শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩

মোহাম্মদ আলি : মৃত্যুঞ্জয়ী কীর্তিমান

আপডেট: ১৬ জুন ২০১৬, বৃহস্পতিবার ০৪:০৫ পিএম

মোহাম্মদ আলি : মৃত্যুঞ্জয়ী কীর্তিমান

কিংবদন্তি মুষ্টিযোদ্ধা (বক্সার) মুহাম্মাদ আলি ক্লে আর নেই। গত শুক্রবার (৩ জুন) ৭৪ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা রাজ্যের ফিনিক্সের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। জন্মস্থান কেনটাকির লুয়াভিলে আলির শেষকৃত্যানুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে।

শ্বাস-প্রশ্বাস সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আলি। পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতেই বিদায় নেন তিনি। কেবল একজন পেশাদার খেলোয়াড়ই নন, তিনি ছিলেন সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ ও যুদ্ধবাজির বিরুদ্ধে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর। মানবতার পক্ষে নিবেদিতপ্রাণ মানুষ। মার্কিন নাগরিক হয়েও খোদ মার্কিন যুদ্ধবাজির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। সৃষ্টি করেছিলেন এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

১৯৪২ সালের ১৭ জানুয়ারি কেনটাকির লুয়াভিলে ক্যাসিয়াস মার্সেলাস ক্লে নামে জন্ম নেওয়া আলি বিখ্যাত হয়ে উঠেন ১৯৬০ সালে রোম অলিম্পিকে লাইট-হেভিওয়েটে সোনা জিতে। ‘দ্য গ্রেটেস্ট’ ডাকনাম পাওয়া আলি ১৯৬৪ সালে সানি লিস্টনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব খেতাব জেতেন। পরে তিনি প্রথম বক্সার হিসেবে তিনবার বিশ্ব হেভিওয়েট শিরোপা জেতেন। ১৯৮১ সালে পেশাদার বক্সিং থেকে অবসর নেয়ার আগে ৬১টি পেশাদার লড়াইয়ের মধ্যে ৫৬টিতে জেতেন আলি। এর মধ্যে ৩৭টি লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে নকআউট করেছেন তিনি। নিজে একবারও নকআউট হননি।

রোম অলিম্পিকের পর আলি পেশাদার জগতে পা রাখেন। ১৯৬৪ থেকে ১৯৬৭, ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৮ ও ১৯৭৮ থেকে ১৯৮০ সালের শুরু পর্যন্ত তিনি বিশ্ব হেভিওয়েট চ্যাম্পিয়ন ছিলেন। লিস্টনের সঙ্গে প্রথম লড়াইয়ের আগে থেকেই তখনও ক্যাসিয়াস ক্লে নামেই পরিচিত আলি নেশন অব ইসলাম নামে একটি সংস্থার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন, যাদের উদ্দেশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রে আফ্রিকান আমেরিকানদের সামাজিক-অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন। পরে তিনি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং নিজের  নাম বদলে হয়ে যান মুহাম্মাদ আলি।
‘দ্য গ্রেটেস্ট’ ডাকনাম পাওয়া আলি ১৯৬৪ সালে সানি লিস্টনকে হারিয়ে প্রথম বিশ্ব খেতাব জেতেন। পরে তিনি প্রথম বক্সার হিসেবে তিনবার বিশ্ব হেভিওয়েট শিরোপা জেতেন। ১৯৭৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে লাসভেগাসে ১২ বছরের ছোটো লিয়ন স্পিংক্সের কাছে পয়েন্টে হেরে খেতাব হারান আলি।

কয়েক বছর ধরে তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হতে শুরু করে। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে ফুসফুসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন আলি। ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে মূত্রঘটিত সংক্রমণের জন্য হাসপাতালে যান। গত এপ্রিলে মুহাম্মাদ আলি পারকিনসন সেন্টারের সহায়তার জন্য অ্যারিজোনায় আয়োজন করা ‘সেলেব্রিটি ফাইট নাইট-এ সবশেষ জনসমক্ষে এসেছিলেন। হঠাৎ করে বিশ্বখ্যাত এই মহাতারকা হারিয়ে গেল জীবন বাস্তবতার পরাকাষ্ঠা থেকে। তবে তিনি হারিয়ে যাননি লক্ষ কোটি ভক্তদের হৃদয় থেকে। এক মুহুর্তের জন্যেও তাকে ভোলা যায় না, শুধু বিশ্বখ্যাত বক্সার হিসেবে নয়, একজন মানবিক মানুষ হিসেবে। তার কীর্তি মানুষ মনে গেঁেথ রাখবে শতাব্দী পেরিয়ে সহ¯্রাব্দি কাল পর্যন্ত। এ জন্যই হয়ত কবি বলেছিলেন, ‘কীর্তিমানের মৃত্যু নেই’।

সোনালীনিউজ/ঢাকা

add-sm
Sonali Tissue
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর, ২০১৬, ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩