবে না। বই কিনতেই মানুষ আসছে। এ কারণেই মেলায় লোকজন একটু কম দেখা গেলেও বেচাকেনা কমেনি।

নতুন বই : গতকাল দ্বাদশ দিনে গ্রন্থমেলায় নতুন বই এসেছে ১২৬টি। বাংলা একাডেমির দেওয়া তথ্যমতে, এর মধ্যে কবিতা ৩৩, উপন্যাস ২১, গল্প ১৮ ও অন্যান্য বিষয়ক গ্রন্থ ৫৪টি।

এ বইয়ের মধ্যে উলে­খযোগ্য হলো- মুনতাসীর মামুনের ইতিহাসভিত্তিক গ্রন্থ ‘আÍবিস্মৃতিতে পূর্ববঙ্গ-প্রথম খণ্ড’ (বাংলা একাডেমি), মনজুরুল হকের প্রবন্ধ ‘পূর্ব বাংলার সাত দশকের কমিউনিস্ট রাজনীতি’ (ঐতিহ্য), পলাশ মাহবুবের শিশুতোষ গ্রন্থ ‘নীলুর আকাশ’ (পাঞ্জেরি পাবলিকেশন্স), রকিব হাসানের কিশোর গোয়েন্দা ‘কিশোর মূসা রবিন মহাবিপদে শুঁটকি টেরি’ (অনন্যা), অনিমেষ আইচের উপন্যাস ‘শহরের বারে একদল মাতাল’ (তাম্রলিপি), ইকবাল খন্দকারের উপন্যাস ‘একাত্তরের বদ্ধঘর’ (দেশ পাবলিকেশন্স), নিজামুল হক বিপুলের ‘কুয়াকাটা থেকে মার আকাশ’ (বেহুলা বাংলা) ও এবনে গোলাম সামাদের প্রবন্ধ ‘আমাদের রাজনৈতিক চিন্তা-চেতনা ও আরাকান সংকট’ (পরিলেখ প্রকাশনী)।

আজকের অনুষ্ঠান : আজ ত্রয়োদশ দিন বিকাল ৪টায় গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘নারীর নিরাপদ পরিসর ও পরিবেশ’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন খুশী কবির। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন সুলতানা কামাল, হোসনে আরা শাহেদ, সুভাষ সিংহ রায় এবং নূরুন্নাহার মুক্তা। সভাপতিত্ব করবেন আয়েশা খানম। সন্ধ্যায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

সোনালীনিউজ/এমটিআিই